
নিজস্ব প্রতিবেদন | সিলেট
সিলেটের এমসি কলেজে ছাত্রশিবিরের অতর্কিত হামলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক সক্রিয় কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫) গভীর রাতে কলেজের ছাত্রাবাসে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত অবস্থায় তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত শিক্ষার্থীর নাম মিজানুর রহমান রিয়াদ। তিনি এমসি কলেজের ইংরেজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং ছাত্রাবাসের প্রথম ব্লকের ১০১ নম্বর কক্ষের বৈধ আবাসিক শিক্ষার্থী।
আহত রিয়াদের রুমমেট, বাংলা বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী জুনেদ আহমদ জানান, রাতের খাবার শেষে তারা ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় দরজায় প্রচণ্ড আঘাতের শব্দ শোনা যায়। দরজা খুলতেই এমসি কলেজ ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জওহর লুকমান মুন্নার নেতৃত্বে ১০–১২ জন রুমে ঢুকে পড়ে। তারা রিয়াদকে লাথি মেরে বিছানা থেকে নিচে ফেলে দেয়।
তিনি জানান, হামলাকারীরা রিয়াদকে জিজ্ঞেস করে— ‘কুয়েটের ঘটনায় শিবিরকে নিয়ে কী লিখেছিস?’ কোনো উত্তর শোনার আগেই তাকে চড়-থাপ্পড় ও লাথি-ঘুষি মারতে থাকে। একপর্যায়ে পাশের কক্ষ থেকে রড এনে নাজমুল ও সালমান নামের দুইজন রুমে প্রবেশ করে এবং বেধড়ক মারধর শুরু করে।
জুনেদ আরও জানান, তিনি বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধর করে রুমের বাইরে বের করে দেওয়া হয়। এরপর দরজা বন্ধ করে রড দিয়ে রিয়াদকে মারতে থাকে হামলাকারীরা। এ সময় শিবিরকর্মী আদনান বলে, ‘তুই পরে যে অপবাদ দিবি, আগেই সেটা করে নেই’—এই বলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার পায়ের রগ কাটার চেষ্টা করে।
জুনেদের চিৎকারে ছাত্রাবাসের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা জড়ো হলে হামলাকারীরা রক্তাক্ত অবস্থায় রিয়াদকে টেনে রুমের বাইরে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় তারা রিয়াদ ও জুনেদের মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ কেড়ে নেয় এবং ১০১ নম্বর কক্ষে তালা লাগিয়ে দেয়। পুলিশে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রিয়াদের মাথা, পিঠ ও ডান পায়ে একাধিক স্থানে গুরুতর আঘাত রয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন।
উল্লেখ্য, মিজানুর রহমান রিয়াদ জুলাই বিপ্লবের সক্রিয় কর্মী। কুয়েটে সংঘর্ষের ঘটনায় একটি অনলাইন নিউজের কমেন্টে তিনি লেখেন—“কীসের জন্য এত ত্যাগ করলাম? দিনে পুলিশের টিয়ারশেল আর লাঠিচার্জ, রাতে পালিয়ে থাকা। সন্ত্রাসমুক্ত ক্যাম্পাসের স্বপ্নে এত ছাত্র প্রাণ দিল। এখন যদি গুপ্ত সংগঠনের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে, তাহলে এই ত্যাগের মূল্য কী?”
এই মন্তব্যটি এমসি কলেজ ছাত্রশিবিরের নজরে আসার পরই তাকে প্রাণে মারার উদ্দেশ্যে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সহপাঠীরা।