নিজস্ব প্রতিবেদক
বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তিকে ঘিরে থাকা ‘এপস্টাইন নেটওয়ার্ক’ সম্পর্কিত কিছু পুরোনো নথি ও ইমেইল নতুন করে অনলাইনে আলোচনার ঝড় তুলেছে। এসব নথির আলোচনায় নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নামও ঘুরে ফিরে আসায় অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—তার আন্তর্জাতিক লবিং নেটওয়ার্কে কারা ছিল, এবং তারা কীভাবে তার গ্লোবাল ব্র্যান্ডিংয়ে ভূমিকা রেখেছিল।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ইমেইলকে ঘিরে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। সেখানে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে ড. ইউনূসের আন্তর্জাতিক প্রচার কার্যক্রমের যোগাযোগের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এই ব্যক্তিরা অতীতে বিভিন্ন বিতর্কিত প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে কাজ করেছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো আগে থেকেই লিখে আসছিল।
‘দ্য সিম্পসন্স’-এ ড. ইউনূসের চরিত্রের অন্তর্ভুক্তি নিয়েও আলোচনায় এসেছে যে, এটি তাদের আন্তর্জাতিক প্রচার পরিকল্পনার একটি অংশ ছিল। তবে এসব বক্তব্যের কোনওটাই স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে বৈশ্বিক অঙ্গনে ড. ইউনূসের অবস্থান শক্তিশালী করতে যে লবিং নেটওয়ার্ক কাজ করেছে, তার ভেতরের গঠন ও প্রভাব সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায় না। ফলে যে কেউ বিতর্কিত নাম জড়িয়ে দিলে তা নিয়ে সহজেই প্রশ্ন তৈরি হয়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের যেকোনো নথি বা ইমেইলকে যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, যাচাইহীন তথ্য প্রায়ই ভুল ব্যাখ্যা, ভুল বোঝাবুঝি বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপব্যবহারের কারণ হতে পারে।
ড. ইউনূসের নোবেল পুরস্কার ও বিশ্বব্যাপী সহযোগিতামূলক কাজের কারণে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় ছিলেন। নতুন করে ফাঁস হওয়া এই নথিগুলো তার লবিং নেটওয়ার্ক সম্পর্কে প্রশ্ন তুললেও—এসব অভিযোগের কোনোটিই এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার স্বার্থে যেকোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির আন্তর্জাতিক সংসর্গ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে যথাযথ তদন্ত হওয়া উচিত—যাতে সত্য ও গুজবের বিভ্রান্তি দূর হয়।
মন্তব্য করুন