প্রিন্ট এর তারিখঃ Feb 23, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Feb 23, 2026 ইং
সেনাবাহিনীতে শীর্ষ পর্যায়ে পুনর্বিন্যাস: নেতৃত্ব কাঠামোয় কৌশলগত বার্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ ও পদোন্নতি চূড়ান্ত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, এই রদবদল কেবল প্রশাসনিক রুটিন পরিবর্তন নয়; বরং সামরিক নেতৃত্ব কাঠামোয় একটি পরিকল্পিত পুনর্বিন্যাস।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাইনুর রহমানকে সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সিজিএস পদটি সেনা সদর দপ্তরের অপারেশন, পরিকল্পনা, গোয়েন্দা সমন্বয় ও প্রশাসনিক কর্মকৌশলের অন্যতম কেন্দ্র। ফলে এ পদে নিয়োগ সেনাবাহিনীর দৈনন্দিন কার্যক্রম থেকে শুরু করে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। আর্টিলারি ডকট্রিন অ্যান্ড ট্রেনিং কমান্ড (আর্টডক)-এ দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তাঁকে নীতিনির্ধারণী ও প্রশিক্ষণ কাঠামো সম্পর্কে গভীর ধারণা দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মেজর জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান। পিএসও পদটি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের সঙ্গে তিন বাহিনীর সমন্বয়ের দায়িত্ব বহন করে। ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি হিসেবে তাঁর অভিজ্ঞতা মাঠ পর্যায়ের নেতৃত্ব ও কৌশলগত ব্যবস্থাপনায় ভূমিকা রেখেছে। ফলে তাঁকে এই পদে আনা সমন্বয়মূলক কাঠামোকে আরও গতিশীল করার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বর্তমান পিএসও লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসানকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে। সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কূটনৈতিক পদে নিয়োগ নতুন নয়, তবে এটি সামরিক কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রে সরকারের অগ্রাধিকারের ইঙ্গিত বহন করে।
রদবদলের অংশ হিসেবে মেজর জেনারেল জে এম ইমদাদুল ইসলামকে ৫৫ পদাতিক ডিভিশন থেকে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টাল সেন্টারে বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে মেজর জেনারেল ফেরদৌস হাসানকে ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি করা হয়েছে। এই ডিভিশনগুলো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় সেখানে নেতৃত্ব পরিবর্তন সামরিক প্রস্তুতি ও কমান্ড কাঠামোয় প্রভাব ফেলতে পারে।
দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে দায়িত্ব পালনকারী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. হাফিজুর রহমানকে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি দিয়ে ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক সামরিক কূটনীতির অভিজ্ঞতা থাকা একজন কর্মকর্তাকে সক্রিয় ডিভিশনে দায়িত্ব দেওয়া ভবিষ্যৎ প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গির ইঙ্গিত দেয়।
এ ছাড়া মেজর জেনারেল মোশিউর রহমানকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নতুন মহাপরিচালক (ডিজিএফআই) হিসেবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কায়সার দায়িত্ব নিচ্ছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
যদিও আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে যে এসব নিয়োগ ইতোমধ্যে চূড়ান্ত এবং কার্যকর হয়েছে।
প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য
সামরিক বাহিনীতে নিয়মিত রদবদল একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও সময়, পদ এবং দায়িত্বের ধরন বিবেচনায় এই পরিবর্তনগুলো তাৎপর্যপূর্ণ। শীর্ষ পর্যায়ে নেতৃত্ব পুনর্বিন্যাস সাধারণত তিনটি বার্তা বহন করে—
১. কৌশলগত অগ্রাধিকার পুনর্নির্ধারণ
২. প্রশাসনিক ও অপারেশনাল দক্ষতা বৃদ্ধি
৩. অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সমন্বয় জোরদার
বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা কূটনীতি এবং অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা—সবকিছুই সমান গুরুত্ব পাচ্ছে। ফলে সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব কাঠামোয় এই পরিবর্তনগুলো ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ BangladeshInsights.com