
ডেস্ক রিপোর্ট
বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নে হিন্দু অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে সেনাবাহিনীর রাত্রিকালীন অভিযান নিয়ে ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে। ৩১ জানুয়ারি রাত ১টার দিকে সেনাবাহিনীর একটি দল ‘তল্লাশি অভিযান’ চালিয়ে বাড়িঘরে ঢুকে ভাঙচুর, লুটপাট এবং নারীদের মারধর ও অসম্মানজনক আচরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন দাবি করছেন, কোনও নির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই এই অভিযান চালানো হয়েছে, যা তাদের মধ্যে ভয় ও নিরাপত্তাহীনতা ছড়িয়ে দিয়েছে।সোশ্যাল মিডিয়া ও স্থানীয় সূত্রে ছড়িয়ে পড়া খবর অনুযায়ী, সেনাবাহিনীর এই দলটি ধনপুর ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর, কাটোরসহ কয়েকটি গ্রামে ঢুকে বাড়িঘরে হানা দেয়। বাসিন্দারা বলছেন, দরজা ভেঙে ঢুকে আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়েছে, টাকা-পয়সা ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করা হয়েছে।
বিশেষ করে নারী সদস্যদের মারধর ও অসম্মান করার অভিযোগ উঠেছে। একাধিক পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা কোনও অপরাধের সঙ্গে যুক্ত নন, তবু এমন আচরণের শিকার হয়েছেন। এই অভিযানকে অনেকে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস’ বলে অভিহিত করেছেন।এই ঘটনার নেতৃত্বে থাকা অফিসারের নাম ওয়াকার (Waqar) বলে উল্লেখ করা হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
কিছু পোস্টে বলা হয়েছে, “এই সেনাবাহিনী আর দেশ রক্ষার জন্য নয়, নিজের নাগরিকদের উপর অত্যাচার চালাচ্ছে।” গত বছর চট্টগ্রামে হিন্দু এলাকায় অনুরূপ অভিযানের অভিযোগ উঠেছিল, যা এখনও আলোচিত।
স্থানীয়রা বলছেন, এই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটছে এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।যদিও সেনাবাহিনী বা সরকারি সূত্র থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য আসেনি, তবে স্থানীয় বিএনপি নেতা ফজলুর রহমানের মতো ব্যক্তিরা অভিযোগ করেছেন যে, এই অভিযানগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং নির্বাচনের আগে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে ভয় দেখানোর অংশ। কিশোরগঞ্জ-৪ আসন (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা চলছে, এবং হিন্দু ভোটারদের উপর চাপ সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে।
কয়েকদিন আগে একই এলাকায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে মদ রাখার অভিযোগে, যা স্থানীয়রা ‘হয়রানি’ বলে দাবি করছেন।এই ঘটনা বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের একটা বড় প্রেক্ষাপটে ঘটেছে। গত কয়েক মাসে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলা, হত্যা, অগ্নিসংযোগের ঘটনা বেড়েছে।
রাইটস অ্যান্ড রিস্কস অ্যানালিসিস গ্রুপ (RRAG)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে জানুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে অন্তত ১৬টি হিন্দু বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে এবং ১৭ জন হিন্দু নিহত হয়েছেন। ভারত সরকারও এই ঘটনাগুলো নজরে রেখেছে এবং বাংলাদেশকে তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।