
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজনীতির মাঠে তিনি ছিলেন পরিচিত মুখ। এলাকায় সবার কাছে “মিনু আপা” নামেই বেশি পরিচিত। কিন্তু বুধবার সকালে খবর এল, সেই হাসিনা পারভীন মিনু আর নেই। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ–এর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের রাজনীতিতে সক্রিয় এই নেত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
ফরিদপুরের ভাঙ্গা মহাসড়কের পাশে পড়ে থাকা অবস্থায় তাকে পাওয়া যায়। স্থানীয়রা প্রথমে বিষয়টি বুঝতে পারেননি। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। ঘটনাটি এখন তদন্তাধীন। এটি হত্যাকাণ্ড, নাকি অন্য কোনো কারণ, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
রাজনীতি, সংগ্রাম আর মানুষের পাশে থাকা
শাহজাহানপুর থানা পর্যায়ে দীর্ঘদিন সংগঠনের কাজ করেছেন মিনু। সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছিলেন। তার ঘনিষ্ঠদের ভাষায়, তিনি ছিলেন দৃঢ়, কিন্তু সহজ মানুষ। এলাকার নারীদের নিয়ে কাজ করতেন, অসুস্থ কারও খবর পেলে খোঁজ নিতেন। দলীয় কর্মসূচির বাইরেও সামাজিক উদ্যোগে তাকে দেখা যেত।
একজন সহকর্মী বলেন, “রাজনীতি তার জন্য শুধু পদ পাওয়ার বিষয় ছিল না। এটা ছিল বিশ্বাসের জায়গা।”
পরিবারের নীরব শোক
রাজনীতির কোলাহলের বাইরে আছে একটি পরিবার। মা, বোন, স্বজনদের কাছে তিনি ছিলেন শুধু একজন আপন মানুষ। হঠাৎ এমন মৃত্যুতে পরিবার বাকরুদ্ধ। তাদের একটাই প্রশ্ন, কীভাবে এমনটা হলো?
মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় শোক নেমে আসে। অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে স্মৃতিচারণ করছেন। কেউ তার সাহসের কথা বলছেন, কেউ বলছেন তার হাসিমুখের কথা।
তদন্তের অপেক্ষা
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনের কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তারা চান, সত্য যা-ই হোক, তা স্পষ্টভাবে সামনে আসুক।
রাজধানীর রাজনীতিতে সাম্প্রতিক সহিংসতার প্রেক্ষাপটে এই মৃত্যু নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। একটি মৃত্যু শুধু একটি সংখ্যা নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে স্বপ্ন, সম্পর্ক, দায়িত্ব আর অসমাপ্ত কিছু পথচলা।
মিনুর মৃত্যু এখন শুধু একটি সংবাদ নয়। এটি একটি প্রশ্নও রেখে গেল—এই লাশের মিছিল কবে থামবে?