Insight Desk
প্রকাশ : Mar 6, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ: স্বাধীনতার পথে বাঙালির অঙ্গীকার

বাংলাদেশের ইতিহাসে ৭ মার্চ একটি অবিস্মরণীয় ও গৌরবময় দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান)-এ লাখো মানুষের উপস্থিতিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন। এই ভাষণ বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত ও ঐক্যবদ্ধ করেছিল। তাই ৭ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।

বৈষম্য থেকে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা

১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পর পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী পূর্ব বাংলার মানুষের ওপর দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বৈষম্য চাপিয়ে দেয়। ভাষা, অর্থনীতি এবং প্রশাসনের ক্ষেত্রে বঞ্চনার শিকার হতে থাকে বাঙালি জনগণ। এর ফলে ধীরে ধীরে অসন্তোষ ও প্রতিবাদের আন্দোলন জোরালো হয়ে ওঠে।

১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে নানা টালবাহানা শুরু করে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের মানুষ দিকনির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করছিল।

বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ

এই সংকটময় মুহূর্তে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতির উদ্দেশে এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। তাঁর বক্তব্য ছিল বাঙালি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রামের সুস্পষ্ট রূপরেখা। ভাষণের এক পর্যায়ে তিনি উচ্চারণ করেন সেই অমর ঘোষণা:

❝এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম❞

বঙ্গবন্ধুর এই আহ্বান মুহূর্তেই পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে তোলে। দেশের সর্বস্তরের মানুষ মুক্তিযুদ্ধের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত হয়ে ওঠে। তাঁর ভাষণ বাঙালির মনে সাহস, আত্মবিশ্বাস এবং স্বাধীনতার অদম্য আকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে তোলে।

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, বিশ্ব ইতিহাসেও একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ২০১৭ সালে ইউনেস্কো এই ভাষণকে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য ঐতিহ্যের তালিকা মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড প্রোগ্রাম (Memory of the World Programme)-এ অন্তর্ভুক্ত করে। এটি বাংলাদেশের জন্য একটি বড় আন্তর্জাতিক গৌরব।

জাতির চেতনার প্রতীক

৭ মার্চের ভাষণ বাঙালি জাতির স্বাধীনতার চেতনাকে জাগিয়ে তুলেছিল এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রধান অনুপ্রেরণায় পরিণত হয়। আজও এই দিনটি আমাদের জাতীয় জীবনে সাহস, ঐক্য এবং স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে স্মরণীয়।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে ৭ মার্চ তাই শুধু একটি তারিখ নয়, এটি বাঙালির আত্মপরিচয়, সংগ্রাম এবং স্বাধীনতার অঙ্গীকারের চিরন্তন স্মারক।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় ইউনূসকেও পাত্তা দিল না আমেরিকা

1

ন্যায়বিচারের ধ্বংসলীলা: ইউনূসের নির্দেশে দেশে বইছে ভুয়া মা

2

যুক্তরাষ্ট্র–বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা চুক্তি: রাজনীতিতে নতুন বিতর

3

ইসহাক দারের সফরের পর একাত্তরের গণহত্যার দায় ধামাচাপা দিতে উঠ

4

ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের আস্ফালন

5

শেখ হাসিনা সরকারের মজুদেই চলছে দেশের খাদ্য ব্যবস্থা

6

জামাতি স্টাইলে এবার জাপার কার্যালয়ে আগুন দিল গণঅধিকার পরিষদ

7

৬০০ কোটি টাকার হাসপাতাল এখন জুলাই আহতদের ‘আবাসিক হোটেল’

8

এক তীরে তিন শিকার: ভারত–ইইউ FTA-তে চাপে পাকিস্তান, বাংলাদেশ

9

অভ্যন্তরীণ ফ্যাসিবাদ, দুর্নীতির অভিযোগে এনসিপি ও বৈছাআ থেকে

10

ইউনূসের থাবায় ধ্বংসের পথে বাংলাদেশ

11

শেষ সময়ে হরিলুট চালাচ্ছে ইউনূস বাহিনী

12

বাংলাদেশের পাসপোর্ট মানেই ‘সন্দেহজনক নাগরিক

13

বিজয় দিবসে এবারও প্যারেড হবে না: জনমনে নিন্দা ও বিতর্ক, পাকি

14

আমেরিকার খায়েশ মেটাতে বলির পাঁঠা বানানো হচ্ছে বাংলাদেশি সেনা

15

গৃহযুদ্ধ বাঁধিয়ে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ নিতে চায় আমেরিকা

16

কাঁদল বাংলাদেশ, ৩২ আতঙ্কে ঘুম হারাম ইউনূস গংদের

17

বৈষম্যবিরোধীরাই দেখাল, আন্দোলনে রোহিঙ্গা ও বিহারীদের ভূমিকা

18

চট্টগ্রাম বন্দরের নিয়ন্ত্রণ বিদেশি অপারেটরের হাতে: জাতীয় স্ব

19

সেবা নিতে হয় ঘুষ দিয়ে, মত প্রকাশেও শ্বাসরোধ

20