
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে সেনাবাহিনীর লাইভ ফায়ার প্রশিক্ষণের সময় টাইপ ৫৯জি ‘দুর্জয়’ ট্যাংকে ভয়াবহ বিস্ফোরণে দুই সেনাসদস্য নিহত এবং একজন সেনা কর্মকর্তা গুরুতর আহত হওয়ার পর দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে পাকিস্তান থেকে আমদানি করা গোলাবারুদের মান ও নিরাপত্তা পরীক্ষার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।
বুধবারের এ দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে ট্যাংকের কামানের ব্যারেলে প্রতিবন্ধকতা, গোলাবারুদের ত্রুটি, সংরক্ষণজনিত সমস্যা কিংবা গোলাবারুদের মানসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কামানের ব্যারেলের ভেতরে কোনো বস্তু বা ধ্বংসাবশেষ আটকে থাকা কিংবা অতিরিক্ত কার্বন জমে গেলে গোলা নিক্ষেপের সময় অস্বাভাবিক চাপ তৈরি হতে পারে। একইভাবে গোলাবারুদের প্রপেল্যান্ট বা অন্য কোনো উপাদানে ত্রুটি থাকলেও ব্যারেল বা চেম্বারে বিস্ফোরণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে দুর্ঘটনার সময় ব্যবহৃত গোলাবারুদটি কোথায় তৈরি হয়েছিল এবং কোন চালান বা ব্যাচ থেকে সেটি এসেছিল, তা নির্ধারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ব্যবহৃত গোলাটি পাকিস্তান থেকে আমদানি করা হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যাচের মান, আমদানির পর পরীক্ষা এবং সংরক্ষণের প্রক্রিয়াও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে ৪০ হাজার রাউন্ড গোলাবারুদ, ২ হাজার ট্যাংক রাউন্ড, ৪০ টন আরডিএক্স এবং ২ হাজার ৯০০টি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন প্রজেক্টাইল আমদানির তথ্য সামনে এসেছে। তবে হাটহাজারীর দুর্ঘটনায় ব্যবহৃত গোলাটি ওই চালানের অংশ ছিল কি না, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ফলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে। দুর্ঘটনায় ব্যবহৃত গোলাটি কোন দেশের তৈরি ছিল? কোন ব্যাচ থেকে এটি নেওয়া হয়েছিল? আমদানির পর গোলাবারুদের প্রয়োজনীয় মান ও নিরাপত্তা পরীক্ষা করা হয়েছিল কি না? একই ব্যাচের অন্য গোলাবারুদগুলো ব্যবহারের জন্য নিরাপদ কি না?
তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই পাকিস্তান থেকে আমদানি করা গোলাবারুদকে বিস্ফোরণের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করার সুযোগ নেই। গোলার অবশিষ্টাংশ, ক্ষতিগ্রস্ত ট্যাংকের ব্যারেল ও চেম্বার এবং একই ব্যাচের অব্যবহৃত গোলাবারুদের কারিগরি পরীক্ষা থেকেই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব।
দুই সেনাসদস্যের প্রাণহানির মতো গুরুতর ঘটনার পর তাই দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের পাশাপাশি ব্যবহৃত গোলাবারুদের উৎস, মান নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা পরীক্ষার তথ্যও সামনে আনার দাবি উঠতে পারে।