
দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যু এবং সংক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৯৪ জনে। তবে এই সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে কারও মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার তথ্যের ভিত্তিতে সর্বশেষ হিসাব প্রকাশ করা হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় কুমিল্লা, মৌলভীবাজার ও খুলনা জেলায় একজন করে মোট তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তাদের সবারই হামের উপসর্গ ছিল।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে ১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন আরও ৮৯৪ জন। দুই শ্রেণি মিলিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা এখন ৯৯৪।
মৃত্যুর পাশাপাশি নতুন সংক্রমণও অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে নতুন করে ৫৫ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। ফলে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৬৯৬ জনে।
একই সময়ে আরও ১ হাজার ৪৩ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে চলতি বছরে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ১৪৮ জনে।
হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১ লাখ ৪৪ হাজার ১৬৮ জন ভর্তি হয়েছেন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নিশ্চিত আক্রান্তের তুলনায় হামের উপসর্গ নিয়ে শনাক্ত ও হাসপাতালে ভর্তি মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। একই সঙ্গে প্রায় এক হাজার মানুষের মৃত্যু পরিস্থিতির ভয়াবহতা সামনে আনছে।
বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে নতুন করে মৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। একদিনেই তিন জেলায় তিন শিশুর মৃত্যু দেখাচ্ছে, সংক্রমণ ও এর উপসর্গজনিত জটিলতা এখনো দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যমান।
হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ। ফলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত শনাক্ত করা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং টিকাদানের আওতা কার্যকরভাবে বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
চলতি বছরে আক্রান্ত, সন্দেহভাজন রোগী, হাসপাতালে ভর্তি এবং মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় দেশের হাম পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়েই রয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের মৃত্যু অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।