Insight Desk
প্রকাশ : Aug 19, 2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

ধ্বংস করতে কেন শিশুদের হাতে দেশকে ছাড়লেন সেনাপ্রধান

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে নিয়ে সমালোচনা এখন “হট কেক”। কিন্তু সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বিষয়টা একেবারেই হালকা করে উড়িয়ে দিলেন। তার ভাষায়, এসব মন্তব্যে অখুশি হওয়ার কিছু নেই, যারা এসব বলছে তারা আমাদের সন্তানের বয়সী। বয়স বাড়লে বুঝতে পারবে, তখন লজ্জাই পাবে। প্রশ্ন উঠেছে, শিশু বলে আখ্যা দেওয়া সমন্বয়ক-নেতাদের জন্যই কি সেনারা মাঠে নেমে সাধারণ নাগরিকদের রক্ত ঝরাচ্ছে? তাহলে কি এটাই দেশের নতুন নিয়ম—বাবা বাঁচাবে, মানুষ মরবে?

সেনাবাহিনী নিয়ে শিশুদের খেলা

মূলত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে দুর্বল করতে উঠে পড়ে লেগেছে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অনুগত গোষ্ঠীগুলো। তারা একের পর এক সেনাবাহিনীকে হেয় করে বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য দিচ্ছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, জঙ্গিবাদকে আরও পাকাপোক্ত করতেই এই কৌশল হাতে নিয়েছে তারা। 

সেনাবাহিনী নিয়ে ‘শিশুদের’ বিতর্কিত বক্তব্য

বাংলাদেশ বা এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদের একটি বক্তব্য বেশ কিছু আগে ভাইরাল হয়। সেখানে তিনি সেনানিবাস উড়িয়ে দেওয়ার' হুমকি দিয়েছিলেন। এরপর ইনকিলাব মঞ্চের ওসমান হাদিও  ক্যান্টনমেন্টের ইট খুলে ফেলার হুমকি দেন। 

এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুলাহ সেনাবাহিনীকে উদ্দেশ্য করেচ বলেছেন,  আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, আপনাদের যাদের কাজ ক্যান্টনমেন্টে, আপনারা তারা ক্যান্টনমেন্টেই থাকুন। এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী সম্প্রতি বাংলাদেশের শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের হেডকোয়ার্টার ভেঙে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। 

বিশ্লেষকেরা বলছেন, এনসিপির নেতারা যা কিছু  বলে তা প্রেসক্রিপশনধর্মী মন্তব্য। বাংলাদেশে পরপর দুটি সামরিক সরকার এবং একটি সেনা-সমর্থিত সরকার ছিল। কিন্তু কখনোই সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি এখনকার মতো এত প্রশ্নবিদ্ধ হয়নি, কিংবা তাদের এত অসহায় অবস্থায় দেখা যায়নি। একসময় জনগণ সেনাবাহিনীকে জানতো ‘বাঘ’ হিসেবে; এখন দেখে খাঁচার বাঘ হিসাবে—খোঁচাখুঁচি হজম করে যাচ্ছে।

শিশুদের বিভিন্ন সময় উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনীই 

৫ আগস্টের পর সচিবালয়ের সামনে শিক্ষার্থী ও আনসারদের মধ্যে সংঘর্ষে তৎকালীন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ আহত হন। ওইদিনও হাসনাত ও আরেক সমন্বয়ক নাহিদ ইসলামকে জনগণের হাত থেকে উদ্ধার করেছিল সেনাবাহিনী। এছাড়া গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশ ঘিরে সংঘর্ষ এবং উত্তেজনার মধ্যে সেনাবাহিনীর গুলিতে অন্তত সাতজন নিহত হন।  

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গোপালগঞ্জে এনসিপির একটি সমাবেশ শেষে নেতারা যখন অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন, তখন পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেনাবাহিনীর একটি দল প্রথমে ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে। পরে তারা সেখান থেকে সরে যায়। কিছু সময় পর পুনরায় ফিরে এসে জনতার ওপর গুলিবর্ষণ শুরু করে।

বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। কেউ কেউ তাদের পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে তুলনাও করছেন। মন্তব্য এসেছে, “যখন মানবাধিকার রক্ষার নামে সন্ত্রাসীদের গুলি করা হয়নি, তখন আজ নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালিয়ে হত্যা করা হলো।”

নেপথ্যের খেলা

সূত্র বলছে, সেনাবাহিনীকে দুর্বল করতে বিদেশি ছক আঁকা হয়েছে। পাকিস্তান চায় মুক্তিযুদ্ধের পরাজয়ের প্রতিশোধ, আর যুক্তরাষ্ট্র চাইছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আধিপত্য কায়েম। জঙ্গিবাদ যদি প্রতিষ্ঠা পায়, তাহলে দুপক্ষেরই লাভ।

