Insight Desk
প্রকাশ : Jul 20, 2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গোপালগঞ্জে সেনাবাহিনীর নৃশংসতা, আন্তর্জাতিক জবাবদিহিতার দাবি

শেখ আবদুল্লাহ 

গোপালগঞ্জ, বাংলাদেশ; ১৬ জুলাই ২০২৫। গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উদ্যোগে গোপালগঞ্জে আয়োজিত একটি শান্তিপূর্ণ তথাকথিত ছাত্রনেতৃত্বাধীন সমাবেশ রূপ নেয় রক্তাক্ত বিভীষিকায়, যখন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালায়। এতে নিশ্চিতভাবে অন্তত ৫ জন নিহত হন, আরও অনেকের প্রাণহানির তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শী এবং দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন এক ভয়ঙ্কর সত্য উন্মোচন করেছে। এটি ছিল না কোনো জনদাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা, বরং এটি ছিল রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সংঘটিত সহিংসতা।

বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মস্থান হিসেবে পরিচিত গোপালগঞ্জ শহরটি সে দিন পরিণত হয় এক সুশৃঙ্খল হত্যাযজ্ঞের মঞ্চে; যেখানে ব্যবহার করা হয় সামরিক গ্রেডের অস্ত্র, জীবন্ত গুলি, এবং পূর্ব পরিকল্পিত আক্রমণ। আন্তর্জাতিক অপরাধ গবেষণা ফাউন্ডেশন (আইসিআরএফ)-এর মতে, সেনাবাহিনীর এই আক্রমণ ছিল পূর্বনির্ধারিত  । জাতিসংঘে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক চিঠিতে আইসিআরএফ এই ঘটনাকে গণহত্যামূলক হামলা হিসেবে অভিহিত করেছে, যা মূলত সরকারবিরোধী কণ্ঠরোধের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়েছে।

গোপালগঞ্জে আসলে কী ঘটেছিল?

১৬ জুলাই দুপুর আনুমানিক ১:৩০ মিনিটে গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজের পাশে স্থানীয় নাগরিকরা শান্তিপূর্ণভাবে জড়ো হতে থাকেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল অবৈধ কার্যকলাপ এবং একটি অনিবন্ধিত রাজনৈতিক দল এনসিপি’র বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো, যারা সন্ত্রাসবাদে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত। প্রত্যক্ষদর্শীরা নিশ্চিত করেন যে, বিক্ষোভকারীরা পুরোপুরি নিরস্ত্র ছিলেন এবং তাদের কাছ থেকে কোনো হুমকি আসেনি, কারো হাতেই কোনো অস্ত্র ছিল না।

তবুও, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে সেখানে মোতায়েন করা হয়, সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দিতে নয়, বরং ভয়ানকভাবে দমন করতে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেনাবাহিনী সরাসরি বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালায়, যাতে বহু মানুষ নিহত ও আহত হন। যারা পালিয়ে বাঁচার চেষ্টা করেন, তাদেরকেও ধাওয়া করে বেধড়ক মারধর করা হয়।

অত্যন্ত উদ্বেগজনকভাবে, নিহতদের জন্য কোনো ময়নাতদন্ত করা হয়নি এবং অনেক মরদেহ রাতে সেনা পাহারায় দ্রুত কবর দেওয়া হয়, যাতে প্রমাণ ধ্বংস করা যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এটি কোনো বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ ছিল না। এটি ছিল রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট এক গণহত্যা, যার দায় দুই ব্যক্তির কাঁধে নিঃসন্দেহে বর্তায়: প্রথমত জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান। দ্বিতীয়ত অনির্বাচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

সেনাপ্রধানের ভূমিকা: ওয়াকার-উজ-জামান

আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, কোনো দেশের সেনাবাহিনীর দ্বারা অভ্যন্তরীণ শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নিরস্ত্র নাগরিকদের ওপর অস্ত্র প্রয়োগ করা মানবাধিকারের মারাত্মক লঙ্ঘন। অথচ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এই প্রাণঘাতী হামলার অনুমতি দিয়েছেন; এমনকি অনেকে মনে করেন, তিনিই হয়তো সরাসরি এই আদেশ দিয়েছেন।

এই হত্যাযজ্ঞের পর তার নীরবতা যেন সেই গুলির শব্দের মতোই বেদনাদায়ক। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষত জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলকে অবশ্যই জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানকে জেনেভা কনভেনশন এবং রোম সংবিধির অধীনে কমান্ড দায়বদ্ধতার জন্য জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস: দমন-পীড়নের বেসামরিক মুখ

