
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে গণঅধিকার পরিষদ। এ সময় হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও জলকামান ব্যবহার করে। তবে এ দিন মাঠে দেখা যায়নি গতদিন দলটির সভাপতি নুরুল হক নূরকে বেধড়ক পেটানো সেনাবাহিনীকে। সূত্র জানায়, জামায়াতের সমর্থন নিয়ে শনিবারও জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায় গণঅধিকার পরিষদ। আর এতে ব্যবহার করা হয়েছে জামায়াতের কৌশলে।
সূত্রমতে, জামায়াত-শিবিরের যে দলটি পূর্বে মব সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত ছিল, তারা এখন প্রশাসনকে চাপ দিয়ে এবং ফেসবুকে পোস্ট করে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা দলের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করছে। এই কৌশলের মাধ্যমে তারা পুলিশকে ও সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করছে।
এর আগে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে জামায়াত-শিবির। তবে বিএনপির নেতা হওয়ায় তাকে গ্রেপ্তারের জন্য চাপ দিলেও এখনও প্রশাসন এ ব্যাপারে রাজি হয়নি।
জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীদের ‘কালো শক্তি’ আখ্যায়িত করায় ফজলুর রহমানকে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভে নেমেছিল জামায়াত-শিবির ও তাদের সমর্থকেরা। এরইমধ্যে ফজলুর রহমানের পদ তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছে বিএনপি।
অভিযোগ উঠেছে, নির্বাচনী পরিবেশ অস্থিতিশীল করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পরিকল্পিতভাবে উসকানিমূলক ঘটনার জন্ম দেওয়া হচ্ছে। এর পেছনে জামায়াত-হিযবুতের সক্রিয়তা ও ইউনূসের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে একটি বিশৃঙ্খল চক্র কাজ করছে—যারা চায় নির্বাচনকে বিলম্বিত করতে।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে যে ধরনের জনতা-নির্ভর আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তাতে সুশীল সমাজের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চট্টগ্রামে বাম সংগঠনের এক কর্মসূচিতে প্রকাশ্যে এক নারীকে লাথি মারার ঘটনা এবং পরে অভিযুক্ত শিবির নেতাকে ফুলেল শুভেচ্ছা—এই দুই চিত্রই প্রশ্ন তোলে, এই ‘মব’ সংস্কৃতির উৎস কী?
বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। আর নির্বাচনের আগে এমন পরিবেশে ভোটাররাও তাদের ভোট ঠিকভাবে দিতে পারবে না। এতে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধই থাকবে।
এই ধরনের কর্মকাণ্ড স্পষ্ট করে যে, একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল—নির্বাচন ঠেকাতে বা বিলম্বিত করতে সমাজে ভয়, বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মব সংস্কৃতি ও সহিংসতা যদি এখনই রোধ করা না যায়, তাহলে আসন্ন নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে। এমন প্রেক্ষাপটে পুরো জাতি একটি অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগোচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জাপার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলার ঘটনাটি শুধু তাৎক্ষণিক সহিংসতা নয়, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক কৌশলের অংশ।
তাদের মতে, “গণঅধিকার পরিষদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড জামায়াত-শিবিরের পুরনো কৌশলের পুনরাবৃত্তি। মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে জনমনে ভীতি তৈরি করা এবং নির্বাচনকালীন রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ানো।”
সংশ্লিষ্টদের মতে, “ফেসবুক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে গোষ্ঠীগত আক্রমণের সংস্কৃতি তৈরি হচ্ছে। এটা শুধু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে সমাজে ঘৃণা ও সহিংসতা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে।”