
চট্টগ্রামের মিরসরাই পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলামের কারাগারে মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে নূরুল ইসলামের মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
২ সেপ্টেম্বর দেওয়া এক বিবৃতিতে শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন, নূরুল ইসলামকে প্রথমে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয় এবং কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, গত ৩০ জুলাই নূরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরদিন ৩১ জুলাই তাঁকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। শেখ হাসিনার অভিযোগ, গ্রেপ্তারের পর তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয় এবং দীর্ঘদিন কারাগারে আটকে রাখা হয়।
আরও অভিযোগ করা হয়, কারাগারে থাকার সময় নূরুল ইসলামের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। এতে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।
বিবৃতি অনুযায়ী, গত ৩১ আগস্ট একটি মামলায় আদালত থেকে জামিন পেয়েছিলেন নূরুল ইসলাম। কিন্তু জামিন পাওয়ার পরও তিনি মুক্তি পাননি। শেখ হাসিনার অভিযোগ, মুক্তি ঠেকাতে তাঁকে আরেকটি মামলায় ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ দেখিয়ে পুনরায় কারাগারে রাখা হয়।
এরপর কারাগারেই তাঁর মৃত্যু হয়।
একটি মামলায় জামিন পাওয়ার পরও অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে রাখা এবং পরবর্তী সময়ে তাঁর মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে।
শেখ হাসিনা তাঁর বিবৃতিতে নূরুল ইসলামের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ও হয়রানি অব্যাহত রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে কারাগারে থাকা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মৃত্যু এবং গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বন্দিদের চিকিৎসা নিয়ে বিভিন্ন ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাতকড়া পরিয়ে রাখার ছবিও বিভিন্ন সময়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এসব ঘটনার ধারাবাহিকতায় নূরুল ইসলামের কারাগারে মৃত্যু নতুন করে বন্দিদের নিরাপত্তা ও চিকিৎসার অধিকার নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
তবে নূরুল ইসলাম কারাগারে নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন বলে শেখ হাসিনা যে অভিযোগ করেছেন, সেটি গুরুতর অভিযোগ। এ বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য এবং নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
কারাগারে থাকা একজন ব্যক্তি রাষ্ট্রের হেফাজতে থাকেন। তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই হোক, নিরাপত্তা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। ফলে রাষ্ট্রীয় হেফাজতে কোনো বন্দির মৃত্যু হলে তার কারণ স্বচ্ছভাবে প্রকাশ এবং কোনো অবহেলা বা নির্যাতনের অভিযোগ থাকলে তার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি।
শেখ হাসিনা নূরুল ইসলামের মৃত্যুর ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে বলেন, এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।
নূরুল ইসলামের পরিবারের জন্য এখন এটি শুধু একটি রাজনৈতিক ঘটনা নয়, একজন স্বজনকে হারানোর বেদনা। আর রাষ্ট্রের জন্য প্রশ্নটি আরও বড়। একজন বন্দি কী পরিস্থিতিতে মারা গেলেন, জামিন পাওয়ার পরও কেন তিনি কারাগারে ছিলেন এবং তাঁর ওপর নির্যাতনের যে অভিযোগ উঠেছে তার সত্যতা কী, এসব প্রশ্নের বিশ্বাসযোগ্য উত্তর প্রয়োজন।
কারাগারের দেয়ালের ভেতরে নূরুল ইসলামের জীবনের শেষ দিনগুলোতে ঠিক কী ঘটেছিল, সেটি এখন নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সামনে আনাই সবচেয়ে জরুরি।