নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশকে গভীর অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে— এমন অভিযোগ উঠেছে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ ঘিরে। ঢাকার রিপোর্টার্স ইউনিটিতে অনুষ্ঠিত মুক্তিযুদ্ধ ও সংবিধান বিষয়ক আলোচনায় সন্ত্রাসী হামলার পর বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের কণ্ঠরোধ এবং জঙ্গি শক্তিকে প্রশ্রয় দেওয়ার এ চিত্র সমালোচকদের মতে জাতির আত্মমর্যাদার ওপর সরাসরি আঘাত।
আলোচনায় সন্ত্রাসী হামলা
বৃহস্পতিবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছিল “আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং বাংলাদেশের সংবিধান” শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক। এতে উপস্থিত ছিলেন দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, আইনজীবী ও মুক্তিযোদ্ধারা। কিন্তু হঠাৎই বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত কর্মীরা লাঠিসোটা হাতে সভাস্থলে হামলা চালায়। তারা হাতাহাতি ও ভাঙচুর করে সভা ভেঙে দেয়।
মুক্তিযুদ্ধ ও সংবিধানের মূল্যবোধের আলোচনা যেখানে হওয়ার কথা, সেখানে সন্ত্রাসের ভয়ঙ্কর প্রদর্শনী দেশজুড়ে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
পুলিশ সন্ত্রাসী নয়, মুক্তিযোদ্ধাকে আটক
ঘটনার পর হামলাকারীদের পরিবর্তে পুলিশ গ্রেপ্তার করে মুক্তিযোদ্ধা আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে। শুধু একজন মানুষকে নয়, গোটা জাতির আত্মমর্যাদাকেই লাঞ্ছিত করা হলো বলে প্রতিক্রিয়া এসেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
ইতিহাস সাক্ষী—১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনারা মুক্তিকামী জনতাকে দমন করতে পারেনি। আজও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বন্দি করা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
অবৈধ সরকারের আসল রূপ উন্মোচিত
ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর অভিযোগ উঠেছে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের কণ্ঠস্বর দমন, আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে মুছে ফেলা এবং পাকিস্তানি ভাবধারা ও মৌলবাদী শক্তিকে পুনর্বাসন দেওয়ার।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংঘটিত সহিংসতা সেই এজেন্ডার নগ্ন প্রকাশ বলে দাবি রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।
গণতন্ত্রের পরিহাস
গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি করলেও বাস্তবে সরকারের ভূমিকা এর বিপরীত বলেই মনে করছেন সমালোচকরা। তারা বলছেন— মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনীতিবিদ ও বুদ্ধিজীবীদের হয়রানি, সন্ত্রাসীদের প্রশ্রয়, এবং সংবিধান বিষয়ক সভা ভেঙে দেওয়া— এসবই গণতন্ত্রের নামে কণ্ঠরোধের উদাহরণ।
নতুন ট্যাগ: “জুলাই যোদ্ধা”
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে অনুষ্ঠিত ওই গোলটেবিল বৈঠক ভেঙে দেওয়ার সময় হামলাকারীরা নিজেদের পরিচয় দেয় “জুলাই যোদ্ধা” হিসেবে। তারা ঘোষণা দেয়, “পতিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে, তাই এমন আলোচনা চলতে পারে না।”
এ হামলার শিকার হন সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান (কার্জন) ও সাংবাদিক মনজুরুল আলম পান্নাসহ অনেকে।
ডিবি পুলিশ তাদের “উদ্ধার” করার দাবি করলেও বাস্তবে মিন্টো রোডে বেলা সোয়া ১২টা থেকে আটক রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রশ্ন উঠেছে—যদি নিরাপত্তার খাতিরে সরিয়ে নেওয়া হয়ে থাকে, তবে এখনো কেন মুক্তি দেওয়া হয়নি?
মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে দমন করা যাবে না
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইতিহাস প্রমাণ করে দমন-পীড়ন দিয়ে মুক্তিকামী চেতনাকে দমিয়ে রাখা যায় না। একাত্তরের মতো আজও সত্য ও স্বাধীনতার পক্ষে দাঁড়ানো মানুষদের কণ্ঠরোধ করে শেষপর্যন্ত কোনো সরকারই টিকে থাকতে পারবে না।
মন্তব্য করুন