
নিজস্ব প্রতিবেদক
আমেরিকায় থাকা বাংলাদেশি প্রবাসীদের বাধার সম্মুখীন হওয়ার ভয়ে জামায়াত-বিএনপির নেতাদের নিয়ে জাতিসংঘে যাচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। সরকার, বিএনপি ও বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, এবারের জাতিসংঘ সফরে প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী হচ্ছেন- বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ূন কবির, জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, জাতীয় নাগরিক পার্টির এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন।
দুদিন পর ড. ইউনূসের সফরে যোগ দেবেন ডা. তাসনিম জারা ও জামায়াতের প্রয়াত আমির মতিউর রহমান নিজামির ছেলে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেনও।
বিমানবন্দরের ফ্ল্যাইট সিডিউলে দেখা যায়, রোববার দিবাগত রাত ১টা ৪০ মিনিটের এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ইকে-৫৮৫ ফ্লাইটটি যুক্তরাজ্যের নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়ে যাবে। যে ফ্লাইটেই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তার সফরসঙ্গীদের যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার কথা রয়েছে।
এরইমধ্যে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে। বিশ্বস্ত সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বিএনপির নেতা ইশরাক হোসেনের নেতৃত্বে যখন ঢাকায় আন্দোলন উত্তাল, তখন লন্ডনে ইউনূসের পক্ষ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ তারেক রহমানের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের ওপর কমিশন খাওয়ার অভিযোগ নতুন নয়। এক সময় তার ‘হাওয়া ভবন’ রাজনৈতিক ক্ষমতার বিকল্প কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল, যেখানে দেশের যে কোনো ব্যবসায় ১০ শতাংশ কমিশন নির্ধারণ করে আদায় করা হতো—এ কথা দেশবাসীর অজানা নয়।
এর আগে প্রধান উপদেষ্টা টেলিফোনে আমিরে জামায়াতের সঙ্গে এক আলোচনায় আশ্বস্ত করেছিলেন, আপনারাও আমাদের পছন্দের মানুষ, আমাকে সময় দিন, আমি প্রমাণ করব যে আমি নিরপেক্ষ এবং একটি সুষ্ঠু, অবাধ নির্বাচনের জন্য যা করা দরকার আমি সেটাই করব। আপনারা আমাকে একটু সুযোগ দিন।
এসব বিষয় থেকে স্পষ্ট যে ইউনূস এখন কয়েকটি দলকে ক্ষমতায় আনার জন্য পুরোদমে উঠেপড়ে লেগেছে। আর এসব দেখেই বিশ্লেষকেরা বলছেন, ইউনূসকে আর নিরপেক্ষা ভাবার সুযোগ নেই। তিনি এখন জামায়াত-বিএনপির মুখপাত্র হিসেবে কাজ করছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর ড. মুহাম্মদ ইউনূস জামায়াতের সঙ্গে মিলে দেশ পুনর্গঠনের কথা বলেছেন, যা ১৯৭১ সালে জামায়াতের পাকিস্তানপন্থী অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ১৯৭১ সালে ৩০ বছর বয়সী তরুণ ইউনূস মুক্তিযুদ্ধে কোনো ভূমিকা রাখেননি, যা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘ সফরে বিএনপি-জামায়াত নেতাদের সঙ্গে নেওয়ার সিদ্ধান্ত মূলত প্রবাসীদের প্রতিবাদ ঠেকানো এবং আন্তর্জাতিক মহলে রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের কৌশল। এই পদক্ষেপ সরকারের অন্তর্বর্তী কাঠামোতে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে এবং নির্বাচনকে আরও বিতর্কিত করার ঝুঁকি রয়েছে।