
নিজস্ব প্রতিবদক
জুলাই-আগস্ট মাসে দেশব্যাপী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় পুলিশের ওপর ঘটে যাওয়া ভয়াবহ হামলা ও হত্যাকাণ্ডে যখন পুরো জাতি শোকাহত, তখন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) সাইফুল ইসলামের একটি বক্তব্য জনমনে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট ছড়িয়ে জুলাই ঐক্য বিনষ্ট করা হচ্ছে। আপনারা ষড়যন্ত্রকারীদের বলে দেবেন, আপা আর আসবে না, কাকা আর হাসবে না।”
এই বক্তব্যকে জুলাই আন্দোলনে নিহত পুলিশ সদস্যদের আত্মত্যাগের প্রতি অবমাননাকর বলে উল্লেখ করেছেন পুলিশ সদস্যদের পরিবারগুলো।
গুপ্ত রাজনীতির অভিযোগ এসপির বিরুদ্ধে
এসপি সাইফুল ইসলামের বক্তব্য ও অতীত কার্যক্রম বিশ্লেষণ করে বিশ্লেষকরা বলছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতপন্থী রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন। অতীতে আওয়ামী লীগ আমলে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া কয়েকটি পোস্টে দেখা যায়, তিনি পুলিশের তৎকালীন আইজিপি বেনজীর আহমেদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করেছেন। অনেকে এটিকে “দুইপাশে খেলা করা গুপ্ত রাজনৈতিক অবস্থান” বলে মনে করছেন।
৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর, দেশজুড়ে ৬৬৪টি থানা ও পুলিশ ফাঁড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে লুট হয় ৫,৭৫০টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৬,৫১,৬০৯ রাউন্ড গোলাবারুদ। লুট হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে চায়না রাইফেল, শটগান, এলএমজি, এসএমজি, গ্যাস লঞ্চার এবং সাউন্ড গ্রেনেড। এ অস্ত্রসম্ভার বর্তমানে জেল পালিয়ে যাওয়া আসামি, সন্ত্রাসী ও চরমপন্থীদের হাতে চলে গেছে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে পুলিশ।
সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানায় হামলাকারীদের বয়স ছিল ১৭ থেকে ২২ বছর। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলাকারীরা জামায়াতে ইসলামীর ছাত্রসংগঠন শিবিরের সদস্য ছিল এবং তাদের কার্যক্রম ছিল জঙ্গি কৌশলের মতো। তারা দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে থানায় হামলা চালিয়ে ওসির বাসভবনেও আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে ১৭ পুলিশ সদস্য নিহত হন।
সরকারি তদন্ত প্রক্রিয়ার ধীরগতির কারণে নিহতদের পরিবারগুলোর মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। পরিবারের অভিযোগ, যথাযথ তথ্য ও সহানুভূতির অভাবে তারা বঞ্চিত ও অবহেলিত বোধ করছেন।