Insight Desk
প্রকাশ : Feb 2, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

নির্বাচন সামনে রেখে জানুয়ারিতে সহিংসতা দিগুণ, মানবাধিকার পরিস্থিতি ‘ভয়াবহ’

বিশেষ প্রতিবেদক | ঢাকা

জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগে জানুয়ারি মাসে দেশে মানবাধিকার পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি ঘটেছে। গণপিটুনিতে নিহতের সংখ্যা আগের মাসের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে কারা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে মৃত্যু, অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধার, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা এবং নির্বাচনী সহিংসতা।

শনিবার প্রকাশিত মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) জানুয়ারি মাসের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে জানুয়ারির মানবাধিকার পরিস্থিতিকে ‘ভয়াবহভাবে সহিংস ও জটিল’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

এমএসএফের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে গণপিটুনিতে নিহত হন ১০ জন। জানুয়ারি মাসে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ জনে। সংগঠনটির মতে, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপের অভাব অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে। এটি আইনের শাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাহীনতার প্রতিফলন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জানুয়ারি মাসে অজ্ঞাত পরিচয় মরদেহ উদ্ধারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৭টি, যা ডিসেম্বরে ছিল ৪৮টি। একই সময়ে কারাগারে হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনাও বেড়েছে উদ্বেগজনকভাবে—ডিসেম্বরে যেখানে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল, জানুয়ারিতে তা বেড়ে ১৫ জনে দাঁড়ায়। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে আরও দুইজনের মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত করেছে এমএসএফ।

নির্বাচনী সহিংসতার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। ডিসেম্বর মাসে নির্বাচনী সহিংসতায় একজন নিহত হলেও জানুয়ারিতে নিহত হয়েছেন চারজন। একই সময়ে আহত হয়েছেন অন্তত ৫০৯ জন। পাশাপাশি রাজনৈতিক মামলায় ‘অজ্ঞাত আসামি’ করার প্রবণতাও বেড়েছে। ডিসেম্বরে এ সংখ্যা ছিল ১১০ জন, যা জানুয়ারিতে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২০ জনে।

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। জানুয়ারি মাসে মন্দির ও প্রতিমা চুরি কিংবা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে ২১টি, যেখানে আগের মাসে এ ধরনের ঘটনা ছিল মাত্র ছয়টি।

নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার চিত্রও গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। জানুয়ারিতে নারী ও শিশু নির্যাতনের মোট ২৫৭টি ঘটনার তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ধর্ষণের ঘটনা ৩৪টি এবং গণধর্ষণের ঘটনা ১১টি।

এমএসএফ সব ঘটনার দ্রুত, নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্তের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ন্যায়বিচারের প্রতি মানুষের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

গৃহযুদ্ধ বাঁধিয়ে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ নিতে চায় আমেরিকা

1

রাউজানে প্রশাসন নীরব, অপরাধীরা দাপটের সঙ্গে চলাফেরা: ইউনূস স

2

তবে কি আরেক পিলখানা হত্যাযজ্ঞ দেখতে যাচ্ছে বাংলাদেশ?

3

গভীর রাতে ঢাবিতে মঞ্চ নাটক, প্রশাসনের দুর্বলতায় সংকটকে ছাত্র

4

শেখ হাসিনার কথাই সত্যি হলো, নিজেদের দোষ অকপটে স্বীকার করলেন

5

২০২৫: সহিংসতা, নির্যাতন ও মানবাধিকার সংকট

6

সংখ্যালঘু নিরাপত্তা ও ভারত সম্পর্ক নিয়ে বিএনপির অবস্থান জানা

7

চাইলাম কি আর পাইলাম কি—এই তো লাল স্বাধীনতা

8

মার্কিন ‘কটন ক্লজে’ চাপে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প, খরচ বাড়ার আ

9

ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গ্রামীণ সংস্থাগুল

10

পিনাকি-ইলিয়াস ও ইউনূসের নির্দেশে ভিপি নূরের ওপর ভয়াবহ হামলা

11

ফের জাতির সঙ্গে প্রেস সচিবের প্রতারণা: মালয়েশিয়ায় শ্রমিক সুব

12

৫ আগস্টের পর জঙ্গিবাদের আস্ফালনে, ভয়-উৎকণ্ঠায় তটস্থ জনগণ

13

তারাকান্দা থানায় মামলা বাণিজ্যের মহোৎসব, স্থানীয় আওয়ামী লীগ

14

রক্তে রাঙানো একুশ—শোক থেকে আত্মমর্যাদার অভিযাত্রা

15

১৫ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিলুপ্তির চিন্তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

16

ভোট জালিয়াতির মাধ্যমে ঢাবিকে তুলে দেওয়া হলো দেশবিরোধীদের হাত

17

সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা: ব্রিটিশ পার্লামেন্টে উত্তপ্ত আলোচনা,

18

এক সময়ের নোবেলজয়ী ‌‘মানবতার মুখ’ এখন বাংলাদেশের নতুন স্বৈরশা

19

গণতন্ত্র রক্ষায় লড়াইয়ে রাজপথে আওয়ামী লীগ

20