প্রিন্ট এর তারিখঃ Feb 21, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Feb 21, 2026 ইং
ভয়ের মাঝে একুশের চেতনা, ২০২৬-এর ফেব্রুয়ারি

২০২৬ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি কেবল স্মরণার্জনের দিন নয় এটি পরীক্ষা, চ্যালেঞ্জ এবং সাহসের দিন। শহীদ মিনার এলাকায় যে এক সময় কাঁপানো উদ্দীপনা, উৎসবমুখর সমাবেশ, মাইকের অমর গান শোনা যেত—আজ সেই সব নেই। শহীদদের রক্তে রাঙানো এই মাটি যেন আজ আতঙ্কের বৃত্তে বন্দী। রাজনৈতিকভাবে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি আর পাকিস্তানি ভাবধারার উগ্রতার ছায়ায় সাধারণ মানুষও যেন উদযাপনের পথেই দ্বিধায়।
১৯৫২ সালের সেই ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ–এর সামনে গুলির শব্দে এক জাতি জেগেছিল। শহীদ হয়েছিলেন আবুল বরকত, আবদুস সালাম, রফিক উদ্দিন আহমেদ, আবদুল জব্বার। তাদের রক্তে লেখা ইতিহাস আজও নিস্প্রাণ হতে পারে না, কারণ ভাষার চেতনাকে কখনো হত্যা করা যায় না।
কিন্তু আজ, ২০২৬–এ, শহীদ মিনারের চারপাশে অদৃশ্য আতঙ্ক।
মানুষ ভয় পাচ্ছে উচ্চস্বরে গান গাইতে, ফুল দিতে, শহীদদের স্মরণ করতে। অলিতে-গলিতে ছোট শহীদ মিনারগুলোও ভুতুড়ে নীরব। একুশের উদযাপন যেন চাপা আতঙ্কের ছায়ায় আটকে গেছে।
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার দাঁড়িয়ে আছে, নীরব কিন্তু দৃঢ়। সে স্তম্ভ আমাদের মনে করিয়ে দেয়—ভয় সাময়িক, সাহস স্থায়ী।
UNESCO–এর স্বীকৃত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদা প্রমাণ করে, একুশ কোনো আতঙ্ক, কোনো দমন বা বাধার কাছে হার মানে না।
আজ ভয় থাকুক বা হোক না, একুশের চেতনা স্তব্ধ হবে না।
একুশ মানে—সাহস, প্রতিবাদ, সত্য উচ্চারণ। আর যতক্ষণ আমরা এই চেতনায় সচেতন থাকব, নিস্তব্ধতার ভেতরেও একুশ আগুনের মতো জ্বলবে, মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে।
এটি শুধু স্মরণ নয় এটি চেতনা, প্রতিরোধ এবং ভবিষ্যতের জন্য বার্তা। একুশের আগুন নিভে যায় না।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ BangladeshInsights.com