Insight Desk
প্রকাশ : Mar 5, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

ইউনূসের প্রটোকল আইন ও ‘সেইফ এক্সিট’ নিয়ে প্রশ্ন

প্রটোকল আইন, বিদেশ পোস্টিং ও ‘সেইফ এক্সিট’ বিতর্ক: আলোচনায় সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও সামরিক কর্মকর্তারা।

ক্ষমতা হস্তান্তরের মাত্র দুই দিন আগে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস নিজের জন্য ক্ষমতা ছাড়ার পরও এক বছর সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় প্রটোকল (Protocol) নিশ্চিত করার বিধান তৈরি করেছেন—এমন অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।

সমালোচকদের দাবি, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সীমিত দায়িত্বের কাঠামোর বাইরে গিয়ে এমন আইন প্রণয়ন নৈতিক প্রশ্ন তোলে। তাদের মতে, ক্ষমতা ছাড়ার প্রাক্কালে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত জনসমক্ষে পর্যাপ্ত আলোচনার সুযোগ পায়নি। তবে ইউনূসের ঘনিষ্ঠরা বলছেন, এটি ছিল নিরাপত্তা ও প্রটোকল-সংক্রান্ত একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, ব্যক্তিগত সুবিধা নয়।

সামরিক অঙ্গনে ‘কানাঘুষা’ ও বিদেশ পোস্টিং

এদিকে গত প্রায় ১৮ মাসে কয়েকজন প্রভাবশালী সামরিক কর্মকর্তা সেনাপ্রধানকে পাশ কাটিয়ে অভ্যন্তরীণ প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছেন—এমন কানাঘুষাও রাজনৈতিক মহলে শোনা যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা সাবেক প্রধান উপদেষ্টার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং সেনাবাহিনীর ভেতরে নীতিগত পরিবর্তনের উদ্যোগে যুক্ত ছিলেন।

যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে প্রকাশ্য কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি, তবুও বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর ওই তিন কর্মকর্তার বিদেশে দূতাবাসে নিয়োগ পাওয়াকে অনেকে ‘সেইফ এক্সিট’ (Safe Exit) হিসেবে দেখছেন। সমালোচকদের মতে, সম্ভাব্য তদন্ত বা অভ্যন্তরীণ পুনর্বিন্যাস এড়াতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সরকারি সূত্র বলছে, কূটনৈতিক মিশনে সামরিক কর্মকর্তাদের নিয়োগ দীর্ঘদিনের প্রচলিত প্রথা। এটি কোনো বিশেষ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

বর্তমানে ক্ষমতায় থাকা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (BNP) আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিয়ে বিস্তৃত মন্তব্য না করলেও দলটির একাংশ বলছে, পূর্ববর্তী সময়ের সিদ্ধান্তগুলো খতিয়ে দেখা হবে।

অন্যদিকে ক্ষমতাচ্যুত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এ ইস্যুতে সরাসরি অবস্থান না নিলেও দলটির নেতাদের কেউ কেউ বলছেন, তত্ত্বাবধায়ক আমলের নানা পদক্ষেপ এখন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

বিশ্লেষণ কী বলছে

বিশ্লেষকদের মতে, অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের এই পরিবেশে স্বচ্ছ তদন্ত ছাড়া স্পষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন। তবে ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে নেওয়া নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তী নিয়োগ প্রক্রিয়া—দুটিই এখন রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

প্রশ্ন রয়ে গেছে, এসব সিদ্ধান্ত ছিল প্রশাসনিক প্রয়োজন, নাকি বৃহত্তর ক্ষমতার সমীকরণের অংশ। এর উত্তর খোঁজার দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

‘প্রোটোকল দিয়ে আমাকে বনবাসে দিয়ে গেল’: শেখ হাসিনা

1

৪৫ হাজার কোটি বকেয়া, লোডশেডিংয়ে জিম্মি বাংলাদেশ

2

রাউজানে প্রশাসন নীরব, অপরাধীরা দাপটের সঙ্গে চলাফেরা: ইউনূস স

3

‘৩ দিনে কলকাতা দখল’-এর হুমকি থেকে ডাকাতির অভিযোগ: গ্রেপ্তারদ

4

হোলি আর্টিজান হামলা ও ৯ বছর পর জঙ্গি নিয়ে বিতর্ক: সরকার কি চ

5

আমেরিকার খায়েশ মেটাতে বলির পাঁঠা বানানো হচ্ছে বাংলাদেশি সেনা

6

আমাকে সরিয়ে দেশ কী পেল?’ এক সচিবের আক্ষেপ

7

চট্টগ্রামে বিএনপি-জামায়াতের হামলায় ছাত্রলীগ কর্মী নিহত

8

১৫ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিলুপ্তির চিন্তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

9

অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য খাতে মহাদুর্নীতি: পদোন্নতির না

10

১৫০ বিলিয়নের স্বপ্ন, রফতানিতে বাস্তবতা ভিন্ন?

11

গণতন্ত্র জোর করে প্রতিষ্ঠা করা যায় না, গণতন্ত্র গড়ে ওঠে জনগণ

12

সাংবাদিকদের সঙ্গে অভদ্র আচরণে সমালোচনার মুখে ডাকসু নেত্রী রা

13

প্রতিমন্ত্রীকে বহনকারী গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ গেল বৃদ্ধা ফিরোজা

14

বাংলাদেশে চলছে চাঁদাবাজি, ধর্ষণ, ডাকাতি ও মবের রাজত্ব

15

আসিফের ব্যাগ থেকে পাওয়া গেছে একে-৪৭ এর অ্যামোনেশন ম্যাগজিন

16

কলেজছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ, এনসিপি নেতা জাহিদ মুন

17

বরিশাল আইনজীবী সমিতির সভাপতি লিংকন গ্রেপ্তার, কারাগারে প্রের

18

মুক্তিযোদ্ধা ছিলাম — এই কথাটাই আজ নিষিদ্ধ করতে চাচ্ছে যারা

19

রাজনীতির উত্তাপের মাঝেও বিদ্যুতে ভারতের ওপর নির্ভরশীল বাংলাদ

20