আরো ভয়ংকর আশঙ্কা—বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের অংশ নিয়ে “খ্রিস্টান রাষ্ট্র” বানানোর গোপন পরিকল্পনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই আগেই এ নিয়ে সতর্ক করেছেন। সূত্র বলছে, সেনাবাহিনীকে দুর্বল করতে পারলে দেশে জঙ্গিবাদকে সুপ্রতিষ্ঠিত করা যাবে। আর এর পেছনে নীল নকশাকারী দুটি দেশ হলো পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্র। 

পাকিস্তান চাইছে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের পরাজয়ের প্রতিশ্রুতি নিতে। তাই দেশটি বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ প্রতিষ্ঠা করতে সব রকম চেষ্টাই করে যাচ্ছে।  

এদিকে বাংলাদেশের পুরোনো শত্রু যুক্তরাষ্ট্রের দিক দিয়েও হিসাব স্পষ্ট। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো এ দেশেও তারা আরব বসন্তের মতো ঘটনা ঘটাতে পেরেছে। বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ ভালোভাবে প্রতিষ্ঠিত হলে তারা এদেশে প্রাকৃতিক সম্পদসহ বিভিন্ন জায়গায় নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে।

যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি একটি নীলনকশার অংশ হলো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় তাদের আধিপত্য বিস্তার।   মিয়ানমারে চীন-সমর্থিত গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্পের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কৌশলগত অবস্থান নিতে সক্রিয় হয়েছে। রোহিঙ্গা সংকট, মানবিক করিডোর, এবং চট্টগ্রাম বন্দর—সব মিলে এই অঞ্চলটি চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।

এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে একটি “খ্রিস্টান রাজ্য” গঠনের ষড়যন্ত্রের আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন অনেকে, যা পূর্ব তিমুরের ঘটনার সাথে তুলনা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর আগেও সতর্ক করে বলেছিলেন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের কিছু অংশ নিয়ে এমন একটি রাষ্ট্র গঠনের ষড়যন্ত্র চলছে এবং এ সংক্রান্ত প্রস্তাবনা বাংলাদেশে একটি এয়ার বেজ স্থাপনের মাধ্যমেও এসেছে।

সেনাবাহিনী সন্তানের মতো যাদের দেখছে, সেই “শিশুরাই” হুমকি দিয়ে খেলছে, আর তাদের জন্য গুলি খাচ্ছে সাধারণ মানুষ। প্রশ্ন ওঠে- কেন এই সাজানো দেশের অতন্দ্রপ্রহরী হিসেবে থাকার কথা যে বাহিনীর তারা কেন দেশটিকে শিশুদের হাতে ছেড়ে দিল।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ভারতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে প্রেস মিনিস্টারের চুক্তি বাতিল

1

সাবেক শিবির নেতাকে গ্রেপ্তারের জেরে ডিবি কর্মকর্তার ওপর নৃশং

2

সেনাবাহিনীর গাড়ি করে গোপালগঞ্জ থেকে পালাল এনসিপির নেতারা

3

জঙ্গির আস্ফালন: প্রতিদিন ১১ খুনের ভয়াবহ তাণ্ডব

4

আদর্শ বিসর্জন দিয়ে ক্ষমতার রাজনীতিতে এনসিপি: মাসুদ কামালের ক

5

ইউনূসের ভূমিকায় আলোচনায় চট্টগ্রাম বন্দর ও সেন্টমার্টিন

6

দুদকের অনুসন্ধানে ১০০ কোটির প্রকল্প ও ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যব

7

আওয়ামী লীগ আমল বনাম বর্তমান সময়: প্রবৃদ্ধির কি গতি হারিয়েছে?

8

নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় জানার পর আরও বেপোরোয়া বিএনপি

9

পোশাকনির্ভর অর্থনীতিতে চাপে বাংলাদেশ: ভারতের কৌশলে ধীরে ধীরে

10

৫ আগস্টের পর জঙ্গিবাদের আস্ফালনে, ভয়-উৎকণ্ঠায় তটস্থ জনগণ

11

জামায়াত আমিরের দ্বৈত নীতি: শিক্ষার্থীদের চিকিৎসায় ব্যাঘাতের

12

মব–শাসনের রক্তাক্ত বাস্তবতা, বিষবৃক্ষের ফল কুড়াচ্ছে সমাজ

13

ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদগুলোতে শিবিরক

14

আয়নাঘরে গুম নয়, আট বছর আত্মগোপনে ছিলেন ব্যারিস্টার আরমান

15

৭ মার্চের ভাষণ কি আজ অপরাধ?

16

পুলিশ কন্ট্রোলরুমে বসে হত্যার নির্দেশ দিচ্ছিলেন আসিফ মাহমুদ

17

অর্থনীতির স্থবিরতায় বেকারত্ব বেড়েছে: নতুন বিনিয়োগ ও দক্ষ মান

18

আমাকে সরিয়ে দেশ কী পেল?’ এক সচিবের আক্ষেপ

19

হোটেল ওয়েস্টিনে নাগরিকমৃত্যু নিয়ে মার্কিন দূতাবাসের মিথ্যা

20