
নিজস্ব প্রতিবেদক
কুমিল্লায় চাঞ্চল্যকর ও নিন্দনীয় এক ঘটনায় অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ইমরান হোসেনকে মিথ্যা ‘ছাত্রলীগ কর্মী’ পরিচয়ে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এতে বার্ষিক পরীক্ষার শুরু থেকেই সে পরীক্ষার সুযোগ হারিয়েছে। ইমরান নাঙ্গলকোট উপজেলার ঢালুয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থী।
গত সোমবার গভীর রাতে চিওড়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে রাত ৩টার দিকে পুলিশ তাকে তুলে নিয়ে যায়, যা পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। পরদিন আদালত তাকে কারাগারে পাঠান, ফলে ২০ নভেম্বর শুরু হওয়া তার বার্ষিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কোনো সুযোগ থাকেনি।
পুলিশের দাবি, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলার ৬ নম্বর আসামি ইমরান। এজাহারে তাকে ছাত্রলীগ কর্মী হিসেবে বর্ণনা করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের প্রতিবাদে মনতলী ব্রিজ এলাকায় মশাল মিছিল ও সরকারবিরোধী স্লোগানে সে অংশ নিয়েছিল।
কিন্তু ইমরানের পরিবার পুরো বিষয়টিকে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা বলে দাবি করছে। ইমরানের বাবা ইসহাক মিয়া জানান, “আমাদের পরিবার কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত নয়। কোনো প্রমাণ ছাড়াই আমার অষ্টম শ্রেণির ছেলেকে ফাঁসানো হয়েছে। পরীক্ষার প্রবেশপত্র নিয়ে থানায় গিয়েও কিছুই করতে পারিনি।”
স্কুলের প্রধান শিক্ষক বেলাল হোসেন মজুমদারও পরিবারকে সমর্থন করে বলেন, ইমরান একজন নিয়মিত ও ভদ্র শিক্ষার্থী—তার রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কোনো তথ্য স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে নেই।
এদিকে থানার ওসি এ কে ফজলুল হক স্বীকার করেন যে ইমরানের ছাত্রলীগে সম্পৃক্ততার কোনো ছবি বা ভিডিও তাদের কাছে নেই। শুধু আগের রাতে গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচজনের তথ্যে তার নাম এসেছে বলে দাবি করেন তিনি।
মানবাধিকারকর্মী ও স্থানীয়রা বলছেন, একজন অষ্টম শ্রেণির ছাত্রকে এমন গুরুতর মামলায় জড়ানো এবং পরীক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা অমানবিক ও নিন্দনীয়। তারা মনে করছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নিরীহ শিক্ষার্থীকে হয়রানি করা হয়েছে।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খান জানান, শেখ হাসিনার মামলার রায়কে কেন্দ্র করে এলাকায় কিছু ঘটনা ঘটেছে, এবং অভিযোগের ভিত্তিতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তিনি বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত না হলে তার নামে চার্জশিট দেওয়া হবে না।
এ ঘটনায় স্থানীয় ও সাধারণ শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের প্রশ্ন “একজন অষ্টম শ্রেণির ছাত্রকে কি সত্যিই রাজনৈতিক মামলায় ফাঁসানো হলো?” “পরীক্ষার মতো মৌলিক অধিকার থেকেও কি তাকে বঞ্চিত করা হলো?”
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বিষয়টিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও নিন্দাযোগ্য হিসেবে দেখছে।