Insight Desk
প্রকাশ : Feb 4, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

নির্বাচন ঘিরে গভীর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ: প্রশাসন, ভোটকেন্দ্র ও নিরাপত্তা বাহিনী নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন

ডেস্ক রিপোর্ট | বিশেষ অনুসন্ধান

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক সূত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অভিযোগ অনুযায়ী, জামায়াত-ই-ইসলামী একটি সুপরিকল্পিত ও বহুমাত্রিক কৌশলের মাধ্যমে নির্বাচনের ফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।

অভিযোগে বলা হচ্ছে, প্রান্তিক ও সুইং আসন হিসেবে চিহ্নিত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জেলায় অন্তত ৪০ জন জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং ২৪ জন পুলিশ সুপার (এসপি)-কে বিপুল অঙ্কের ঘুষ দেওয়া হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, অন্তত ৪৩টি সংসদীয় আসন এমন রয়েছে যেখানে সামান্য হেরফেরেই ফল পাল্টে যেতে পারে—এবং সেসব আসনকে বিশেষভাবে লক্ষ্য করেছে দলটি।

ভোটার ব্যবস্থাপনা ও জাল ভোটের অভিযোগ

আরও অভিযোগ রয়েছে, মহিলা ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে তা পরবর্তীতে জাল ভোটে ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি যেসব নির্বাচনী এলাকায় জামায়াতের সাংগঠনিক শক্তি দুর্বল, সেখান থেকে ভোটারদের অন্য এলাকায় স্থানান্তরের ব্যবস্থাও করা হয়েছে—যে এলাকাগুলোতে বিএনপিকে দুর্বল করা বা এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ভোটের দিন সহিংসতা ও কেন্দ্র দখলের  শঙ্কা

সূত্রগুলো দাবি করছে, ভোটের দিন ভোর থেকেই পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে দীর্ঘ লাইনের নাটক সৃষ্টি করে বিএনপি সমর্থকদের ভোট দিতে বাধা দেওয়ার কৌশল নেওয়া হতে পারে। এরপর বিএনপি-সমর্থিত এলাকাগুলোতে সহিংসতার মাধ্যমে ভোটগ্রহণ ব্যাহত করার পরিকল্পনার কথাও শোনা যাচ্ছে।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, জামায়াত ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত বিভিন্ন স্কুলের পরিচালনা কমিটিতে অনুপ্রবেশ করেছে। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট স্কুল থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং এজেন্টদের প্রভাবিত করে ভোট কারচুপির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

প্রচারণা শক্তিতে বৈষম্যের অভিযোগ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতের নির্বাচনী প্রচারণা ছিল অত্যন্ত সুশৃঙ্খল, সুসংগঠিত ও অর্থবহুল। বিপরীতে, বিএনপির প্রচারণা কার্যক্রম তুলনামূলকভাবে দুর্বল ছিল। দলের একজন প্রবীণ নেতা নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে গঠিত প্রচারণা কমিটিকে অনেকেই কার্যকর মনে করেননি।

সেনাবাহিনী নিয়ে গুরুতর অভিযোগ

সবচেয়ে বিতর্কিত অভিযোগগুলোর একটি হলো নিরাপত্তা বাহিনীকে ঘিরে। দাবি করা হচ্ছে, প্রায় ৩০ শতাংশ সেনা কর্মকর্তা ও সদস্য জামায়াতের সঙ্গে মতাদর্শগতভাবে যুক্ত। অভিযোগে আরও বলা হয়, যশোর ও রংপুর বিভাগের জিওসিরা জনগণকে জামায়াতের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এছাড়া খুলনা অঞ্চলের কয়েকটি হিন্দু অধ্যুষিত গ্রামে সেনাবাহিনীর অভিযানে নির্যাতনের অভিযোগও উঠেছে, যা মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

সরকারি বা দলীয় প্রতিক্রিয়া নেই

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, সেনাবাহিনী কিংবা জামায়াত-ই-ইসলামীর পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারকে টার্গেট করে রাজনৈতিক সার্কাস দেখা

1

কোটার জায়গায় কোটা রইল, মেধার হলো না জেতা

2

হোলি আর্টিজান হামলা ও ৯ বছর পর জঙ্গি নিয়ে বিতর্ক: সরকার কি চ

3

সাঙ্গপাঙ্গদের ভুলে শুধু নিজের আখেরটাই গোছালেন ইউনূস

4

৫ আগস্ট ২০২৪–এর পর বাংলাদেশ কী হারাল?

5

অব্যবস্থাপনায় আলু রপ্তানির প্রণোদনার ৭.৫৪ কোটি টাকা হাওয়া

6

মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে আপোষহীন বিভুরঞ্জনকে নাজেহাল হতে হয়েছে

7

জামায়াত আমিরের দ্বৈত নীতি: শিক্ষার্থীদের চিকিৎসায় ব্যাঘাতের

8

৭ মার্চের ভাষণ: জিয়াউর রহমানের লেখায় ‘গ্রিন সিগন্যাল’

9

নির্বাচন ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র–ভারতের নীরব কূটনৈতিক তৎপরতা, পুনর

10

নির্বাচন-পরবর্তী বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে উত্তাল ময়মনসিংহে

11

টিকার তীব্র সংকট ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা নিয়ে উদ্বেগ, ইউনিসেফ প

12

নির্বাচন কেমন হতে পারে ইসিতে নমুনা দেখাল বিএনপি

13

জামায়াতের নারী-বিদ্বেষ বিতর্কে ফের ‘হ্যাক’ নাটক

14

নড়াইলে ছয় শিশুছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসাশিক্ষক গ্রেপ্ত

15

অর্থনীতির স্থবিরতায় বেকারত্ব বেড়েছে: নতুন বিনিয়োগ ও দক্ষ মান

16

ইউনূস সরকারের ছত্রছায়ায় জঙ্গিবাদে শিশু-কিশোররাও, দেশে বাড়ছে

17

জুলাই আন্দোলন: সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয় জামায়াত

18

প্রতি মিনিটে ১২ ভোট? ইসির পরিসংখ্যান ঘিরে প্রশ্ন

19

সরকার বদলায়, বিএনপির সেলু মাষ্টারের ‘সিস্টেম’ বদলায় না!

20