
নিজস্ব প্রতিবেদক
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুরু হলেও, ধীরে ধীরে এটি সরকারবিরোধী গণ-অভ্যুত্থানে পরিণত হয় এবং দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক রক্তাক্ত ও বিতর্কিত অধ্যায় হিসেবে আবির্ভূত হয়। এই আন্দোলনের পেছনে এক বিশাল রাজনৈতিক কৌশল ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের ছায়া ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
শিবিরের সঙ্গে আন্দোলনের নেতৃত্বের যোগসূত্র
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবির নেতা সাদিক কায়েম দাবি করেছেন, এই আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ, হাসনাত আবদুল্লাহ এবং সারজিস আলম শিবিরের সঙ্গে আলোচনা করে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেনও একই কথা বলেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, আন্দোলনের জনপ্রিয় স্লোগান “তুমি কে আমি কে রাজাকার রাজাকার” ছিল শিবিরের কনসেপ্ট থেকে উদ্ভূত, যা সরকারের সমর্থকদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়। এই অভিযোগগুলো সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের উপর প্রশ্ন তোলে।
জামায়াত-ইউনুস-আন্তর্জাতিক কুচক্রের নীল নকশা
জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের পেছনে জামায়াতে ইসলামী, ড. মুহাম্মদ ইউনুস এবং আন্তর্জাতিক মহলের একটি গোপন ষড়যন্ত্র ছিল বলে দাবি করা হয়। তাদের লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করা। জামায়াতের ছাত্র সংগঠন শিবির এই আন্দোলনকে কাজে লাগিয়ে তাদের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছে। ড. ইউনুসের নাম আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে, যিনি আগে আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিরোধে জড়িত ছিলেন। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্দোলনের সময় ১৬ জুলাই থেকে ১১ আগস্ট পর্যন্ত কমপক্ষে ৬৫০ জন নিহত হয়েছেন, যা আন্দোলনের তীব্রতা নির্দেশ করে।
আন্দোলনের প্রকৃতি ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভূমিকা
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দাবি ছিল সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থার সংস্কার। এটি ২০২৪ সালের ১ জুলাই শুরু হয় এবং পরে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। নাহিদ ইসলাম দাবি করেন এটি ছিল সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। কিন্তু শিবিরের মতো সংগঠনগুলো আন্দোলনকে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করেছে। “তুমি কে আমি কে রাজাকার রাজাকার” স্লোগানটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে অপব্যবহার হিসেবে দেখা হয়, যা ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। আন্দোলনের ফলে ব্যাপক সহিংসতা, অর্থনৈতিক ক্ষতি ও সামাজিক বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। শিবির ও জামায়াত সাধারণ শিক্ষার্থীদের আবেগকে কাজে লাগিয়ে সহিংসতা উসকে দিয়েছে।
স্নাইপার দিয়ে ছাত্রদের উপর গুলি
আন্দোলন প্রাথমিকভাবে অরাজনৈতিক ছিল এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের দ্বারা পরিচালিত হলেও, সরকার ও গণমাধ্যম দাবি করে জামায়াতে ইসলামী ও শিবিরের সদস্যরা সহিংসতা বৃদ্ধি করতে আন্দোলনে অনুপ্রবেশ করেছে। স্নাইপার রাইফেল ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের গুলি করার অভিযোগ ওঠে, যা আন্দোলনের শান্তিপূর্ণ চরিত্র ক্ষুণ্ন করেছে এবং ব্যাপক হতাহতের কারণ হয়েছে।
এনায়েতপুরে থানায় হামলা ও পুলিশ হত্যা
প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়, এনায়েতপুর থানায় বিক্ষোভকারীদের হামলার পর আত্মসমর্পণ করতে চেয়েছিলেন কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা। কিন্তু তাতেও কাজ না হওয়ায় যে যার মতো দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন কর্তব্যরত প্রায় ৪০ জন পুলিশ সদস্য। তাদের কেউ থানার ছাদে, কেউ পাশের বাড়িতে, কেউ শৌচাগারে, কেউবা জঙ্গলে আশ্রয় নেন। সেখান থেকেই খুঁজে এনে একে একে ১৪ জনকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে জামায়াত-শিবিরের জঙ্গিরা। যার মধ্যে অন্তঃসত্ত্বা নারী পুলিশ সদস্যও ছিলেন।
থানার পেছনের এলাকার খোকসাবাড়ি গ্রামে বৃদ্ধ জহির উদ্দিনের (৭৫) বাড়ি। এমন হত্যাযজ্ঞ জীবনে দেখেননি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বেলা তিনটা দিকে থানার পেছনের জঙ্গলের মধ্যে পালিয়ে থাকা বেশ কয়েক জন পুলিশ সদস্যকে হামলাকারীরা খুঁজে বের করে কাঠের লাঠি ও লোহার রড দিয়ে পেটাতে শুরু করে। সে সময় জীবন বাঁচাতে কোনো পথ না পেয়ে তাঁরা পাশের পুকুরের পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। হামলাকারীরা সেই পানিতে নেমেই তাদের পিটিয়ে হত্যা করে লাশগুলো টেনে তুলে পাড়ে জমা করে। একটি লাশ পরে সেনা সদস্যরা পুকুরের পানি থেকে উদ্ধার করেছেন।’
