Insight Desk
প্রকাশ : Mar 14, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

পাঠ্যবই প্রকল্পে ৬৫৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ: শিক্ষা খাতে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারের পাঠ্যবই মুদ্রণ ও বিতরণ কর্মসূচিতে প্রায় ৬৫৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ সামনে আসায় দেশের শিক্ষা খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পাঠ্যবই প্রকল্পের বিভিন্ন ধাপে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, কাগজ ক্রয়, মুদ্রণ ব্যয় এবং বই পরিবহনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোতেই মূলত অনিয়ম ঘটেছে। অভিযোগ রয়েছে, অতিরিক্ত বিল প্রদর্শন, ব্যয়ের অস্বচ্ছ হিসাব এবং ভুয়া আর্থিক নথির মাধ্যমে প্রকৃত ব্যয়ের তুলনায় অনেক বেশি অর্থ দেখিয়ে সরকারি তহবিল থেকে অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে।

প্রতি বছর শিক্ষাবর্ষের শুরুতে দেশের কোটি কোটি শিক্ষার্থীর হাতে বিনামূল্যে পাঠ্যবই পৌঁছে দিতে সরকার বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে থাকে। এটি দেশের অন্যতম বৃহৎ সামাজিক কর্মসূচি হিসেবে বিবেচিত। তবে সাম্প্রতিক এক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রকৃত ব্যয় এবং সরকারি নথিতে দেখানো ব্যয়ের মধ্যে অস্বাভাবিক পার্থক্য রয়েছে।

বিশেষ করে কাগজের দাম নির্ধারণ, মুদ্রণ ব্যয় এবং পরিবহন খরচের ক্ষেত্রে বড় ধরনের অসঙ্গতি ধরা পড়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এই অসঙ্গতিগুলোর মাধ্যমেই বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, অসাধু কিছু কর্মকর্তা, ঠিকাদার এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের একটি অংশ যোগসাজশ করে এই অনিয়ম সংঘটিত করেছে। প্রকৃত ব্যয়ের তুলনায় অনেক বেশি ব্যয় দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পাঠ্যবই বিতরণ কর্মসূচি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এমন একটি প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তা শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই নয়, শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

এদিকে বিভিন্ন মহল থেকে বিষয়টি নিয়ে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে শক্তিশালী নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পাঠ্যবই মুদ্রণ ও বিতরণ প্রক্রিয়ায় ডিজিটাল নজরদারি, স্বচ্ছ দরপত্র পদ্ধতি এবং কঠোর নিরীক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হলে দুর্নীতির ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। তাদের মতে, শিক্ষা খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক সংস্কার ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা এখন সময়ের দাবি।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইউনূসের ভূমিকায় আলোচনায় চট্টগ্রাম বন্দর ও সেন্টমার্টিন

1

টার্গেট কিলিংয়ে সনাতনী সম্প্রদায়: আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ও মব সন

2

সেনা হেফাজতে বন্দি শিরীন শারমিনকে ‘বাসা থেকে গ্রেপ্তার’ দেখা

3

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোট বিতর্ক আদালতে চ্যালেঞ্জ

4

নোয়াখালীতে ভোটকেন্দ্র স্কুলে আগুন, শ্রেণিকক্ষ পুড়ে ছাই

5

আওয়ামী লীগ আমল বনাম বর্তমান সময়: প্রবৃদ্ধির কি গতি হারিয়েছে?

6

ভোটের ৬০ ঘন্টা আগে বোয়িং চুক্তি নিয়ে বিতর্ক

7

জেলে আটক স্বাস্থ্যের ঠিকাদারের সঙ্গে নীলফামারী জেনারেল হাসপ

8

আইজিপি বাহারুল ও এসবি চিফ গোলাম রসূলের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

9

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহার করছে অন্তর্বর্তী সরকার: হিউম্

10

নির্বাচন ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র–ভারতের নীরব কূটনৈতিক তৎপরতা, পুনর

11

অস্ট্রেলিয়ার ২০ লাখ ডলারের ব্যালট প্রকল্পে বাংলাদেশে অন্তর্

12

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান হামলা পাল্টা হামলা

13

ধানমন্ডি ৩২-এ শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে ঢাবি অধ্যাপক আটক পুলিশের আ

14

সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা: ব্রিটিশ পার্লামেন্টে উত্তপ্ত আলোচনা,

15

নারী নিয়ে বিতর্কিত পোস্ট: সমালোচনায় জামায়াত আমির, পরবর্তীতে

16

বাংলাদেশের রঙ্গিন বিপ্লব ও জাতিসংঘের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা

17

ভারতসহ ৮ দেশ নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠাবে না

18

সাঙ্গপাঙ্গদের ভুলে শুধু নিজের আখেরটাই গোছালেন ইউনূস

19

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা: বিএনপি'কে টার্গেট

20