
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশে মবের ঘটনা শুধু বিশৃঙ্খলা নয়; বরং তা রাজনৈতিক উদ্দেশে ব্যবহার করা হচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থা- মানাবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) জানিয়েছে, ইউনূস সরকারের অধীনে গণপিটুনিতে মৃত্যুর সংখ্যা আগের মাসের তুলনায় বেড়েছে, কিন্তু এই সহিংসতার অনেকটাই মবের আড়ালে রাজনৈতিক ও উগ্রপন্থীদের হামলা। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এটি শুধুমাত্র নাগরিকদের নিরাপত্তা বিপন্ন করছে না, বরং সরকারের রাজনৈতিক ও নৈতিক দায়ও লোপ পাচ্ছে।
মানবাধিকার সংস্থা মানাবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে আগস্টে গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনা এর আগের মাসের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। আগষ্টে ২৩ জনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে, যেখানে জুলাইতে সংখ্যা ছিল ১৬। তবে যেসব ঘটনা ঘটছে সবগুলোকে মব নয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মব লেবেল লাগিয়ে, ইউনুস সরকারকে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে পরিকল্পিত আক্রমণের জন্য। এতে তারা দায় এড়ানোর সুযোগ পাচ্ছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল মিউজিয়াম এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের শত শত বাসভবনে আক্রমণ। গত বছরের আগস্ট ও অক্টোবরে প্রধান বিচারপতি ও আপিল বিভাগ এবং হাইকোর্ট বিভাগের সিনিয়র বিচারকদের পদত্যাগ দাবি করে সর্বোচ্চ আদালতের ঘেরাও।
সাম্প্রতিককালে অন্তত ১২টি জেলায় জাতীয় পার্টির অফিসে আক্রমণ। এসবগুলোই মবের ঘটনা হিসেবে বলা হয়েছে। তবে এগুলো প্রকৃতপক্ষে ছিল ইউনূস সরকারের সমর্থিত রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর রাজনৈতিক সহিংসতা। যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রয়েছে এনসিপি, গণঅধিকার পরিষদ, বিএনপি, জামায়াত। এই আক্রমণগুলো নিঃসন্দেহে সমন্বিত ছিল। এখানে মবের আড়ালে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ইউনূস সরকারের গোপন অনুমোদন কাজে লাগানো হয়েছে।
ধর্মের নামে যেসব মব করা হচ্ছে তাকে সহজভাবে দেখলে হবে না। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ইউনূস সরকারের মদদে বাংলাদেশে এক শয়ের বেশি সুফি মাজার ও দরবার শরীফে আক্রমণ হয়েছে উগ্র ইসলামপন্থীদের দ্বারা। বাস্তবে তথাকথিত এই তৌহিদি জনতা হল এসব ইসলামপন্থী গোষ্ঠী ও ইউনূসের মিত্র রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জামায়াতে ইসলামি ইত্যাদি) কর্মী, অনুসারী এবং সমর্থক।
ইউনূস সরকারের প্রতিক্রিয়াও এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওপরে উল্লেখিত ঘটনায় ইউনূস সরকার নিন্দাও জানায়নি। বরং পরে তারা এই আক্রমণগুলোকে রাজনৈতিকভাবে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। যেখানে ইউনুস নিজে এই পরিকল্পিত সহিংসতাঁকে “বিপ্লবী মনোভাবের কার্যক্রম” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার প্রেস অফিস এসব মবকে প্রেসার গ্রুপ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
অন্যান্য ক্ষেত্রে, যদিও নিন্দা জানানো হয়েছে। তবে সরকারি কথা এবং বাস্তব ফলাফলের মধ্যে স্পষ্ট অসঙ্গতি দেখা গেছে। সুপ্রমাণিত এই আক্রমণগুলোর পরও গ্রেপ্তার এবং মামলা পরিচালনা ধীরগতিতে হয়েছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, সমসাময়িক বাংলাদেশে অনেক বিশৃঙ্খলার ঘটনা মব বলে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে এটি বিপজ্জনকভাবে সত্যকে আড়াল করে। ইউনূস সরকারের অধীনে সংঘটিত অনেক হিংসা গভীরভাবে সংগঠিত, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত, এবং কৌশলগতভাবে ব্যবহার করা হয়।