
নিজস্ব প্রতিবেদক
স্বাস্থ্য প্রশাসনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে প্রশ্নের মুখে ডাঃ আবু আল হাজ্জাজ
নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ আবু আল হাজ্জাজকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, স্বাস্থ্য সচিবকে প্রভাবিত বা ‘ম্যানেজ’ করার উদ্দেশ্যে তিনি জেলে আটক থাকা স্বাস্থ্যের বিতর্কিত ঠিকাদার মিঠুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
কে এই ঠিকাদার মিঠু
স্বাস্থ্য বিভাগ–সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, ঠিকাদার মিঠু দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের একজন কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য প্রকল্পে তার প্রভাব এবং বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে আগেও প্রশ্ন উঠেছে। বর্তমানে তিনি কারাগারে আটক থাকলেও প্রশাসনিক যোগাযোগ ও প্রভাব খাটানোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে—এমন অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগের কেন্দ্রে ডাঃ হাজ্জাজ
সূত্রমতে, ডাঃ আবু আল হাজ্জাজ ব্যক্তিগতভাবে ঠিকাদার মিঠুর ঘনিষ্ঠ। অভিযোগ উঠেছে, সেই ঘনিষ্ঠতার সূত্র ধরেই তিনি কারাগারে গিয়ে মিঠুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। অনুসন্ধানী সূত্রগুলো বলছে, এই সাক্ষাতের উদ্দেশ্য ছিল স্বাস্থ্য সচিব সাঈদুর রহমানের উপর প্রভাব বিস্তার এবং নিজের প্রশাসনিক অবস্থান সুরক্ষিত রাখা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো সরকারি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক পদে থাকা কর্মকর্তার
জেলে আটক বিতর্কিত ঠিকাদারের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং তা যদি প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তারের সন্দেহের জন্ম দেয়। তবে সেটি স্পষ্টভাবে স্বার্থের সংঘাত (Conflict of Interest) এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের আওতায় পড়তে পারে।
এই বিষয়ে ডাঃ আবু আল হাজ্জাজের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে স্বাস্থ্য বিভাগ বা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
তাদের দাবি— সাক্ষাতের সত্যতা সাক্ষাতের উদ্দেশ্য এবং এর পেছনে কোনো প্রশাসনিক চাপ বা সুবিধা লেনদেন ছিল কি না এসব বিষয়ে অবিলম্বে তদন্ত হওয়া জরুরি। স্বাস্থ্যসেবার মতো স্পর্শকাতর খাতে ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতা, প্রভাব বিস্তার ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ সব মিলিয়ে বিষয়টি আর গুজব নয়।