
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও পাঁচবারের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার ৮০তম জন্মদিন উপলক্ষে ভারতের কলকাতা ও নয়াদিল্লিসহ বিভিন্ন শহরে একাধিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর ৭৯ বছর পূর্ণ করে ৮০ বছরে পা দেবেন তিনি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে কয়েক দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা, চলচ্চিত্র প্রদর্শনীসহ নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে তাঁর সুস্থ ও দীর্ঘ জীবন কামনার পাশাপাশি নিরাপদে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের প্রত্যাশার কথাও জানানো হয়েছে। আনন্দবাজার জানিয়েছে, কলকাতা ও নয়াদিল্লিতে ছয় দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা রয়েছে।
চলতি বছরের ডিসেম্বরেই দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা শেখ হাসিনা জানিয়েছেন বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে এর আগে খবর প্রকাশিত হয়েছে। ৪ সেপ্টেম্বর আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরার কথা বলেছেন।
জন্মদিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর কলকাতার সল্টলেকে ‘আমি শেখ মুজিবের মেয়ে’ শিরোনামের একটি নির্মাণ প্রদর্শিত হবে।
আনন্দবাজারের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৫০ মিনিটের এই নির্মাণটির শুটিং গত এক বছর ধরে কলকাতায় হয়েছে। এতে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ এবং শেখ হাসিনার বাংলাদেশ ছাড়ার প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে বলে আয়োজকেরা জানিয়েছেন।
দ্য ওয়ালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই প্রদর্শনী এবং জন্মদিন ঘিরে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ভারতের রাজনৈতিক, শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পরিচিত ব্যক্তিদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বিজেপি ও কংগ্রেসের রাজনীতিকদের পাশাপাশি সাবেক জনপ্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, বিচারপতি এবং শিল্পীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
২৮ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনার জন্মদিনে কলকাতায় নাগরিক সমাজের উদ্যোগেও একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের কথা রয়েছে। ওই আয়োজনসহ কয়েকটি অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
এ ছাড়া দিল্লিতেও একাধিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা হয়েছে। দ্য ওয়ালের প্রতিবেদনে ২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে পৃথক আয়োজনের কথা বলা হয়েছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ধ্রুপদী নৃত্য, সংগীত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা, গান ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে জন্মদিন উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগও পৃথক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। দলীয় কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আলোচনা সভা, মসজিদে দোয়া ও মিলাদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডায় বিশেষ প্রার্থনা, দুস্থদের মধ্যে খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ এবং দেশের বিভিন্ন মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শোভাযাত্রা।
আওয়ামী লীগের ঘোষিত কর্মসূচিতে “দেশরত্ন শেখ হাসিনার নিরাপদ স্বদেশ প্রত্যাবর্তন” বিষয়টিও রাখা হয়েছে।
শেখ হাসিনা সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারেও বাংলাদেশে ফিরে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম পুনর্গঠনের চেষ্টা করার কথা বলেছেন। একই সঙ্গে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতেও প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছেন তিনি।
ফলে এবারের জন্মদিনের আয়োজন শুধু আনুষ্ঠানিক উদ্যাপনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। তাঁর সম্ভাব্য স্বদেশ প্রত্যাবর্তন এবং বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ভারত ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনেও এসব কর্মসূচি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
সূত্র: দ্য ওয়াল, আনন্দবাজার পত্রিকা, বর্তমান পত্রিকা, প্রথম কলকাতা।