Insight Desk
প্রকাশ : Jul 3, 2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

কুমিল্লার মুরাদনগরে মব লিঞ্চিং: একই পরিবারের তিনজন নিহত, বিচারহীনতার সংস্কৃতি নিয়ে উদ্বেগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

কুমিল্লার মুরাদনগরের বাঙ্গুরা বাজার এলাকায় মাদক চোরাকারবারের অভিযোগ তুলে এক ভয়াবহ মব লিঞ্চিংয়ের ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহতরা হলেন—রুবি বেগম (৫৮), তার ছেলে রাসেল (৩৫) ও মেয়ে জোনাকি আক্তার (২৭)। ঘটনাটি ঘটে আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার কড়ইবাড়ি গ্রামে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত বাঙ্গুরা বাজার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নাহিদ জানান, স্থানীয় কিছু লোক এই পরিবারের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ তোলে। এরপর উত্তেজিত জনতা সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালিয়ে এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটায়।

এই ঘটনাটি বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান মব লিঞ্চিং বা গণপিটুনির প্রবণতার একটি নতুন ও ভয়াবহ উদাহরণ হয়ে উঠেছে। মানবাধিকার সংগঠন ‘মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন’-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় মোট ১৪১টি মব হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৫২ জন, আহত হয়েছেন অন্তত ২৮৯ জন।

সর্বাধিক মব হামলার ঘটনা ঘটেছে মার্চ মাসে, যেখানে ৩৯টি হামলায় নিহত হন ১৩ জন এবং আহত হন ৯৬ জন।

এই ভয়াবহ চিত্র দেশের বিচারব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। রাষ্ট্রীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বক্তব্যও এই সহিংসতার উৎসাহদাতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সম্প্রতি এক বক্তব্যে বলেছেন, “আপনারা যেটাকে মব বলছেন, আমি সেগুলোকে মব বলছি না, এটা প্রেসার। যারা ১৫ বছর ধরে নিপীড়িত হয়েছেন, তারা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।”

এই ধরনের বক্তব্য অনেকের কাছে মব ন্যায়বিচার বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবেও মনে হচ্ছে, যা দেশে আইনের শাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাকে আরও দুর্বল করে তুলছে।

বর্তমানে বাংলাদেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও মব সন্ত্রাসের যে চিত্র উঠে আসছে, তা একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রের লক্ষণ বলে অনেকেই মনে করছেন। নিরীহ মানুষ বারবার মবের হাতে প্রাণ হারাচ্ছে, অথচ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিচার হচ্ছে না বা অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাষ্ট্র যদি আইনের শাসন নিশ্চিত না করতে পারে, তবে এ ধরনের সহিংসতা আরও ছড়িয়ে পড়বে এবং নিরপরাধ মানুষের জীবন আরও বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। এই ধরনের ঘটনা থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে রাষ্ট্রকে কার্যকর বিচারব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার যে প্রবণতা ছড়িয়ে পড়ছে, তার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

হাতিয়ায় পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১২ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অ

1

ভাইরাল সেল্ফি ও দ্বিমুখী মানদণ্ড: প্রিয় মুনামীর–সাদিক কায়েমক

2

৩০ লাখ টাকা জরিমানা, তবুও কি শিক্ষা হবে বিএনপির?

3

অব্যবস্থাপনায় আলু রপ্তানির প্রণোদনার ৭.৫৪ কোটি টাকা হাওয়া

4

ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক নিয়ে জাতিকে ঘোল খাওয়াচ্ছেন প্রেস সচিব

5

ঢাকার মধ্য বাড্ডায় অস্ত্রসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী মেহেদী আটক, বিএ

6

৩০ হাজার মেগাওয়াটের রূপকথা, ১৬ হাজারেই খেলা শেষ!

7

দিল্লি না ঢাকা? : রুপাইয়া রুপাইয়া!

8

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা কিভাবে ত্বরান্বিত হলো?

9

গোপন চুক্তির পরই আমেরিকান বোয়িং কেনা!

10

সেনাবাহিনীতে আরও ৬ কর্মকর্তার রদবদল

11

জামায়াত নেতাকে নিয়ে সটকে পড়লেন স্বার্থপর ইউনূস, বিপাকে এনসিপ

12

মব উস্কে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের চেষ্টায় ইউনূস গং

13

এক তীরে তিন শিকার: ভারত–ইইউ FTA-তে চাপে পাকিস্তান, বাংলাদেশ

14

পিআইবি ভবনেই ছিল বাকশালের দপ্তর—ফারুক ওয়াসিফের দাবির ঐতিহাসি

15

আন্তর্জাতিক মিডিয়া: শেখ হাসিনার বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভ

16

সিলেট পুরাতন কারাগারে অনিয়মের অভিযোগ: জেল পুলিশের বিরুদ্ধে ম

17

আইনের মাধ্যমে প্রতিশোধের রাজনীতি, তদন্তহীন বিচার, আওয়ামী লী

18

ইউনুসের গাফেলতি ঢাকতে হামে মৃত শিশুদের লাশের ওপর বিএনপি-জামা

19

বিএনপি-জামায়াতের মাধ্যমে ফের বাংলাদেশে জঙ্গি রপ্তানি করছে পা

20