
জাতীয় সংসদের সদ্য সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী–কে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তবে তার গ্রেপ্তার ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—তিনি প্রকৃতপক্ষে কোথা থেকে আটক হয়েছেন।
ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির ৮/এ রোডের নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় দায়ের হওয়া একটি মামলায় তাকে আটক করা হয়েছে।
তবে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সূত্রে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা ছিল, শিরীন শারমিন চৌধুরী সরকার পতনের পর সেনা হেফাজতেই ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের অনেক নেতার মতো তিনিও প্রকাশ্যে আসেননি।
তৎকালীন পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ বহু নেতা প্রাণভয়ে সেনাবাহিনীর আশ্রয় নেন। সে সময় আইএসপিআর নিশ্চিত করেছিল, অন্তত দুজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি পরিবারসহ সেনা হেফাজতে রয়েছেন। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে নাম প্রকাশ করা হয়নি, বিভিন্ন মহলে ধারণা করা হচ্ছিল, তাদের একজন ছিলেন শিরীন শারমিন চৌধুরী।
পরবর্তীতে তাকে সেনানিবাস থেকে ছেড়ে দেওয়ার গুঞ্জন ছড়ালেও এ বিষয়ে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য আসেনি। এই প্রেক্ষাপটে তাকে ‘নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার’ দেখানো নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এর আগে ২০২৪ সালের আগস্টে রংপুরে দায়ের হওয়া একটি হত্যা মামলায় শিরীন শারমিন চৌধুরীসহ ১৭ জনকে আসামি করা হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় এক স্বর্ণকার গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনায় ওই মামলা করা হয়।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর পরদিন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংসদ ভেঙে দেন। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী সংসদ ভেঙে গেলেও স্পিকারের পদ তাৎক্ষণিকভাবে শূন্য হয় না। তবে সেই সময় পর্যন্ত অপেক্ষা না করে ২৭ দিনের মাথায়, ২ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেন শিরীন শারমিন।
এরপর তার পাসপোর্ট নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়। পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন অধিদপ্তর জানায়, মামলার কারণে তার সাধারণ পাসপোর্টের আবেদন স্থগিত রাখা হয়েছে এবং কূটনৈতিক পাসপোর্ট আগেই বাতিল করা হয়েছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানেও তার অনুপস্থিতি নতুন করে আলোচনায় আসে। সেই শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে সংরক্ষিত নারী আসনের মাধ্যমে সংসদে আসেন শিরীন শারমিন চৌধুরী। পরে তিনি মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হন এবং টানা তিন মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন।