
ডেস্ক রিপোর্ট
দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা বর্তমানে মূলত নির্ভর করছে শেখ হাসিনা সরকারের শেষ মেয়াদে গড়ে তোলা খাদ্য মজুদ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপর। ক্ষমতার পালাবদল হলেও বড় কোনো কাঠামোগত পরিবর্তন এখনও চোখে পড়ে না।
সরকারের পুরনো মজুদের উপর নির্ভরতা
খাদ্য বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, আগের সরকারের সময়ে দেশে ২০-২২ লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুদ রাখার কৌশল গড়ে তোলা হয়। চাল ও গমের পাশাপাশি জরুরি অবস্থার জন্য বাফার স্টক রাখা হয়। লক্ষ্য ছিল স্বাভাবিক চাহিদার বাইরে ১৮-২৪ মাসের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
কার্যক্রম ও প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন
সরকারি খাদ্য ক্রয় বাড়ানো, আধুনিক সাইলো ও গুদাম নির্মাণ এবং কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়। খাদ্য ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল মনিটরিং ও আধুনিক সংরক্ষণ প্রযুক্তি চালু হওয়ায় অপচয় কমেছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা এসেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বৈশ্বিক সংকটেও কার্যকারিতা
কোভিড-১৯ মহামারি ও রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের সময় এই মজুদের কার্যকারিতা স্পষ্ট হয়। বৈশ্বিক বাজারে খাদ্যের দাম বাড়লেও বাংলাদেশ বড় ধরনের সংকট এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়। তদুপরি, ওএমএস, টিসিবি, ভিজিএফ ও ভিজিডি-সহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সচল রাখতে এই মজুদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন প্রকল্পের অভাব
তবে, অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত আঠারো মাসে নতুন বড় খাদ্য মজুদ প্রকল্প বা সাইলো সম্প্রসারণের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। বরং বাজার স্থিতিশীল রাখতে যেসব কর্মসূচি চলছে, তার বড় অংশই আগের সরকারের তৈরি মজুদের ওপর নির্ভর।
বিশ্লেষকদের মতামত
খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন মজুদ জোরদার বা অবকাঠামো সম্প্রসারণের সুযোগ ছিল। বড় ধরনের খাদ্য সংকট না হওয়া ইঙ্গিত দেয়, আগের সরকারের দূরদর্শী পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি কার্যকর ছিল।
বিশ্লেষকরা বলছেন, খাদ্য গুদাম ও সাইলো নীরব সাক্ষী—আজকের খাদ্য নিরাপত্তা এখনও আগের সরকারের তৈরি কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে আছে।