নিজস্ব প্রতিবেদক
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের ৩৬ নাগরিককে জঙ্গিবাদের অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর এবার কুয়ালালামপুর বিমানবন্দর থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে ৯৬ জন বাংলাদেশিকে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রবাসীদের প্রতি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আস্থাহীনতারও বহিঃপ্রকাশ।
১১ জুলাই বিকেল ৩টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (কেএলআইএ) টার্মিনাল ১-এ মালয়েশিয়ান বর্ডার কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রোটেকশন এজেন্সি পরিচালিত অভিযানে ৩০০ জনেরও বেশি বিদেশিকে স্ক্রিনিং করা হয়। এদের মধ্যে ৯৬ জন বাংলাদেশিকে মালয়েশিয়ায় প্রবেশের অনুমতি না দিয়ে দেশে ফেরত পাঠানো হয়।
এর আগে মালয়েশিয়ান পুলিশ জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ৩৬ জন বাংলাদেশিকে আটক করে। তাদের বিরুদ্ধে ‘GRMB’ নামের একটি সংগঠনের হয়ে অর্থ সংগ্রহ, সদস্য নিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক জঙ্গি চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।
কিন্তু বাংলাদেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম কোনো প্রকার তদন্ত বা তথ্য যাচাই ছাড়াই এই ৩৬ জনকে ‘জঙ্গি নয়’ বলে ঘোষণা দেন। একটি আধুনিক রাষ্ট্রে যখন বিদেশে আটক নাগরিকদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ওঠে, তখন রাষ্ট্র সেই দেশের সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে, তথ্য সংগ্রহ করে এবং নিজস্ব তদন্তের ভিত্তিতে অবস্থান নেয়। অথচ এখানে দেখা গেল স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মালয়েশিয়ার তদন্ত বা আইনি প্রক্রিয়াকে উপেক্ষা করে একতরফাভাবে আটককৃতদের ‘নির্দোষ’ ঘোষণা করলেন। এটি কেবল কূটনৈতিক দায়িত্বহীনতা নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে প্রকাশ্য ছিনিমিনি খেলা। বাংলাদেশের এমন অবস্থান মালয়েশিয়ার তদন্ত প্রক্রিয়া ও আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্কের প্রতি অবজ্ঞা বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, মালয়েশিয়ায় আটক ৩৬ জন ‘জঙ্গি নয়’ এমন বক্তব্যের মাধ্যমে ড. ইউনূস সরকারের আসল চেহারা উন্মোচিত হয়েছে। এটি কেবল একটি রাষ্ট্রের ব্যর্থতা নয়, এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ।
বাংলাদেশের নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের নাগরিকরা বলছেন, ২০২৪ সালের আগস্টে তথাকথিত অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশে জঙ্গি ও উগ্রবাদের প্রতি এক ধরনের নীরব প্রশ্রয় দেখা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলে এর প্রতিক্রিয়া ইতোমধ্যে স্পষ্ট। প্রবাসীদের প্রতি বাড়তি সন্দেহ, কড়া জিজ্ঞাসাবাদ এবং ফেরত পাঠানোর মতো ঘটনাগুলো এর প্রমাণ।
কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে দেশে ৩০০-এর বেশি জঙ্গি জামিনে মুক্ত, যা জননিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ধর্মের নামে অপপ্রচার, জঙ্গি সংগঠনের পুনরুত্থান এবং প্রশাসনের নীরবতা গোটা জাতির জন্য উদ্বেগজনক।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জঙ্গিবাদ ও ধর্মীয় উগ্রতা কেবল সশস্ত্র সংঘাত নয়; এটি প্রজন্মের মানসিকতাকেও প্রভাবিত করে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার যখন দেশের অভ্যন্তরে এসব কার্যকলাপ উপেক্ষা করে কিংবা সরাসরি মদদ দেয়, তখন এর আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া হওয়াটাই স্বাভাবিক।
তারা বলেন, এখনই সময় দেশপ্রেমিক জনগণ, নিরাপত্তা বিশ্লেষক এবং মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সকল শক্তির ঐক্যবদ্ধভাবে এই সংকট মোকাবিলার। কারণ রাষ্ট্র যখন জঙ্গিদের পৃষ্ঠপোষকতা করে, তখন জনগণের দায়িত্ব হয় সত্য এবং স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নেওয়া।
মন্তব্য করুন