যদিও ড. ইউনূস একজন শান্তিপ্রিয় নোবেলজয়ী হিসেবে পরিচিত, বাস্তবে তিনি এখন এমন একটি সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দমনমূলক শাসন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তার প্রশাসনের অধীনেই সেনাবাহিনীকে বিরোধী মত দমন করার অবারিত স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে।

নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু করার বদলে ড. ইউনূস বিক্ষোভকারীদের দোষারোপ করার চেষ্টা করেন। তার এই প্রকাশ্য বক্তব্যগুলো একটি সরকারের নৈতিক বৈধতা অর্জনের ব্যর্থ চেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যারা আসলে এক ভয়াবহ অপরাধ ঢাকতে চাইছে।

এ কথাও ভুলে গেলে চলবে না যে, ড. ইউনূস অতীতেও তার আন্তর্জাতিক প্রভাবকে ব্যবহার করে বিরোধী মতকে দমন করেছেন এবং বিদেশে বাংলাদেশের প্রকৃত পরিস্থিতি আড়াল করতে ভূমিকা রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনা তার কথিত মানবতাবাদী ভাবমূর্তির ভয়াবহ দ্বিচারিতা উন্মোচন করেছে।

রাজনৈতিক দমন-পীড়ন

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যখন এনসিপিকে একটি প্রতীকী ঐতিহ্যবাহী স্থান আক্রমণের জন্য উস্কানি দিয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো; গোপালগঞ্জের মর্যাদাকেই অপমান করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, যখন তারা দেশের সবচেয়ে পবিত্র রাজনৈতিক মাটিকে রক্তে রাঙিয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উত্তরাধিকারের পবিত্রতাকে ধ্বংস করেছে কেউ না, বরং তারই নিরাপত্তা রক্ষার শপথ নেওয়া বাহিনী।

আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি

এই ঘটনার ভয়াবহতা ও ব্যাপকতা বিবেচনায়, বর্তমান সরকারের অধীনে যেকোনো অভ্যন্তরীণ তদন্ত নিছক প্রহসন ছাড়া কিছুই হবে না। আন্তর্জাতিক অপরাধ গবেষণা ফাউন্ডেশন (আইসিআরএফ) ইতোমধ্যেই জাতিসংঘে এ বিষয়টি উপস্থাপন করেছে এবং একটি পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক তদন্ত শুরু করা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।

বিশ্ব সম্প্রদায়ের চোখ বন্ধ রাখা চলবে না। গোপালগঞ্জ গণহত্যা শুধু একটি জাতীয় শোক নয় ; এটি একটি ভয়াবহ মানবাধিকার সংকট, যা অবিলম্বে ন্যায়বিচার, দায়বদ্ধতা ও কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করে।

প্রাসঙ্গিক তথ্য ও উদ্ভাসিত প্রমাণ

জানা জরুরি যে, ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) বাংলাদেশে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নয়। তবে অনেকেই একে “রাজদরবারের দল” হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন ; যার প্রতিষ্ঠাতা ও পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর নাম উঠে এসেছে। এই অনানুষ্ঠানিক গোষ্ঠী রাষ্ট্রীয় আশীর্বাদ ও সুরক্ষা পাচ্ছে বলেও বিভিন্ন সূত্রে অভিযোগ উঠেছে; যা সরকারের নিরপেক্ষতা ও গণতান্ত্রিক বৈধতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে স্পষ্ট শোনা যায়, একজন বাংলাদেশ সেনা কর্মকর্তা চিৎকার করে বলছেন, “ফায়ার, ডাইরেক্ট ফায়ার, আবার ডাইরেক্ট ফায়ার!”

এটি প্রমাণ করে যে, সাধারণ জনগণের ওপর এই প্রাণঘাতী হামলা ছিল পূর্বপরিকল্পিত ও ইচ্ছাকৃত। এমনকি বেসামরিক নাগরিকদের ব্যাপক প্রাণহানির পরেও সেনাবাহিনী, পুলিশ বা এমনকি এনসিপি কর্মীদের কেউ আহত হয়েছে; এমন কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। এছাড়া, কোথাও এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে, বিক্ষোভকারীরা সেনাবাহিনীর ওপর কোনো অস্ত্র বা বস্তু দিয়ে আক্রমণ করেছিল। এসব তথ্য রাষ্ট্রীয় বর্ণনার বিরোধী এবং সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচারের দাবিকে আরও বৈধতা দেয়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই নিহতদের আওয়ামী লীগ কর্মী বলে অভিহিত করলেও, এই তথ্য পুরোপুরি সঠিক নয়। স্থানীয় প্রতিবেদন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, নিহতদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন সাধারণ নাগরিক, যারা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।

উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধেও উঠেছে গুরুতর অভিযোগ

গোপালগঞ্জে সংঘটিত সহিংস দমন-পীড়ন নিয়ে এবার তিনজন শীর্ষ পর্যায়ের উপদেষ্টার বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, আসিফ মাহমুদ ভূঁইয়া সজীব (স্থানীয় সরকার ও যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা), আসিফ নজরুল (আইন উপদেষ্টা), এবং জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা); এই তিনজনই একটি পুলিশ কন্ট্রোল রুম থেকে লাইভ মনিটরিং করছিলেন পুরো অভিযান।

আসিফ মাহমুদ তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে পোস্ট করেন, গোপালগঞ্জে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় কারফিউ জারি করা হয়েছে। জীবন-মৃত্যুর প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হবেন না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। নিষিদ্ধ সংগঠনের সন্ত্রাসীদের চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেওয়া হবে। সবকিছু পুলিশ কন্ট্রোল রুম থেকে মনিটরিং করা হচ্ছে এবং স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রধানরা প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন।

এই কারফিউ জারি এবং গুলি করার অনুমতিসহ যে অবস্থান নেওয়া হয়েছে, তা ক্ষমতার মারাত্মক অপব্যবহার এবং বেসামরিক পরিস্থিতিকে সামরিকীকরণের ইচ্ছাকৃত প্রয়াস বলে বিবেচিত হচ্ছে। এরমাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, সরকার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে 'রাজদরবারের দল' এনসিপির ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করছে — যা সেনাবাহিনীর অরাজনৈতিক ও পেশাদার চরিত্র-এর পরিপন্থী।

চূড়ান্ত কথা

২৪টি প্রাণ ঝরে গেছে। শত শত মানুষ আহত। পুরো জাতি এক আতঙ্কে স্তব্ধ হয়ে গেছে। তবুও, এই রক্তপাতের নেপথ্য কারিগররা এখনো মুক্ত, বেপরোয়া, এবং নিশ্চুপ। যদি জাতিসংঘ, মানবাধিকার সংস্থা এবং বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলো সত্যিই স্বাধীনতা, শান্তি ও ন্যায়বিচারের পক্ষপাতী হয়, তাহলে তাদের এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে। কারণ, গণহত্যার সামনে নীরবতা মানেই অংশীদারিত্ব।

লেখক: রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাবেক ছাত্রনেতা

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কোনভাবেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না বিএনপির চাঁদাবাজি, জনবিস্ফোরণের

1

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি: নিছক দুর্ঘটনা না কি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত

2

সংকটে এনসিপি, মার্কিন গুরুর দীক্ষা নিতে কক্সবাজারে এনসিপির ন

3

গণভোটের প্রচারের নামে ছয় মন্ত্রণালয় বাগিয়ে নিচ্ছে ১৪০ কোটি

4

সেনা সহায়তায় ইউনূস গংয়ের বিরুদ্ধে লাশ গুমের অভিযোগ, উত্তাল ম

5

নির্বাচন পর্যবেক্ষক ইস্যু: ভারতকে আমন্ত্রণ বাংলাদেশের, দিল্ল

6

জামায়াতকে জাতীয় নির্বাচনে জয়ের গ্রিন সিগনাল দিয়ে দিলেন ইউনূস

7

মার্কিন অর্থায়নে আরাকান আর্মিকে অস্ত্র দেবে তুরস্ক, বাস্তবা

8

গুপ্ত রাজনীতি করতে গিয়ে ধরা খেল চট্টগ্রামের এসপি

9

চট্টগ্রাম বন্দর বন্ধের হুমকি: নতুন ট্যারিফে ক্ষোভে ব্যবসায়ী

10

ইউনূসের এক বছরে দেশ অন্ধকারে, অর্থনীতি ধ্বংস

11

জাতিসংঘের নগ্ন হস্তক্ষেপে বিপন্ন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব

12

তারেক-ইউনূস বৈঠকের পর বিএনপিতে বেড়েছে মব সন্ত্রাস

13

বিএনপির দুর্নীতির টাকায় তাণ্ডব চালাতো জঙ্গিরা!

14

সাঙ্গপাঙ্গদের ভুলে শুধু নিজের আখেরটাই গোছালেন ইউনূস

15

কর্মজীবী নারীদের পতিতাদের সঙ্গে তুলনা: জামায়াতের বক্তব্যে ফু

16

কিশোরগঞ্জে বিএনপির অন্তর্কোন্দল: ধানের শীষে প্রার্থীর মিছিলে

17

পোপ লিও চতুর্দশের উদ্বেগ: বাংলাদেশে খ্রিস্টান সংখ্যালঘুদের ও

18

গ্যাঁড়াকলে ইউনূস, পলাতে চাইলেও মিলছে না অনুমতি

19

অক্টোবরে ২৩১ নারী ও কন্যাশিশু সহিংসতার শিকার: উদ্বেগজনক চিত্

20