Insight Desk
প্রকাশ : Jul 16, 2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

সেনাবাহিনীর গাড়ি করে গোপালগঞ্জ থেকে পালাল এনসিপির নেতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক

সমাবেশ শেষে ফেরার পথে এনসিপি নেতাদের গাড়িবহর আটকে প্রতিবাদ জানিয়েছিল গোপালগঞ্জের সাধারণ মানুষ। এই ঘটনার পর  গোপালগঞ্জের পৌরপার্ক এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এনসিপি নেতাদের জনরোষ থেকে বাঁচাতে জেলায় ১৪৪ ধারা জারি করেছেন গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. কামরুজ্জামান। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সমাবেশ পরবর্তী সংঘর্ষের ঘটনায় গোপালগঞ্জ শহর থেকে বের হতে না পেরে এনসিপি নেতাদের গাড়ি বহর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের বিল্ডিংয়ের ভেতর প্রবেশ করে। সেখান থেকে সেনাবাহিনীর এপিসি গাড়িতে করে পালিয়ে যান  জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, জাতীয় নাগরিক পার্টি'র (এনসিপি) নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলমরা। 

আওয়ামী লীগের একটি সূত্র জানিয়েছে, “গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর অমানবিক হামলা চালিয়েছে সেনাবাহিনী। এসময় জেলা ছাত্রলীগের নেতা দীপ্ত সাহাসহ সাতজন নেতাকর্মীকে সেনাবাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছে। রাষ্ট্রযন্ত্রের এই নৃশংসতা বাংলাদেশের জনগণ কখনো মেনে নেবে না।”

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শুরুতেই ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী এসে জনসাধারণকে প্রতিরোধের চেষ্টা চালায়। তবে না পেরে তারা পিছু হটেন। পরে আবার তারা ঘটনাস্থলে এসে সাধারণ মানুষের ওপর গুলি ছুড়তে থাকে। এছাড়া সরিয়ে স্থানীয় জনতাকে দিতে উপস্থিত শতাধিক পুলিশ সদস্য ফাঁকা গুলি বর্ষণ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করছে। রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়তেও দেখা গেছে।  

এনসিপির গোপালগঞ্জের পদযাত্রা ও সমাবেশকে ঘিরে মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) রাত থেকে সামাজিকমাধ্যমে উত্তেজনা তৈরি হয়। ফেসবুকে এনসিপির নেতারা ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বুধবার এনসিপির নেতারা গোপালগঞ্জ যাওয়ার পথে পথে বাধা পেয়েছেন। সাধারণ মানুষ পুলিশ ও ইউএনওর গাড়িতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে।  

গোপালগঞ্জ সফরের আগের দিনই টিএসসিতে রাজাকার রাজাকার স্লোগান দিয়েছে ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। স্লোগানগুলোর মধ্যে ছিল, ‘তুমি কে আমি কে, রাজাকার রাজাকার’, ‘কে বলেছে কে বলেছে, স্বৈরাচার স্বৈরাচার’, ‘এই কথায় কথায় বাংলা ছাড়, বাংলা কী বাপ দাদার’, ‘বাংলা কী বাপ দাদার, কথায় কথায় বাংলা ছাড় ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়। স্লোগানের প্রতিক্রিয়ায় সংক্ষেপে এই উপদেষ্টা বলেন, ‘যারা তখন বাংলা ছাড়তে বলেছিল, তারা এখন কোথায়? তারা কী এখনো বাংলায় আছে?’ 
এসব স্লোগানে স্পষ্ট যে সরকারের মদদে জাতিকে বিভাজিত করে গোপালগঞ্জেও মব তৈরি করতে চেয়েছিল হাসনাত-সারজিসরা। তবে সাধারণ মানুষ তাদের এই মববাজি ঠেকিয়ে দিয়েছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রাষ্ট্রপতির বাণী কি উপদেষ্টা মাহফুজ আলম লিখে দিলেন?

1

গোপন চুক্তির পরই আমেরিকান বোয়িং কেনা!

2

স্বাধীন বাংলাদেশে আবারো 'রাজাকার' স্লোগান, জামায়াত-এনসিপির

3

বিএনপি সরকার গঠনের পর নির্বাচনী সমঝোতা ভঙ্গের অভিযোগ

4

আহত শিক্ষার্থীদের নামে এনসিপির জন্য ফান্ড তুলতে গিয়ে ধরা খেল

5

প্যারিসে ফ্রান্স আওয়ামী লীগের আয়োজনে “মার্চ ফর বাংলাদেশ” কর্

6

রাষ্ট্রের ট্যাক্স অফিস এখন নিলামে : এনবিআরের চেয়ারম্যান পদে

7

চুয়াডাঙ্গায় বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষে আহত জামায়াত আমিরের মৃত্যু

8

বগুড়ায় মাদকের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে

9

দ্য ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে ফ্যাসিস্ট ইউনূসের গোমর ফাঁস

10

কর্মজীবী নারীদের পতিতাদের সঙ্গে তুলনা: জামায়াতের বক্তব্যে ফু

11

আন্তর্জাতিক মিডিয়া: শেখ হাসিনার বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভ

12

বিএনপি-জামায়াতের মাধ্যমে ফের বাংলাদেশে জঙ্গি রপ্তানি করছে পা

13

মবের পর এবার হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দিল ইউনূসের প্রেস উইং

14

⁨সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অভিযোগ: ইসকনের বিরুদ্ধে উগ্র হিন্দুত্ব

15

বাংলাদেশের ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বন্ধ করল ভারত, কার্যকর হলো

16

ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গ্রামীণ সংস্থাগুল

17

৭১-এর প্রতিশোধ নিতে মরিয়া পাকিস্তান-আমেরিকা, সহযোহিতায় ইউনূস

18

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও গণভোট বর্জনের ডাক

19

৬০০ কোটি টাকার হাসপাতাল এখন জুলাই আহতদের ‘আবাসিক হোটেল’

20