জহির উদ্দিন বলেন, হামলাকারীদের বেশির ভাগের বয়স ১৭ থেকে ২২ বছরের মধ্যে। এর মধ্যে দু–একজনের বয়স ৪০-৪৫ হবে। তবে তারা কেউই স্থানীয় নয়। সবাই তাঁদের অপরিচিত। তাদের কাউকেই এলাকার মানুষ আগে কখনো দেখেননি।
এই হামলা পুলিশের ওপর নির্বিচার আক্রমণের এক মর্মান্তিক উদাহরণ। তবে, অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে পুলিশ নিহতের সংখ্যাকে কমিয়ে দেখানোর অভিযোগও রয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলনে ৪৪ পুলিশ সদস্য নিহত হয়, যা দাবিকৃত ৩ হাজার পুলিশ হত্যার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
থানা ও পুলিশ ফাঁড়িতে অগ্নিসংযোগ ও অস্ত্র লুট
৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর দেশে ৬৬৪টি থানা ও পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এসব থেকে ৫ হাজার ৭৫০টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৬ লাখ ৫১ হাজার ৬০৯টি গোলাবারুদ লুট হয়, যার মধ্যে ছিল চায়না রাইফেল, শটগান, এসএমজি, এলএমজি, পিস্তল, গ্যাসগান, কাঁদানে গ্যাস লঞ্চার, সাউন্ড গ্রেনেড সহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র। এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ জেলপলাতক আসামি, সন্ত্রাসী ও চরমপন্থীদের হাতে চলে যায়, যা দেশের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।
তিন হাজারের বেশি পুলিশ হত্যা
জামায়াত-শিবিরের জঙ্গিরা আন্দোলনের সময় ৩ হাজারের বেশি পুলিশ হত্যা করেছে বলে অভিযোগ। তবে পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য মতে, নিহত পুলিশ সদস্যের সংখ্যা ৪৪। নিহত সদস্যদের পরিবারের অভিযোগ, মৃত্যুর সঠিক তথ্য ও সান্ত্বনা না পাওয়ার কারণে তাদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। এছাড়া, পুলিশ হত্যার ঘটনার তদন্তে অগ্রগতি কম থাকায় পুলিশের দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
জামায়াত-শিবিরের ভূমিকা ও সরকারের প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং এর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকার বারবার অভিযোগ করে আসছে যে, তারা বিভিন্ন আন্দোলনের আড়ালে সহিংসতা ছড়িয়ে রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করেছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় সংঘটিত সহিংসতায় জামায়াত-শিবিরের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠে। সরকারের দাবি, এই সংগঠনগুলো হত্যাযজ্ঞ, ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সরাসরি এবং উসকানির মাধ্যমে জড়িত ছিল।
জামায়াত নেতারাও স্বীকার করেছেন, তারা নাম গোপন রেখে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল। সরকার ১ আগস্ট ২০২৪ জামায়াত ও শিবিরকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মিসবাহুর রহমান চৌধুরী বলেন, জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করে সরকার বড় ধরনের ঝুঁকি নিয়েছিল। জামায়াতের অর্থায়ন ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অনেকে তাদের সঙ্গে যুক্ত ছিল, যা দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির ঝুঁকি বাড়িয়েছে। যা পরবর্তীতে পরিস্থিতি জটিল করছে।
আন্দোলনের প্রভাব ও বিতর্ক
আন্দোলন প্রাথমিক কোটা সংস্কারের দাবি নিয়ে শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। তবে আন্দোলনের সহিংস রূপ, থানা হামলা, অস্ত্র লুট ও পুলিশ হত্যা এটিকে বিতর্কিত করেছে। স্বাস্থ্য বিষয়ক উপকমিটি ও নাগরিক কমিটির তথ্যে ১ হাজার ৫৮১ জন নিহত ও ২২ হাজার জন আহত হয়েছেন। তবে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে সহিংসতায় ৬৫০ জন নিহত হয়েছেন।
মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলন ও সংশ্লিষ্ট সহিংসতায় কমপক্ষে ৮০৯ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে শিক্ষার্থী, নারী, শিশু, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী এবং নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। এমএসএফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সময়ে গণপিটুনি, রাজনৈতিক সহিংসতা, এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। তবে, প্রতিবেদনে ৩ হাজারের বেশি পুলিশ হত্যার তথ্য উল্লেখ করা হয়নি, যা বিভিন্ন মহলে ব্যাপক সমলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মানবাধিকার গবেষক মাহবুবুর রহমান বলেন, “এমএসএফের প্রতিবেদনে নিহতদের মধ্যে শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট পক্ষের ক্ষয়ক্ষতি তুলে ধরা হয়েছে। পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপর হামলা এবং তাদের হতাহতের বিষয়টি সম্পূর্ণ উপেক্ষিত, যা প্রতিবেদনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন মনে করেন, এমএসএফের তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি যথেষ্ট স্বচ্ছ নয়। প্রতিবেদনটি গণমাধ্যমের খবর এবং স্থানীয় প্রতিনিধিদের তথ্যের উপর নির্ভর করেছে, কিন্তু এই তথ্যগুলোর যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পর্কে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। এটি প্রতিবেদনের বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষুণ্ন করে।”
