
নিজস্ব প্রতিবেদক
অতিরিক্ত সচিব পদে সাম্প্রতিক পদোন্নতি ঘিরে ওঠা অভিযোগ প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও নৈতিকতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে পদোন্নতিকে ঘিরে আর্থিক লেনদেন, যেখানে জনপ্রতি প্রায় ২ কোটি টাকার বিনিময়ে অতিরিক্ত সচিব পদে উন্নীত করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, অন্তত ৫০ জন যুগ্ম সচিবের কাছ থেকে প্রায় ১০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ায় অভিজ্ঞ ও নীতিবান কর্মকর্তাদের জন্য পাঠানো উপদেষ্টার দপ্তরের ডিও লেটারও কার্যত গুরুত্ব পায়নি। অর্থাৎ জ্যেষ্ঠতা, কর্মদক্ষতা বা প্রাতিষ্ঠানিক সুপারিশের চেয়ে নগদ অর্থই প্রধান বিবেচ্য হয়ে উঠেছে এমন অভিযোগ উঠেছে। ফলে যারা অর্থ দিতে পারেননি, তারা তালিকার বাইরে পড়েছেন বলে বলা হচ্ছে।
আরও বলা হচ্ছে, বিগত সরকারের আমলে জেলা প্রশাসক (ডিসি) বা মন্ত্রিপরিষদের ব্যক্তিগত সচিব (পিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালনকারীদের নীতিগতভাবে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত থাকলেও তা পুরোপুরি অনুসরণ করা হয়নি। উচ্চমূল্যের বিনিময়ে অনেককে পদোন্নতির নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে এমন দাবিও সামনে এসেছে।
এই তালিকায় সবচেয়ে আলোচিত নাম হিসেবে উঠে এসেছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমের ভাই ড. আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর নাম। তিনি বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সূত্রের দাবি, তাকেও অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতির তালিকায় রাখা হয়েছে, যা স্বজনপ্রীতির অভিযোগকে আরও উসকে দিয়েছে।
এছাড়া, সংগৃহীত অর্থের একটি অংশ আসন্ন নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক তহবিলে ব্যবহারের সম্ভাবনার কথাও আলোচনায় এসেছে। এনসিপির কয়েকজন নেতা, বিএনপির কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আলী রিয়াজের নামও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে যদিও এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত না হলে প্রশাসনের ওপর জনগণের আস্থা আরও দুর্বল হবে। পদোন্নতির ক্ষেত্রে স্বচ্ছ, নীতিনির্ভর ও জবাবদিহিমূলক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি।