
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া মোনামীকে নিয়ে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ ও আপত্তিকর মন্তব্যের একাধিক স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে শিবিরের কর্মী-সমর্থক ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে অশালীন মন্তব্য এবং তাকে অনলাইনে হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন মোনামী।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি স্ক্রিনশটে একটি অ্যাকাউন্ট থেকে মোনামীকে উদ্দেশ্য করে লেখা দেখা যায়, ❝মোনামী ম্যামকে খা*তে মন চায়❞। আরেকটি কথোপকথনের স্ক্রিনশটে নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ ও আপত্তিকর কথাবার্তা দেখা যায়। এসব স্ক্রিনশটের সঙ্গে কয়েকজন ব্যক্তির ছবি ও পরিচয় দাবিসহ পোস্টও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেন মোনামী। তার অভিযোগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবিরের কর্মী-সমর্থক ও শিবিরসংশ্লিষ্টরা ক্লাসের মেয়েদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। সেই হয়রানির তালিকা থেকে তাকেও বাদ দেওয়া হয়নি।
বিষয়টি জানতে পেরে সংশ্লিষ্টদের সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া এবং তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার সিদ্ধান্ত নেন বলে জানান তিনি। তবে এরপর থেকেই উল্টো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ট্যাগ করে টিপ্পনী, কটূক্তি ও বিভিন্নভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন এই শিক্ষক।
মোনামী লেখেন, ❝অনবরত আমাকে ট্যাগ দিয়ে হ্যারাসমেন্ট করা হচ্ছে। টিপ্পনী কেটে, কথা শোনানো হচ্ছে। তা-ও আবার ঢাবির ছেলেরাই। পলিটিক্যাল রাইভেল যেহেতু, তার ওপর আমি যেহেতু আগে শিবিরকে ভালো বলেছি। তাই আমাকে এখন আবার নতুন করে নাজেহাল না করলে কি রাত কাটবে?❞
নারীদের লক্ষ্য করে এমন আচরণের সমালোচনা করে তিনি আরও লেখেন, ❝এরা হয় ডাইরেক্ট হ্যারাস করবে, নয়তো ইনডাইরেক্টলি। কিন্তু তাদের যা দরকার তা হলো একজন নারীকে হয়রানি করা, সে যে-ই হোক না কেন।❞
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা আরও বেড়েছে মোনামীর অতীত অবস্থানের কারণেও। নিজের পোস্টেই তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এর আগে তিনি শিবির সম্পর্কে ইতিবাচক কথা বলেছেন। এবার নিজের এবং নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য সামনে আসার পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে ছড়িয়ে পড়া একটি ফেসবুক পোস্টে কয়েকজন ব্যক্তিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবিরের কর্মী-সমর্থক হিসেবে দাবি করে তাদের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। তবে সরবরাহ করা স্ক্রিনশটগুলো থেকে আপত্তিকর মন্তব্যের অস্তিত্ব দেখা গেলেও, সেখানে দেখানো প্রত্যেক ব্যক্তির সাংগঠনিক পরিচয় এবং প্রত্যেকটি বার্তার সঙ্গে তাদের প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা আলাদাভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে নারী শিক্ষার্থী ও একজন নারী শিক্ষককে ঘিরে এ ধরনের যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যের স্ক্রিনশট প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা ও প্রতিবাদ তৈরি হয়েছে।