Insight Desk
প্রকাশ : Sep 27, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

যুবদল নেতা নয়নের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দখলচেষ্টা ও অস্ত্রবাজির অভিযোগ অতিষ্ঠ নগরবাসী

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম নয়নকে ঘিরে চাঁদাবাজি, দখলদারি, অস্ত্রবাজি এবং রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহারের একাধিক অভিযোগ নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকেই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে টেলিভিশন কার্যালয়ে হামলা, ব্যাংক দখলচেষ্টা এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সবকটি আদালতে প্রমাণিত নয় এবং নয়নের পক্ষ থেকে বিভিন্ন অভিযোগ অস্বীকার বা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সময় টিভির কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় নয়নের নেতৃত্বের অভিযোগ প্রকাশ করেছে ড্রিকনিউজ। ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা তৎকালীন এক পরিচালকের কাছে ২ কোটি টাকা দাবি করেছিলেন। 

এর কিছুদিন পর ইসলামী ব্যাংক ঘিরেও নয়নের নাম আলোচনায় আসে। ১১ আগস্ট ২০২৪ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের এক প্রতিবেদনে তাঁকে ব্যাংক দখলচেষ্টা, চাঁদাবাজি ও অস্ত্রবাজির অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। পরে ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের ওপর হামলা ও গুলির ঘটনায় নয়নসহ চারজনের নামে মামলা হয় বলেও জাগো নিউজ জানিয়েছে। 

সাম্প্রতিক সময়েও নয়নের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রকাশ্যে দাবি করেন, নয়ন যে পরিমাণ চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি করেছেন, সেই অর্থ দিয়েও গণভোট আয়োজন সম্ভব। এই বক্তব্যকে ‘মিথ্যা, বানোয়াট ও মানহানিকর’ দাবি করে ২০২৫ সালের নভেম্বরে নাসীরুদ্দীনের বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে মামলা করেন এক যুবদল নেতা। আদালত অভিযোগটি তদন্তে ডিবিকে নির্দেশ দেয়। 

এ ছাড়া নয়নের বিরুদ্ধে জমি দখল, ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখানো, ব্ল্যাকমেইলিং ও চাঁদা দাবির অভিযোগও বিভিন্ন মহলে রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সবগুলোর ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য নথি বা চূড়ান্ত বিচারিক সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা প্রয়োজন।

তবু ধারাবাহিকভাবে একই ধরনের অভিযোগ সামনে আসায় প্রশ্ন উঠছে, রাজনৈতিক পরিচয় ও সাংগঠনিক প্রভাব ব্যবহার করে কেউ যদি বারবার চাঁদাবাজি, দখল কিংবা পেশিশক্তি প্রদর্শনের অভিযোগের মুখে পড়েন, তাহলে সেসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে কীভাবে?

রাজনৈতিক পরিচয় কাউকে আইনের ঊর্ধ্বে রাখে না। একইভাবে শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে কাউকে অপরাধীও ধরে নেওয়া যায় না। তাই নয়নের বিরুদ্ধে ওঠা প্রতিটি অভিযোগের স্বচ্ছ, স্বাধীন ও প্রমাণভিত্তিক তদন্তই নির্ধারণ করতে পারে কোন অভিযোগের সত্যতা কতটুকু।

সূত্র: প্রথম আলো, বিডিনিউজ২৪, জাগো নিউজ, দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস, ড্রিকনিউজ।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে জননেত্রী শেখ হা

1

ডাকসু নেত্রী রাফিয়ার বাসার ‘আগুন’ ও ‘ককটেল বিস্ফোরণ’: শিবিরি

2

গোপালগঞ্জে গুলি চালাল সেনাবাহিনী-পুলিশ, মামলা হচ্ছে আ.লীগ নে

3

মার্কিন সেনাদের উপস্থিতির পর মাজারে বেড়েছে হামলা

4

দলে ফিরলেন শামীম-নাঈম, ওয়ানডেতে প্রথমবার তানভির

5

দেশজুড়ে সিরিজ বোমা হামলা: জামায়াত-শিবিরের প্রত্যক্ষ রাজনীতিত

6

ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদগুলোতে শিবিরক

7

বিএনপি-জামায়াতের পাল্টাপাল্টি নৌকা বাইচ, শেষ পর্যন্ত ১৪৪ ধার

8

জুলাইকে ব্যবহার করে বাংলাদেশকে লুটে খাচ্ছে ইউনূস ও সমন্বয়কের

9

আওয়ামী লীগে যোগ দিলেন, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট

10

ইউনূসের সফরসঙ্গীতে মানবতা বিরোধী অপরাধীর সন্তান, প্রশ্নের মু

11

৫ আগস্ট ২০২৪–এর পর বাংলাদেশ কী হারাল?

12

ইয়াবার প্রতি প্রবল আসক্ত আয়াস, ঘনিষ্ঠ বন্ধুর বিস্ফোরক দাবি

13

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনে নির্বাচন কমিশনকে কানাডা প্রবাসী

14

দুদকের অনুসন্ধানে ১০০ কোটির প্রকল্প ও ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যব

15

ধানমন্ডি ৩২-এ ফুল দিতে গিয়ে গ্রেপ্তার ছাত্রলীগের তিন সদস্য

16

বাবা–মায়ের কবরের পাশে শায়িত হলেন জোয়াহেরুল ইসলাম

17

আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচন দেশে সংকট ডেকে আনবে

18

উপদেষ্টার মন্তব্যে বিতর্ক: 'আমি ফার্মের মুরগি খাই না, পাহাড়

19

সিলেটে আওয়ামী লীগ নেতা আবদুর রাজ্জাক ছুরিকাঘাতে খুন, ছাদে মি

20