
হাসনাত আবদুল্লাহ এখন পার্লামেন্ট গরম করে বসে আছে। অথচ যে ক্যাম্পাসের গাড়িচালক তাকে চা খাইয়েছে, সেই চালকের ৮০০ টাকা আজও বাকি। টাকাটা বড় নয়, কিন্তু প্রশ্নটা বড়। চায়ের দেনা শোধ না করা মানুষটা জাতির সম্পদের দেনা শোধ করবে কবে?
সম্প্রতি ভুক্তভোগী গাড়িচালক জানিয়েছেন, "ওর কাছে ৮০০ টাকা পাই। গাড়িতে এসে বসতো, বলতো মামা চা খাওয়ান। খাওয়াইতাম। এখনো টাকাটা দেয় নাই।" এই একই ভিডিওতে তিনি আরেকটা তথ্য দিয়েছেন, ৫ আগস্ট গণভবন থেকে বস্তা বস্তা মালামাল লুটের কথা। তিনি বলেছেন, সেই লুটেরাদের একজন এখন "সংসদে বসে বড় বড় কথা বলে।" এনসিপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হাসনাত আবদুল্লাহ, আন্দোলনের সময় যার অনুসারীরা দেশ পুড়িয়েছে আর এখন তিনিই সংসদে বসেছেন।
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি দেশ দেখেছে এক আজব নির্বাচন। আওয়ামী লীগ ছিল না, জাতীয় পার্টি ছিলো না, বামেরা ছিল না। কেউ ছিল না। শুধু জুলাই দাঙ্গা থেকে উঠে আসা এনসিপি আর তাদের দোসররা নিজেরা নিজেদের ভোট দিয়ে নিজেরাই এমপি সেজেছে। এই পাতানো সংসদে বসেই তারা দেশ চালানোর স্বপ্ন দেখছে। হাসনাত আবদুল্লাহ এখন সেই সংসদেরই একজন ‘মাননীয়’।
চায়ের ৮০০ টাকা ফেরত না দেওয়া কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটা একটা চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের জানান দেয়। যেখানে ক্ষমতায় যাওয়ার আগে একজন শ্রমজীবীর সঙ্গে প্রতারণা, সেখানে ক্ষমতার মসনদে বসে জাতির সঙ্গে কী করবেন তা সহজেই অনুমেয়। নৈতিকতা বড় কথা নয়, বড় কথা হলো এই ৮০০ টাকার ঘটনা প্রমাণ করে শুরু থেকেই এরা নিচু মনের মানুষ। হাসনাতের রাজনৈতিক উত্থান কোনো আদর্শের ভিত্তিতে নয়, এটা ফায়দা লোটার উত্থান।
সেই ভুক্তভোগী এখনো ৮০০ টাকা ফেরত পাননি। অথচ হাসনাত আবদুল্লাহ এখন ক্ষমতার চূড়ায়। দেশের সম্পদ এখন তাদের হাতে। জনগণ বয়কট করা এক ভুয়া নির্বাচনের ফসল এই সরকারের কাছে দেশের মানুষ জানতে চায়, চায়ের ৮০০ টাকা পরিশোধের নৈতিকতাটুকুও যার নেই, তিনি জাতিকে কী দেবেন। দেশের সম্পদ লুট করে খাওয়া আর চায়ের দেনা শোধ না করার মানসিকতা একই সূত্রে গাঁথা, দুটোই পরের প্রাপ্য আত্মসাৎ করার সংস্কৃতি থেকে জন্ম নিয়েছে। ৮০০ টাকা ছোট অংক, কিন্তু এর পেছনের চরিত্রটা জাতির জন্য মহা বিপর্যয়েরই সূচনা মাত্র।