
অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাজ্যের সংসদ সদস্য বব ব্ল্যাকম্যান বাংলাদেশে হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ ও আহমদিয়া সম্প্রদায়ের ওপর ক্রমবর্ধমান হুমকি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি এসব সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সমর্থনে কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিতে ব্রিটিশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে লিখেছেন, বাংলাদেশে হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ ও আহমদিয়া সংখ্যালঘুদের ওপর বাড়তে থাকা হুমকি নিয়ে আমি উদ্বেগ জানিয়েছি। সম্প্রতি শান্তিপূর্ণ রথযাত্রা উৎসবের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। বাংলাদেশকে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে এবং গণতন্ত্র রক্ষায় ব্রিটিশ সরকারকে চাপ দিতে হবে।"
ব্রিটিশ পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে ব্ল্যাকম্যান বলেন, তিনি আগে এই ইস্যুতে কথা বলেছেন এবং সম্প্রতি একটি সেমিনার আয়োজন করেছেন যেখানে আক্রান্ত সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা সরাসরি তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, মাননীয় স্পিকার, চলতি বছরের শুরুতে আমি বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দুরবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলাম। গতকাল আমি একটি সেমিনার আয়োজন করি যেখানে হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ ও আহমদিয়া প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন—যারা প্রত্যেকেই বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ হামলার শিকার হচ্ছেন।"
একটি নির্দিষ্ট ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, "কয়েক সপ্তাহ আগে আমি বাংলাদেশে রথযাত্রা উৎসব হয়েছে। জঙ্গিরা এই উৎসবে হামলা চালিয়ে নির্মমভাবে তা ধ্বংস করেছে।"
এছাড়া, বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সরকারের অস্পষ্ট অবস্থান নিয়েও তিনি সমালোচনা করেন। বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার এখনো জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেনি, যেখানে একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক সরকার নির্বাচিত হওয়ার কথা।"
ব্ল্যাকম্যান আরও বলেন, আমি সরকারকে অনুরোধ করব সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের উপর কী ধরনের চাপ প্রয়োগ করা হবে তা নিয়ে যেন পররাষ্ট্র দপ্তরের মন্ত্রীগণ আগামী সপ্তাহের মধ্যে একটি বিবৃতি দেয়।
ব্রিটিশ এমপির এই মন্তব্য এসেছে এমন সময়, যখন বাংলাদেশ তার পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বুধবার, বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুস নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে এক বৈঠকে এই নির্দেশনা দেন তিনি। বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা ও বিভিন্ন বাহিনীর প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আজাদ মজুমদার বার্তা সংস্থা এএনআই-কে বলেন, প্রধান উপদেষ্টা ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনী প্রস্তুতি শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি জানান, পরবর্তী নির্বাচনে ৮ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ৪৭ হাজার ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবে। এর মধ্যে ৫ লাখ ৭০ হাজার আনসার সদস্য এবং ১ লাখ ৪১ হাজার পুলিশ থাকবে। পুলিশ সদস্যদের বডি ক্যামেরা থাকবে।
মজুমদার জানান, নির্বাচনের আগে এলোমেলোভাবে কর্মকর্তাদের রদবদলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া যারা গত তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদেরকে এবার খুব সীমিত সময়ের জন্য দায়িত্ব দেওয়ার অনুরোধ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা।
এর আগে, জুন মাসে ইউনুস জানান যে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথম ভাগে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। তিনি লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনাও করেন। ওই আলোচনায় তারেক রহমান রমজানের আগেই নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তাব দেন।
পরবর্তীতে এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, নির্বাচন আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হবে। তবে, সে সময়ের মধ্যে সংবিধান ও বিচারব্যবস্থায় পর্যাপ্ত সংস্কার আনতে হবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
প্রসঙ্গত, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বছরের আগস্টে ছাত্র আন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হন। এরপর নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।