
নিজস্ব প্রতিবেদক
২০২৫ সালের জুলাই মাস। বাংলাদেশের রাজনীতিতে যখন চরম টানাপোড়েন, তখনই বিবিসি হঠাৎ একটি তথাকথিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যার শিরোনাম—“Ex-Bangladesh Leader authorised deadly crackdown, leaked audio suggests”। এই শিরোনাম আর কিছু না, একটি নিখুঁতভাবে সাজানো মিডিয়া প্রোপাগান্ডা অপারেশনের অংশ, যার লক্ষ্য একটাই শেখ হাসিনার আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিকে ধ্বংস করা এবং জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা।
বিবিসি দাবি করেছে, এটি তাদের BBC Eye অনুসন্ধানী ইউনিটের প্রতিবেদন। একটি কথিত ‘লিকড অডিও’র ১৮ সেকেন্ডের অংশ বিশ্লেষণ করে তারা বলছে, শেখ হাসিনা ‘‘মারাত্মক দমন অভিযান” অনুমোদন দিয়েছেন। এই দাবিকে বিশ্বাসযোগ্য করতে তারা যুক্ত করেছে ব্রিটিশ একটি ফরেনসিক অডিও এনালাইসিস প্রতিষ্ঠান “Earshot” যারা বলেছে, অডিওটি এডিটেড নয়।
খণ্ডিত অংশ কি মানেই না-এডিটেড? এই প্রশ্নটিই হলো বিবিসির ‘অনুসন্ধান’ নামক নাটকের কেন্দ্রবিন্দু। Earshot হয়তো বলেছে অডিওটি এডিট করা হয়নি, কিন্তু যদি এটি একটি পূর্ণ কথোপকথনের ১৮ সেকেন্ডের খণ্ডিত অংশ হয়, তাহলে স্পষ্টভাবেই এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কেটে নেওয়া অংশ। পুরো কথোপকথনের প্রসঙ্গ, প্রেক্ষাপট, ও উদ্দেশ্য যদি বাদ পড়ে, তাহলে এই ১৮ সেকেন্ডের অর্থ দাঁড়ায় কল্পনার উপর নির্মিত একটি গল্পের মতো যেটি যেকোনোভাবে ব্যাখ্যা করে চালানো সম্ভব।
বিবিসি বলছে, অডিওটি ১৮ জুলাইয়ের। কিন্তু এ তথ্য কে দিয়েছে? Earshot নয়, দিয়েছে “a source with knowledge of leaked audio”। যদি ফরেনসিক অডিও বিশ্লেষণ করা হয়, তাহলে তা থেকে অডিওটি কবে রেকর্ড হয়েছে, কোথায় হয়েছে সেসব বিশদ তথ্য জানা সম্ভব। তাহলে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে Earshot নিশ্চুপ কেন? এই প্রশ্নের উত্তর সহজ—প্রোপাগান্ডার নির্ভরযোগ্যতা দিতে একটি বিদেশি নাম লাগানো হয়েছে, কিন্তু সত্য লুকোনোর জন্য সময়, উৎস, উদ্দেশ্য সবকিছুকে ধোঁয়ায় মোড়ানো হয়েছে।
অনুসন্ধান না কি একতরফা প্রচারণা?
এই কথিত অনুসন্ধানে এমন কিছুই নেই যা গত ১১ মাসে ইউনুসপন্থী গোষ্ঠী হাজারবার বলেনি। একই অডিও মার্চ মাসে ফাঁস করা হয়েছিল—তখন সেটি জনপ্রিয়তা পায়নি। মানুষ সেটা প্রত্যাখ্যান করেছিল। এবার 'বিবিসি' নামের মোড়কে, বিদেশি লেবেল লাগিয়ে সেই পুরোনো কন্টেন্টকে আবার সামনে আনা হলো। এটিই কি তাহলে 'অনুসন্ধান'?
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে যে চরিত্রহননের চেষ্টা চলছে, তা বাংলার জনগণের সামনে ধরা পড়ে গেছে। তারা জানে এই খণ্ডিত অডিও, এই লবিস্ট মিডিয়া প্রচার, আর ইউনুসের বৈদেশিক মাস্টারপ্ল্যান সব একসূত্রে গাঁথা।