Insight Desk
প্রকাশ : Jun 24, 2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

মব উস্কে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের চেষ্টায় ইউনূস গং

বিএনপির দায়ের করা মামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মুখোমুখি হন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় উত্তরা ৫ নম্বর সেক্টরের তার বাসভবনে বিএনপির নেতাকর্মীরা মব তৈরি মাধ্যমে বাসা ঘেরাও করে। এসময় তাকে শারীরিক লাঞ্ছিত করে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ হেফাজতে দেওয়া হয়। পরে মিন্টো রোডের গোয়েন্দা কার্যালয়ে নেওয়া হয় এবং মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

এর আগে, দুপুরে সাবেক তিন সিইসি-সহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে বিএনপি। মামলার অভিযোগের সূত্র ধরে এধরনের প্রতিশোধমূলক ও অপমানজনক আচরণকে গভীর উদ্বেগের চোখে দেখছে বিভিন্ন মহল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, নূরুল হুদাকে ঘিরে বিএনপি নেতাকর্মীরা জুতা হাতে হেনস্তা করছে, কেউ তার গলায় জুতার মালা পরিয়ে দিয়েছে। এমনকি পুলিশের উপস্থিতিতেই এই অপমানজনক ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরকার দাবি করেছে, দায়ীদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ভিডিও ও স্পষ্ট ছবিসহ ঘটনার প্রমাণ থাকলেও এখনো কাউকে গ্রেপ্তার না করায় সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নূরুল হুদা ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময় সিইসি ছিলেন। তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাও বটে। এমন একজন ব্যক্তি ও গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদধারীকে এভাবে প্রকাশ্যে হেনস্থা করা পুরো নির্বাচন কমিশনের মর্যাদার ওপর আঘাত বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের পক্ষ থেকে এর আগে বিতর্কিত তিন নির্বাচনের তদন্তের ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। এরপর থেকেই নির্বাচন কমিশনের সাবেক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে রাজনৈতিক চাপ ও জনরোষ বাড়ছে বলে মত বিশ্লেষকদের।

অতীতে বিতর্কিত নির্বাচন হলেও, যেমন ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন কিংবা ২০০৭ সালের পূর্বের আজিজ কমিশন– এসব কমিশনের সদস্যদের বিরুদ্ধে পরবর্তীতে কোনো আইনি ব্যবস্থা বা অপমানজনক আচরণের নজির নাই। এটাই দীর্ঘ সময় ধরে একটি প্রাতিষ্ঠানিক ঐতিহ্য হিসেবে ধরে রাখা হয়েছিল।

নুরুল হুদা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তার প্রতি প্রকাশ্যে যে দুর্ব্যবহার ও অপমানজনক আচরণ করা হয়েছে, সেটি শুধু একজন ব্যক্তির নয়, বরং একটি সাংবিধানিক পদের মর্যাদার বিরুদ্ধেই আঘাত। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাষ্ট্র যদি এ ঘটনার যথাযথ বিচার না করে এবং সাংবিধানিক পদের সম্মান রক্ষা না করে, তাহলে ভবিষ্যতে দক্ষ ও সৎ ব্যক্তিদের এমন দায়িত্বে আগ্রহ কমে যেতে পারে। এটি রাষ্ট্রীয় প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার জন্য দীর্ঘমেয়াদে বিপজ্জনক হতে পারে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জঙ্গিদের বাঁচাতে গোপালগঞ্জে নিরস্ত্র জনতার ওপর সেনাবাহিনীর গ

1

আওয়ামী লীগের ১১৫ এমপি-মন্ত্রীকে জেল হত্যার ভয়াবহ ষড়যন্ত্র!

2

রাষ্ট্রের ট্যাক্স অফিস এখন নিলামে : এনবিআরের চেয়ারম্যান পদে

3

ইউনূসের আসকারায় থানায় মিথ্যা মামলার হিড়িক, উদ্বিগ্ন বিশ্লেষক

4

জামায়াতকে জাতীয় নির্বাচনে জয়ের গ্রিন সিগনাল দিয়ে দিলেন ইউনূস

5

বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতা, ২০২৫ সালে উর্ধ্বম

6

১৭ আগস্ট সিরিজ বোমা হামলা: আওয়ামী লীগ নিধন ও নির্বাচন লুটের

7

শেখ হাসিনার ৮০তম জন্মদিন ঘিরে ভারতে একাধিক আয়োজন, থাকবেন বিজ

8

‘জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নেই’ -ব্যারিস্টার মাহমুদ

9

বাংলাদেশের মানবাধিকার সংকট: কণ্ঠরোধ, স্বাধীনতা হরণ, সর্বত্র

10

এনসিপি নেতা মুনতাসিরের হুঁশিয়ারি: ‘জুলাইয়ের গাদ্দারদের সব বে

11

রাষ্ট্রপতির বাণী কি উপদেষ্টা মাহফুজ আলম লিখে দিলেন?

12

সুতো নিয়ে মহাসঙ্কটে বাংলাদেশ: বন্ধের মুখে শতাধিক স্পিনিং মি

13

ইউনূসের সফরসঙ্গীতে মানবতা বিরোধী অপরাধীর সন্তান, প্রশ্নের মু

14

ফের জাতির সঙ্গে প্রেস সচিবের প্রতারণা: মালয়েশিয়ায় শ্রমিক সুব

15

ফের সক্রিয় জুলাইয়ের কুশীলবরা, এবার টার্গেটে খালেদা জিয়ার বাস

16

হামে শিশু মৃত্যুর মিছিল: ইউনূস সরকারের অব্যবস্থাপনা দায়ি বলে

17

বিএনপির দুর্নীতির টাকায় তাণ্ডব চালাতো জঙ্গিরা!

18

বিএনপি সরকার গঠনের পর নির্বাচনী সমঝোতা ভঙ্গের অভিযোগ

19

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন খেলার মাঠ পার্বত্যাঞ্চল; আলোচনায় চট্টগ্র

20