Insight Desk
প্রকাশ : Feb 2, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

এপস্টেইনের পাশে থাকা ব্যক্তি কে? চট্টগ্রাম বন্দর ঘিরে উঠছে বড় প্রশ্ন

 বিশেষ প্রতিবেদন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া একটি ছবি ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশের সবচেয়ে কৌশলগত অবকাঠামো—চট্টগ্রাম বন্দর। ছবিতে কুখ্যাত অর্থপতি জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে যাকে দেখা যাচ্ছে, তিনি দুবাইভিত্তিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান DP World-এর একজন শীর্ষ নির্বাহী বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রে দাবি করা হচ্ছে।

এই ঘটনাটি আলোচনায় আসে এমন এক সময়ে, যখন আইনি ও নীতিগত জটিলতার মধ্যেই অন্তর্বর্তী ইউনুস সরকার দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচালন দায়িত্ব DP World-কে দিয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রশ্নটা কোথায়?

বিশ্লেষকদের মতে, প্রশ্নটা শুধু কোনো ব্যক্তির পরিচয় ঘিরে নয়। প্রশ্নটা রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে।

যখন একটি দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত বন্দর—

সংসদীয় বিতর্ক ছাড়াই

জনসমক্ষে বিস্তারিত চুক্তি প্রকাশ না করে

জাতীয় ঐকমত্য গড়ে না তুলে

বিদেশি একটি কর্পোরেশনের হাতে তুলে দেওয়া হয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহ ও প্রশ্ন তৈরি হয়।

DP World-এর প্রভাব ও বৈশ্বিক সংযোগ

DP World বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত। প্রতিষ্ঠানটির পশ্চিমা শক্তি ও মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী লবিগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
এমন বাস্তবতায়, ভাইরাল হওয়া ছবিতে এপস্টেইনের পাশে থাকা ওই ব্যক্তির অতীত যোগাযোগ ও নেটওয়ার্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠছে— চট্টগ্রাম বন্দর কি ধীরে ধীরে এমন এক ভূরাজনৈতিক প্রভাব বলয়ে প্রবেশ করছে, যা বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে?

এখনো অভিযোগ নয়, কিন্তু প্রশ্ন জরুরি

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনো পর্যন্ত এসব বিষয়ে কোনো সরাসরি প্রমাণ সামনে আসেনি। তবে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নিয়ে যদি সিদ্ধান্তগুলো অন্ধকারে হয়, তাহলে জনমনে সন্দেহ জন্ম নেওয়াই স্বাভাবিক।
সরকারের নীরবতা

এই বিষয়ে এখনো পর্যন্ত সরকার বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা কিংবা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। DP World-এর সঙ্গেও চুক্তির পূর্ণ শর্তাবলি প্রকাশ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
উপসংহার

চট্টগ্রাম বন্দর শুধু একটি বাণিজ্যিক স্থাপনা নয়—এটি বাংলাদেশের অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক অবস্থানের প্রাণকেন্দ্র।

সেই বন্দরের ভবিষ্যৎ যদি প্রশ্নের মুখে পড়ে, তবে তা এড়িয়ে যাওয়া নয়—বরং খোলাখুলি আলোচনার মাধ্যমেই জনস্বার্থে উত্তর খোঁজা প্রয়োজন।

কারণ এটি এখনো প্রমাণ নয়— কিন্তু প্রশ্ন তোলার মতো বিষয় নিশ্চয়ই।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রাজনীতির উত্তাপের মাঝেও বিদ্যুতে ভারতের ওপর নির্ভরশীল বাংলাদ

1

সিলেটে প্রকাশ্যেই পাথর লুট করছে বিএনপি নেতারা, প্রশাসনের নীর

2

শেখ হাসিনার কথাই সত্যি হলো, নিজেদের দোষ অকপটে স্বীকার করলেন

3

রাজনৈতিক অঙ্গনে স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন

4

মুক্তিযুদ্ধের আলোচনায় হামলা ও লতিফ সিদ্দিকী গ্রেপ্তার; গণতন্

5

হোটেল ওয়েস্টিনে নাগরিকমৃত্যু নিয়ে মার্কিন দূতাবাসের মিথ্যা

6

চা বিক্রেতা থেকে গাড়ির ব্যবসা, দারোয়ানের ছেলে রনির ৫ আগস্টের

7

গণতন্ত্র জোর করে প্রতিষ্ঠা করা যায় না, গণতন্ত্র গড়ে ওঠে জনগণ

8

সাজানো–গোছানো কক্ষ, চিকিৎসা সরঞ্জাম নেই, মাঝপথে সমাপ্ত স্বাস

9

লোডশেডিং-তেল সংকটে আনোয়ারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুর্ভোগ, গরম

10

অটিস্টিক শিশুকে ধর্ষণ: যুক্তরাজ্যের আদালতের রায়ে ক্ষুব্ধ প্র

11

সামরিক নির্ভরতার ফাঁদ ও ৫ আগষ্ট

12

পরিবেশবাদীর আড়ালে চাঁদাবাজি করা রিজওয়ানার এবার মব নিয়ে মি

13

কাঁদল বাংলাদেশ, ৩২ আতঙ্কে ঘুম হারাম ইউনূস গংদের

14

চোট থেকে ফেরার পথে বাংলাদেশের পেস ত্রয়ী

15

কাজ কথা বলে, সময় তার সাক্ষী, রূপপুরে দৃশ্যমান উন্নয়নের শক্ত

16

১০ মাসেই অনিয়ম-দুর্নীতির রেকর্ড গড়ল ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরক

17

কেরানীগঞ্জে ব্যবসায়ীকে গুলি, ককটেল ফাটিয়ে ২৫ ভরি সোনা লুট

18

ইউনূসের কাছ থেকে মোটা অংকের কমিশন নিয়েছেন তারেক, গ্যাঁড়াকলে

19

শ্রমবাজারে নতুন সিন্ডিকেট; নিয়ন্ত্রণে ইউনূসের ঘনিষ্ঠ সহচর ল

20