
এম, কে শাওন
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা পাওয়া দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা কিংবা পর্যটনের উদ্দেশ্যে ভিসা পেতে গিয়ে অনেকেই এখন মারাত্মক ভোগান্তির সম্মুখীন হচ্ছেন। ভারত ইতিমধ্যে পর্যটন ভিসা বন্ধ করে দিয়েছে এবং অন্যান্য ক্যাটাগরিতেও ভিসা অনুমোদনের হার আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।
এই পরিস্থিতির পেছনে অনেকেই দায়ী করছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ব্যর্থতাকে। ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশি শ্রমিকদের ফেরত পাঠানোর হার বেড়েছে এবং বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাখ্যানও বেড়েছে। অথচ সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে বড় ধাক্কা তৈরি করছে।
বিশ্ব সম্প্রদায় এই সরকারের প্রতি আস্থা হারিয়েছে। তাদের চোখে এই সরকার জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদকে মদত দিচ্ছে। এরই মধ্যে মালয়েশিয়ায় জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে ৩৬ বাংলাদেশিকে আটক করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
থাইল্যান্ড, চীন, তাজিকিস্তান, মালয়েশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকাসহ বহু দেশেই এখন বাংলাদেশিদের ভিসা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। ইউটিউবার ও ভ্রমণকারী নাদির নিবরাস জানান, তার আমেরিকা, ব্রিটেন এবং অস্ট্রেলিয়ার বৈধ ভিসা থাকলেও সম্প্রতি তিনটি দেশে ই-ভিসার আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।
ভিসা ও ট্রাভেল এজেন্সিগুলো জানাচ্ছে, আগে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর ভিসা পাওয়া সহজ ছিল। এখন সেসব দেশের দূতাবাসেও বাংলাদেশি আবেদনকারীদের প্রত্যাখ্যানের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পেছনে "অবৈধ অভিবাসনের প্রবণতা" এবং "রাজনৈতিক অস্থিরতা" দায়ী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন জানিয়েছে, শুধু জরুরি ও চিকিৎসা ভিসাগুলো সীমিতভাবে দেয়া হচ্ছে। অন্যান্য বিভাগগুলো ধাপে ধাপে চালু হবে বলে জানানো হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত থাকার পরও ভিসা না পেয়ে হতাশ হয়ে দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হচ্ছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি দেশ এখন তাদের স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া আরও কঠোর করেছে। ভিএফএস গ্লোবালসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মতে, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ভুয়া কাগজপত্র জমা দেওয়ার ঘটনাও ভিসা বাতিলের হার বাড়াচ্ছে।
এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা, বৈদেশিক আয় এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার জন্য একটি বড় সংকেত। অথচ সরকার এখনো এ বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
এম, কে শাওন: লেখক, কলামিস্ট