
ডেস্ক রিপোর্ট
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। সংঘাত ও সহিংসতা এখন নির্বাচনী মাঠের নিয়মিত চিত্র। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) জানিয়েছে, জানুয়ারি মাসে রাজনৈতিক সহিংসতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের সম্ভাবনাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আসক জানায়, জানুয়ারি মাসে সারাদেশে ৭৫টি রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১১ জন নিহত এবং ৬১৬ জন আহত হয়েছেন। এর আগের মাস ডিসেম্বরের তুলনায় এই সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি। ডিসেম্বর মাসে ১৮টি ঘটনায় ৪ জন নিহত ও ২৬৮ জন আহত হলেও মাত্র এক মাসের ব্যবধানে সহিংসতার মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।
আসকের বিশ্লেষণে দেখা যায়, নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর পর পরিস্থিতি আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। জানুয়ারির প্রথম ১০ দিনে ৮টি ঘটনায় ৫ জন নিহত হলেও মাসের শেষ ১০ দিনে (২১–৩১ জানুয়ারি) ৪৯টি সংঘর্ষে ৪১৪ জন আহত এবং ৪ জন নিহত হন। ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাও ততই প্রাণঘাতী সংঘাতে রূপ নিচ্ছে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
আসক বলছে, এই সহিংসতা শুধু রাজনৈতিক অস্থিরতাই নয়, বরং নাগরিকদের জীবন ও নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি। সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে নিশ্চিত করা জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার কার্যত ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
প্রতিবেদনে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হয়রানির বিষয়েও গভীর উদ্বেগ জানানো হয়েছে। ডিসেম্বর মাসে ১১ জন সাংবাদিক হামলা বা বাধার শিকার হলেও জানুয়ারিতে এই সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। আসকের মতে, গণমাধ্যমকে ভয়ভীতি দেখানো নির্বাচনী স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে, সহিংসতা ও আতঙ্কের পরিবেশে কোনো গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়। রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রণের অভাব পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে সামনে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।