
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণকালে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনায় দুই সেনাসদস্যের প্রাণহানিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত এক সেনা কর্মকর্তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন তিনি।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অফিশিয়াল ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে শেখ হাসিনার এই শোকবার্তা জানানো হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণকালে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে সৈনিক গানার রিফাত (নং ১০০৮২০১) এবং সৈনিক অপারেটর আবু বকর সিদ্দিক (নং ১০০৮০৯৬) প্রাণ হারান।
দুই সেনাসদস্যের মৃত্যুতে গভীর বেদনা প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, ❝এই দুইজন অকুতোভয় সাহসী দেশপ্রেমিক সেনাসদস্যের প্রাণহানির ঘটনায় দেশবাসীর সঙ্গে আমিও ভীষণভাবে মর্মাহত ও ব্যথিত। তাদের এই অকাল মৃত্যুতে আমি গভীর শোক ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।❞
একই দুর্ঘটনায় ক্যাপ্টেন মির্জা মহিউদ্দিন (বিএ-১০৫৮৫) গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলেও প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। আহত এই সেনা কর্মকর্তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন শেখ হাসিনা।
নিহত দুই সেনাসদস্যকে সাহসী ও দেশপ্রেমিক উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ❝আমার দৃঢ় বিশ্বাস, দেশ এবং সেনাবাহিনীর জন্য তাদের আরও অনেক অবদান রাখার সুযোগ ছিল। দেশের জন্য জীবন দেওয়ার ব্রত নিয়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া প্রতিশ্রুতিশীল এই দুই সেনাসদস্যের মৃত্যু নিঃসন্দেহে দেশের জন্য একটি অপূরণীয় ক্ষতি এবং তাদের এই আত্মত্যাগ স্মরণীয় হয়ে থাকবে।❞
তিনি আরও বলেন, ❝তাদের আত্মত্যাগ সকল সেনাসদস্যের জন্য অনুকরণীয় ও অনুসরণীয় হয়ে থাকবে এবং দেশমাতৃকা রক্ষার শপথকে বলীয়ান করবে।❞
শেখ হাসিনা নিহত দুই সেনাসদস্যের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
প্রেস বিজ্ঞপ্তির শেষে তার বার্তায় বলা হয়, ❝জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। আঁধার কেটে ভোর হোক, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।❞
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অফিশিয়াল ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে শোকবার্তাটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অতীতের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন ও অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে কেউ কেউ শেখ হাসিনার এই শোকবার্তাকে রাজনৈতিক বিরোধের ঊর্ধ্বে মানবিক অবস্থান হিসেবে দেখছেন।
এমনই একজন সাধারণ মানুষ মন্তব্য করেছেন, ❝যে সেনাবাহিনী বারবার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে শেকড়সহ ধ্বংস করে দেওয়ার চেষ্টা করেছে, তাদের সদস্যদের জন্যও আপনার এই শোক। রাজনৈতিক ক্ষোভের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের সেনাসদস্যদের মৃত্যুতে আপনার এই সমবেদনা সত্যিই মহানুভবতার পরিচয়। আপনি সত্যিই মহান একজন মানুষ।❞
তবে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে শেষোক্ত বক্তব্যটি ওই ব্যক্তির নিজস্ব রাজনৈতিক মূল্যায়ন। এটি শেখ হাসিনার শোকবার্তা বা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেস বিজ্ঞপ্তির অংশ নয়, বরং শোকবার্তাটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসা একটি প্রতিক্রিয়া।