
ডেস্ক রিপোর্ট
জামায়াতে ইসলামির (Jamaat-e-Islami) সর্বোচ্চ নেতৃত্বে কোনো নারীর আসার সুযোগ নেই—এমন মন্তব্য করে নতুন করে বিতর্কে জড়ালেন দলটির আমির শফিকুর রহমান। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আল্লাহ নারীদের ওইভাবে সৃষ্টি করেননি”, তাই দলের শীর্ষপদে নারীদের নেতৃত্ব দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
সাক্ষাৎকারে জামায়াতের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব কাঠামো নিয়ে প্রশ্নের জবাবে শফিকুর রহমান দাবি করেন, নারীদের সম্মান ও মর্যাদা ইসলামেই সর্বোচ্চ দেওয়া হয়েছে, তবে নেতৃত্বের বিষয়টি “সৃষ্টিগত ও প্রাকৃতিক সীমারেখার” সঙ্গে সম্পর্কিত। তাঁর এই বক্তব্যে নারীর সক্ষমতা ও সমঅধিকারের প্রশ্নে কট্টর অবস্থান আবারও প্রকাশ্যে আসে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত আমিরের এই মন্তব্য একদিকে যেমন নারীবিদ্বেষী মানসিকতার প্রতিফলন, অন্যদিকে তেমনি বাংলাদেশের সংবিধান ও আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন নারী নেতৃত্ব থাকলেও জামায়াত এখনো সেই বাস্তবতাকে অস্বীকার করে চলছে।
মানবাধিকারকর্মী ও নারী অধিকার সংগঠনগুলো এই বক্তব্যকে তীব্রভাবে নিন্দা জানিয়ে বলেছে, ধর্মের নামে নারীদের নেতৃত্ব থেকে দূরে রাখার এই প্রবণতা সমাজকে আরও পিছিয়ে দেবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শফিকুর রহমানের মন্তব্য ঘিরে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
উল্লেখ্য, জামায়াতে ইসলামি অতীতেও নারীর রাজনৈতিক ভূমিকা ও নেতৃত্ব নিয়ে রক্ষণশীল অবস্থান নিয়ে সমালোচিত হয়েছে। শীর্ষ নেতৃত্বে নারীদের অযোগ্য ঘোষণা করে দেওয়া সাম্প্রতিক এই মন্তব্য দলটির আদর্শিক অবস্থানকে আরও একবার স্পষ্ট করে তুলেছে।