Insight Desk
প্রকাশ : Feb 9, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

ধর্ম ব্যবসা থেকে ভোট ব্যবসা, জামায়াতে ইসলামীর আদর্শিক পতনের গল্প

ডেস্ক রিপোর্ট

ইসলামপন্থা থেকে সেকুলার ভাষ্যের দিকে জামায়াতে ইসলামীর সাম্প্রতিক ঝোঁক কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; বরং এটি দলটির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক চরিত্রেরই ধারাবাহিক প্রকাশ। জামায়াত আদর্শনির্ভর দল নয়, বরং ক্ষমতানির্ভর এই বাস্তবতা তাদের ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে। ইসলামী শাসন, খেলাফত কিংবা ধর্মীয় ন্যায়বিচার এসব তাদের কাছে চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়; বরং ক্ষমতায় যাওয়ার কৌশলমাত্র।

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, জামায়াতে ইসলামী সবসময় ক্ষমতার সম্ভাব্য কেন্দ্রের পাশে অবস্থান নিয়েছে।

 ভারত বিভক্তির সময় তারা পাকিস্তানের বিরোধিতা করে ভারতের পক্ষে দাঁড়িয়েছিল ইসলামের প্রশ্নে নয়, বরং রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের ভিত্তিতে। আবার ১৯৭১ সালে তারা পাকিস্তানের পক্ষ নেয়, কারণ তখন ক্ষমতার ভবিষ্যৎ সেখানেই দেখেছিল। প্রতিবারই সিদ্ধান্তের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ‘ক্ষমতায় থাকা’ নীতি, দেশপ্রেম বা ধর্ম নয়।

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে জামায়াত ধর্মের মোড়কে রাজনীতি করে কিছুটা জায়গা তৈরি করতে সক্ষম হয়, কারণ তখন বড় রাজনৈতিক দলগুলো ধর্মনিরপেক্ষ অবস্থানে ছিল। কিন্তু সুযোগ পেলেই তারা অবস্থান বদলেছে কখনো জোট রাজনীতির সঙ্গে, কখনো সামরিক শাসনের সঙ্গে, আবার কখনো নির্বাচনী বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে।

আজ হিন্দু প্রার্থী দেওয়া, নিজেকে “ইসলামপন্থি নয়” বলে উপস্থাপন করা, কিংবা সেকুলার ভাষ্যে কথা বলা—সবই সেই পুরোনো কৌশলের নতুন সংস্করণ। উদ্দেশ্য একটাই: ভোট জেতা।

জামায়াতের তথাকথিত খেলাফত-স্বপ্ন নিয়েও বাস্তববাদী হওয়া জরুরি। ক্ষমতায় গেলে তারা আদৌ ইসলামী শাসন কায়েম করবে কি না, তা পুরোপুরি পরিস্থিতিনির্ভর। যদি অর্থনীতি ভালো চলে, জনজীবনে স্বস্তি থাকে, তবে খেলাফত চাপা পড়ে থাকবে কারণ উন্নয়নের সঙ্গে মানুষ ধর্মীয় শাসনের দাবি তোলে না। আর যদি সংকট তৈরি হয়, তখন ধর্মই হয়ে উঠবে তাদের প্রধান রাজনৈতিক অস্ত্র। অর্থাৎ খেলাফত কোনো নীতিগত অঙ্গীকার নয় এটি পরিস্থিতিনির্ভর একটি কৌশল মাত্র।

সবচেয়ে বড় সত্য হলো জামায়াতে ইসলামীর কোনো স্থায়ী আদর্শিক নোঙর নেই। প্রয়োজন হলে তারা ইসলামপন্থি, প্রয়োজন হলে সেকুলার, আবার দরকার হলে বামপন্থী ভাষ্যেও কথা বলতে পারে শুধু ক্ষমতার কাছাকাছি থাকার জন্য। ফলে যারা ইসলামী শাসন বা খেলাফতের স্বপ্ন দেখেন, তাদের জন্য জামায়াতে ইসলামী কোনো নির্ভরযোগ্য সঙ্গী নয়।

জামায়াতে ইসলামী আদর্শ বদলাতে দ্বিধা করে না, কারণ তাদের কাছে আদর্শ নয় ক্ষমতাই মুখ্য। অতীত, বর্তমান ও সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয় খেলাফত কায়েম নয়, বরং ক্ষমতায় যাওয়া ও তা ধরে রাখাই জামায়াতের মূল লক্ষ্য। ইসলাম ও খেলাফতের প্রশ্নে যারা আন্তরিক, তাদের উচিত জামায়াতে ইসলামীর প্রতি অন্ধ আস্থা না রাখ  এটাই বাস্তবতার দাবি।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বাংলাদেশে আসা জাহাজসহ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর যুক্তরাষ্ট্

1

আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করে বাংলাদেশ আসলে কী পেল?

2

আমাকে সরিয়ে দেশ কী পেল?’ এক সচিবের আক্ষেপ

3

সেনাবাহিনীকে দুর্বল করার নেপথ্যে কী?

4

তারাকান্দায় প্রবাসীর উদ্যোগে সড়ক মেরামতে স্বস্তি অটোচালক ও এ

5

ইউনূসের রাষ্ট্রীয় দুর্বলতায় বাড়ছে মন্দিরে হামলা; জঙ্গিবাদের

6

বিশ্বাসঘাতকতার অন্দরমহল : কারা ভাঙল প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা

7

শেখ হাসিনার উন্নয়ন ও দৃঢ়তার সুদিন ফেরাতে মরিয়া এ দেশের খেটে

8

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি: লাশ গুমের পরিকল্পনা যমুনায়, মূল হোতা আ

9

ইউনূসের বাংলাদেশে নিরাপত্তাহীন সড়ক: যমুনা সেতু পশ্চিমে রামদা

10

চুয়াডাঙ্গায় বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষে আহত জামায়াত আমিরের মৃত্যু

11

গোপালগঞ্জে সহিংসতার ঘটনায় গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে

12

চাঁদা না দিলে আদালত পাড়ায় মব করে বিএনপি

13

ইউনূস সরকারের ব্যর্থতা: সারাদেশে খুন, ডাকাতি, ছিনতাই, নদীতে

14

ময়মনসিংহের ফুলপুরে যুবলীগের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার

15

আন্তর্জাতিক মিডিয়া: শেখ হাসিনার বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভ

16

বেরিয়ে আসছে ছাত্রলীগের গুপ্ত শিবিরের ভয়াবাহ তথ্য, ফেঁসে গেলে

17

সেনা সহায়তায় ইউনূস গংয়ের বিরুদ্ধে লাশ গুমের অভিযোগ, উত্তাল ম

18

২০০৯ থেকে ২০২৪: ১৫ বছরের উন্নয়নযাত্রায় যেভাবে বদলে গিয়েছিল ব

19

হাদি হত্যা কি ছিল পরিকল্পিত রাজনৈতিক গেমচেঞ্জার?

20