রাজনীতি বিশ্লেষক ফারুক আহমেদ মনে করেন, এমএসএফের প্রতিবেদন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে। এই প্রতিবেদনটি আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মহলে অভিযোগ উত্থাপনের জন্য তৈরি করা হয়েছে। পুলিশের উপর হামলা এবং জামায়াত-শিবিরের সম্পৃক্ততার বিষয়টি ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।”
জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ের একটি প্রতিবেদনের উল্লেখ করে বিশ্লেষকরা বলেন, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে শুধুমাত্র সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ নয়, বরং আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থক এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর প্রতিশোধমূলক হামলাও সংঘটিত হয়েছে। এমএসএফ এই বিষয়গুলো তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেনি, যা প্রতিবেদনের ভারসাম্যহীনতার প্রমাণ।
আমেরিকার দীর্ঘমেয়াদি নীলনকশা
চীনের আধিপত্য কমানো বঙ্গোপসাগরের প্রাকৃতিক সম্পদ হাতানোর পরিকল্পনা আমেরিকার বহুদিনের। এটি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি একটি নীলনকশার অংশ, যার লক্ষ্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় তাদের আধিপত্য বিস্তার। জাতিসংঘের অফিসের মাধ্যমে ‘মানবাধিকার’ ইস্যুকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক ভারসাম্যকে ব্যাহত করা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করা হতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মিয়ানমারে চীন-সমর্থিত গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্পের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কৌশলগত অবস্থান নিতে সক্রিয় হয়েছে। রোহিঙ্গা সংকট, মানবিক করিডোর, এবং চট্টগ্রাম বন্দর—সব মিলে এই অঞ্চলটি চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। সেইসঙ্গে বঙ্গোপসাগরে থাকা প্রাকৃতিক সম্পদও উত্তোলন করতে চায় দেশটি।
এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে একটি “খ্রিস্টান রাজ্য” গঠনের ষড়যন্ত্রের আশঙ্কাও করা হচ্ছে, যা পূর্ব তিমুরের ঘটনার সাথে তুলনা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর আগেও সতর্ক করে বলেছিলেন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের কিছু অংশ নিয়ে এমন একটি রাষ্ট্র গঠনের ষড়যন্ত্র চলছে । তিনি সেন্টমার্টিনে মার্কিনিরা ঘাঁটি করতে চায় সেই কথাও জানিয়েছিলেন।
সহিংসতা ছড়াল, জাতিসংঘ চুপ
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে সহিংসতা ও অরাজকতা ছড়িয়ে পড়ে। সরকারি স্থাপনা ধ্বংস, কারাগারে হামলা, জঙ্গি মুক্তি এবং পুলিশের ওপর নৃশংস হামলা হয়। নরসিংদীর কারাগার থেকে ৯ জন জঙ্গি পালিয়ে যায়। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনার ভলকার টুর্ক সরাসরি কোনো নিন্দা জানাননি বরং আন্দোলনকারীদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন। পুলিশ হত্যা ও সহিংসতা উপেক্ষা করা হয়।
সেনাবাহিনীর প্রতি জাতিসংঘের হুমকি
মার্চ ২০২৫-এ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সেনাবাহিনী অংশগ্রহণ নিয়েও হুমকি দেয়, যা সেনাবাহিনীকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘের এই চাপ দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে দুর্বল করেছে।
একপেশে মানবাধিকার প্রতিবেদন ও অপপ্রচার
জাতিসংঘের প্রতিবেদন একপেশে ও পক্ষপাতদুষ্ট ছিল। অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে এবং দলের নেতাদের আটকায়। জাতিসংঘের পক্ষ থেকে এধরণের কর্মকাণ্ডে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা হয়নি।
২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া সহিংসতা, জামায়াত-শিবিরের ভূমিকা, আমেরিকা ও জাতিসংঘের ষড়যন্ত্র এবং সরকারের পতনের ঘটনা দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এটি এক ভয়াবহ অধ্যায় যেখানে স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন এবং বহিরাগত ষড়যন্ত্রের ছায়া জটিলভাবে মিশে আছে। দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও সার্বভৌমত্বের জন্য এটি গভীর সংকটের সূচনা করেছে।