
নিজস্ব প্রতিবেদক
কোটালীপাড়া উপজেলা—প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনী এলাকা এখানকার রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে একটি অস্বস্তিকর বাস্তবতা ঘুরে ফিরে সামনে আসে। কিছু নির্দিষ্ট পরিবার ও গোষ্ঠী, যাদের স্থানীয়ভাবে রাজাকার বংশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, স্বাধীনতার পর থেকে কখনোই আদর্শভিত্তিক রাজনীতির পথে হাঁটেনি। তাদের রাজনৈতিক পরিচয় বারবার বদলেছে, কিন্তু চরিত্র বদলায়নি। নীতি একটাই—ক্ষমতার কাছেই আনুগত্য।
জিয়াউর রহমানের আমলে তারা বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ছিল। জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় এলে সেই দলে যোগ দেয়। জাতীয় পার্টির পতনের পর আবার বিএনপিতে প্রত্যাবর্তন। এরপর দীর্ঘ আওয়ামী লীগ শাসনামলে এই একই গোষ্ঠী কৌশলে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ করে। শুধু সাধারণ কর্মী নয় তারা ছাত্রলীগ, যুবলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদ দখল করে, কেউ পৌর চেয়ারম্যান, কেউ উপজেলা চেয়ারম্যান পর্যন্ত হয়। ক্ষমতার ছায়ায় দাঁড়িয়ে অতীতের দাগ মুছে ফেলার চেষ্টা চলে নির্লজ্জভাবে।
এই দলবদলকারী নেতাদের একটি বড় অংশ স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য কাজী আকরাম সাহেবের অনুসারী হিসেবেই পরিচিত। প্রশ্ন হলো এদের উত্থান কি কাকতালীয়, নাকি সুযোগসন্ধানী রাজনীতিকে প্রশ্রয় দেওয়ার ফল?
আজ রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলাচ্ছে। আওয়ামী লীগের দুঃসময় শুরু হতেই সেই চেনা দৃশ্য আবার ফিরে এসেছে। এই তথাকথিত নেতারা দল ছেড়ে পুনরায় বিএনপিতে যাচ্ছেন। এতে বিস্ময়ের কিছু নেই। কারণ তারা কোনো দিনই দল করেনি, করেছে ক্ষমতার ব্যবসা। তাদের রাজনীতি আদর্শের নয়, সুবিধার।
এই প্রবণতা ত্যাগী ও পরীক্ষিত কর্মীদের প্রতি চরম অবমাননা। যারা নির্যাতন সহ্য করেছে, রাজপথে থেকেছে, তারা আজও অবহেলিত আর সুবিধাবাদীরা বারবার রং বদলে নেতৃত্ব কুক্ষিগত করেছে।
তবু একটি সত্য আজ স্পষ্ট। দুঃসময়ে যারা দল ছাড়ছে, তারা নিজেরাই প্রমাণ করছে তারা হাইব্রিড, আদর্শহীন ও অবিশ্বস্ত। সে অর্থে বর্তমান সময়ে আওয়ামী লীগ এক ধরনের “হাইব্রিড মুক্ত” পর্ব অতিক্রম করছে।