জুলাই আন্দোলনে নিহতের সংখ্যা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সরকারি গেজেটে স্বীকৃত শহীদের সংখ্যা ৮৩৪ জন। তবে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই তালিকার মধ্যে ৫২ জনের তথ্য ভুয়া বা অসংগত। সে হিসাবে প্রকৃত শহীদের সংখ্যা দাঁড়ায় ৭৮২ জন।
এদিকে ৫ আগস্ট দুপুরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছাড়েন। আওয়ামী লীগপন্থী সূত্রগুলোর দাবি, ওই সময়ের পর সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের দায় আর তৎকালীন সরকারের ওপর বর্তায় না। তাদের হিসাব অনুযায়ী, সরকার পতনের পর প্রায় ২৯৪ জন নিহত হন। সেই সংখ্যা বাদ দিলে শেখ হাসিনা সরকারের আমলে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৮৮ জন।
আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদনে ভিন্ন চিত্র
জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর Office of the United Nations High Commissioner for Human Rights (OHCHR)-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ১,৪০০–এর বেশি।
যদি ৫ আগস্ট পর্যন্ত সরকারি গেজেটে স্বীকৃত ৭৮২ জনকে ধরা হয়, তাহলে ৬ আগস্ট থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৬১৮ জন। আওয়ামী লীগের একটি অংশের দাবি, এই সময়ের অধিকাংশ ভুক্তভোগী তাদের দলের কর্মী-সমর্থক।
তবে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলো এই ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নয়। তাদের বক্তব্য, পুরো সময়ের ঘটনাপ্রবাহকে আলাদা করে দেখা যাবে না এবং প্রতিটি মৃত্যুর ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
দায়-দায়িত্ব ও তদন্তের প্রশ্ন
আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, আন্দোলনের সময় ৩৬ দিনে ৪৮৮ জন নিহত হওয়ার দায় সরকার স্বীকার করে আন্তর্জাতিক তদন্তের আহ্বান জানিয়েছিল। তাঁদের মতে, পরবর্তী দশ দিনে বিপুল সংখ্যক দলীয় কর্মী নিহত হলেও সে বিষয়ে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, সংখ্যার পার্থক্য বা রাজনৈতিক ব্যাখ্যার বাইরে গিয়ে প্রতিটি মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট তথ্য, প্রেক্ষাপট ও দায় নির্ধারণ জরুরি।
বিশ্লেষকদের মতে, একই ঘটনাকে ঘিরে ভিন্ন ভিন্ন পরিসংখ্যান সামনে আসা বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন নয়। তবে চূড়ান্ত সত্য নির্ধারণে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য তদন্তই হতে পারে একমাত্র পথ।
এ বিষয়ে সরকার, বিরোধী দল এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর আনুষ্ঠানিক পূর্ণাঙ্গ তালিকা ও ব্যাখ্যা সামনে এলে বিতর্ক কিছুটা পরিষ্কার হতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
মন্তব্য করুন