
নিজস্ব প্রতিবেদক
নির্বাচনের তারিখ যত ঘনিয়ে আসছে, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ততই ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে। বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির মধ্যে অঘোষিত সংহতি এখন আর গোপন নেই। শেরপুরে এক জামায়াত নেতার নিহত হওয়ার ঘটনার পর সেই সমন্বয় দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে, যা নির্বাচনী মাঠকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের আগেই সেনাবাহিনীর পেট্রোল টিমের প্রায় অর্ধেক প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সময়ে রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক চাপের মুখে বিচার বিভাগ তাদের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে—এমন আলোচনা চলছে সংশ্লিষ্ট মহলে। অপরদিকে মাঠপর্যায়ে পুলিশের ভূমিকা অনেকটাই নিষ্ক্রিয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নিরাপত্তা শূন্যতা আগামী দিনগুলোতে বড় ধরনের সহিংসতার ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকার যদি সংস্কার বাস্তবায়নের অজুহাতে নির্বাচনের পরও ক্ষমতা হস্তান্তর বিলম্বিত করে, সে ক্ষেত্রে সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরে গেলে সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আওয়ামী লীগের কৌশল নিয়ে জোর আলোচনা
এই প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের নতুন রাজনৈতিক কৌশল নিয়েও আলোচনা তীব্র হচ্ছে। দলটির ভেতরে ভোট বর্জনের আহ্বান নতুন আঙ্গিকে আসতে পারে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন চলছে। লক্ষ্য একটাই—ভোটার উপস্থিতি কমানো এবং নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতার মাধ্যমে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে আন্তর্জাতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করা।
বিশ্লেষকদের ধারণা, নির্বাচন বিতর্কিত হলে চলতি বছরের মধ্যেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচনের দাবিতে মাঠে নামার নীরব প্রস্তুতি নিচ্ছে আওয়ামী লীগ।
বিএনপি-জামায়াত সমীকরণে ফাটল
এদিকে সেনাবাহিনীর ভেতরে চরম অস্থিরতার খবরও আলোচনায় রয়েছে। অন্যদিকে বিএনপির অভ্যন্তরে বাড়ছে হতাশা। নির্বাচনী মাঠে দলটির আত্মবিশ্বাসে বড় ধাক্কা দিয়েছে জামায়াতের অবস্থান।
সম্প্রতি ফাঁস হওয়া একাধিক অডিও ক্লিপে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে জামায়াতের প্রতি সমর্থনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। বিষয়টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এরই মধ্যে জামায়াত সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে জামায়াতের শীর্ষ মহল। বিশ্লেষকরা এটিকে বিএনপির জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখছেন।
নির্বাচনী মাঠে অনিশ্চয়তার ছাপ
এর প্রভাব পড়েছে মাঠের রাজনীতিতেও। একাধিক হেভিওয়েট বিএনপি প্রার্থী হঠাৎ করেই প্রচারণায় অর্থ ব্যয় কমিয়ে দিয়েছেন। কেউ কেউ প্রকাশ্যেই বলছেন, পরিস্থিতি কোন দিকে যায় তা দেখতে ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন।
সব মিলিয়ে নির্বাচন ঘিরে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। সহিংসতা, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, আন্তর্জাতিক চাপ ও প্রশাসনিক দুর্বলতার এই বাস্তবতায় ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন আদৌ হবে কি না—সে প্রশ্নের উত্তর এখনো নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না অভিজ্ঞ মহল।
রাজনীতির মাঠে এখন একটাই শব্দ ঘুরছে—নির্বাচন নয়, দেশ দাঁড়িয়ে আছে এক অজানা বিস্ফোরণের মুখে।