
নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জে বুধবার (১৬ জুলাই) সাধারণ জনগণের সঙ্গে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সহিংসতায় সাতজন নিহত এবং অন্তত ৫০ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, এই সংঘর্ষ ও অভিযান পরিচালনার পুরো মিশনের নেতৃত্ব দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক ছবিতে দেখা গেছে, তারা পুলিশ কন্ট্রোল রুম থেকে পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করছেন।
আসিফ মাহমুদ সজীব নিজেও ফেসবুকে লিখেছেন, “সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের সন্ত্রাসীদের ভেঙে দেওয়া হবে।”
কারফিউ ও অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা
ঘটনার পর গোপালগঞ্জে কারফিউ জারি করা হয়েছে। রাতের সেখানে সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও একটি দফা অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই পরিকল্পনাটি পুলিশ কন্ট্রোল রুম থেকেই সম্পন্ন করা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
সাংঘর্ষিক পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসক মো. কামরুজ্জামান গোপালগঞ্জ জেলায় ১৪৪ ধারা জারি করেছেন। সমাবেশ পরবর্তী উত্তেজনার কারণে এনসিপি নেতারা শহর থেকে বের হতে না পেরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের ভবনে আশ্রয় নেন। পরে তারা সেনাবাহিনীর এপিসি গাড়িতে করে পালিয়ে যান। পালানো নেতাদের মধ্যে রয়েছেন এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলম।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা ও পুলিশের কঠোরতা
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ঘটনাস্থলে প্রথমে সেনাবাহিনী জনসাধারণকে থামানোর চেষ্টা করে, কিন্তু ব্যর্থ হয়ে তারা পিছু হটে। এরপর আবার ফিরে এসে সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালায়। ঘটনাস্থলে প্রায় শতাধিক পুলিশ সদস্য ফাঁকা গুলি বর্ষণ, টিয়ারশেল নিক্ষেপ, রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুঁড়েছে বলে জানা গেছে।
বিতর্কিত স্লোগান
গোপালগঞ্জ সফরের ঠিক আগের দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ‘রাজাকার রাজাকার’ স্লোগান দেন। তাঁর দেওয়া স্লোগানের মধ্যে ছিল, ‘তুমি কে আমি কে, রাজাকার রাজাকার’, ‘কে বলেছে কে বলেছে, স্বৈরাচার স্বৈরাচার’, ‘এই কথায় কথায় বাংলা ছাড়, বাংলা কী বাপ দাদার’ ইত্যাদি। এই স্লোগানের ব্যাপারে সজীব ভূঁইয়া সংক্ষেপে বলেন, “যারা তখন বাংলা ছাড়তে বলেছিল, তারা এখন কোথায়? তারা কি এখনো বাংলায় আছে?”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার মতো উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের যদি এমন নির্দেশ দেয়া হয়, তাহলে দেশের রাজনীতির স্বাভাবিকতা ও নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। এতে জনগণের মধ্যে দুর্ভরতা ও অসন্তোষ বৃদ্ধি পাবে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।”