Insight Desk
প্রকাশ : Nov 20, 2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

বিজয় দিবসে এবারও প্যারেড হবে না: জনমনে নিন্দা ও বিতর্ক, পাকিস্তানের সঙ্গে সুসম্পর্কের প্রভাব?

বিশেষ প্রতিবেদন 

মহান বিজয় দিবস ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। ১৯৭১ সালের দীর্ঘ নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের পর এই দিনে পাকিস্তানি সেনারা ঢাকায় আত্মসমর্পণ করে এবং বাংলাদেশ স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। প্রতিটি বছর এই দিনটি বাঙালির গৌরবময় অর্জন ও আত্মত্যাগের প্রতীক হিসেবে উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে উদযাপিত হয়। সাধারণত শিক্ষার্থী, সামরিক বাহিনী এবং বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান মিলিতভাবে কুচকাওয়াজ, ডিসপ্লে এবং নানা অনুষ্ঠান আয়োজন করে এই দিনটি স্মরণীয় করে।

তবে এবারের বিজয় দিবসেও সামরিক কুচকাওয়াজ বা প্যারেড অনুষ্ঠিত হবে না। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বুধবার (১৯ নভেম্বর) সচিবালয়ে সার্বিক নিরাপত্তা সভার পরে সাংবাদিকদের জানান, “বিজয় দিবস আগে যেভাবে পালন হয়েছে, এবারও একইভাবে হবে। তবে গতবারও প্যারেড হয়নি, এবারও প্যারেড হচ্ছে না। বিজয় দিবস উদযাপন ঘিরে কোনো ধরনের নাশকতার শঙ্কা নেই।”

জনমনে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ ও নিন্দা রয়েছে। সাধারণ মানুষ মনে করছেন, স্বাধীনতা ও বিজয়ের মর্যাদাকে যথাযথভাবে স্মরণ করার অধিকার এবারও পর্যাপ্ত সম্মান পাচ্ছে না। বিশেষ করে, গত দুই বছর ধরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ডক্টর মোঃ ইউনুসের নেতৃত্বে ১৬ ডিসেম্বর কোনো কুচকাওয়াজ বা প্যারেডের আয়োজন হয়নি। এ নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—কি কারণে এত গৌরবময় দিনের পূর্ণাঙ্গ উদযাপন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে?

অনেকে মনে করছেন, এটি বাংলাদেশের পাকিস্তান-প্রীতি সম্পর্কিত নীতি ও কূটনৈতিক স্বার্থের প্রভাব। ধারণা করা হচ্ছে, পাকিস্তানের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার জন্য এবং কোনো অবমাননার আশঙ্কা এড়াতে বিজয় দিবসের পূর্ণাঙ্গ অনুষ্ঠান সীমিত করা হয়েছে। এতে জনগণ মনে করছে যে, দেশের স্বাধীনতা ও বিজয়কে যথাযথভাবে সম্মান দেওয়ার পরিবর্তে কূটনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

গত বছর জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কোনো কুচকাওয়াজ বা ডিসপ্লে অনুষ্ঠিত হয়নি। এর পরিবর্তে আয়োজন করা হয়েছে ‘বিজয় মেলা’। যদিও এটি একটি বিকল্প উদযাপন, তবুও অনেকেই মনে করছেন, এটি মহান বিজয় দিবসের মূল প্রতীক এবং মর্যাদা যথেষ্টভাবে তুলে ধরতে সক্ষম নয়।

এভাবে দেখা যাচ্ছে, এবারের বিজয় দিবস উদযাপনকে ঘিরে কেবল আনুষ্ঠানিকতার বাইরে, জনগণের মধ্যে প্রশ্ন ও উদ্বেগের উদ্রেক হয়েছে। রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট—বিশেষ করে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক—এবারের অনুষ্ঠান সীমাবদ্ধ করার একটি মূল কারণ হিসেবে জনগণ ব্যাখ্যা করছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মব নিয়ে বিএনপির দ্বিচারিতা, থামছে না সন্ত্রাস

1

মব পেল বৈধতা, ইউনূসের নেতৃত্বে রক্তাক্ত বাংলাদেশ

2

মৌসুমী, ফারিয়া ও সাবিলা নূরসহ ২৫ জনের ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ

3

ট্রাম্পের ইসলামবিরোধী নীতি কার্যকরে দেশে আনাগোনা বেড়েছে মার্

4

বাংলাদেশের রঙ্গিন বিপ্লব ও জাতিসংঘের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা

5

জামায়াত নেতাকে নিয়ে সটকে পড়লেন স্বার্থপর ইউনূস, বিপাকে এনসিপ

6

নির্বাচন-পরবর্তী বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে উত্তাল ময়মনসিংহে

7

ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটে প্রথম হওয়া শিক্ষার্থী অনন্য গাঙ্গুলীর মরদেহ

8

কারাগারে চিকিৎসাহীনতায় আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু: রাষ্ট্রীয় নি

9

চট্টগ্রামে বিএনপি-জামায়াতের হামলায় ছাত্রলীগ কর্মী নিহত

10

জেলায় জেলায় বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষ

11

আফগানিস্তানের পথে হাঁটতে চায় মৌলবাদীরা, আফগান অভিজ্ঞতা কাজে

12

জঙ্গিবাদীদের আবাধ দৌরাত্ম; রহস্যজনক প্রশাসনের নীরবতা

13

কোনভাবেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না বিএনপির চাঁদাবাজি, জনবিস্ফোরণের

14

বিচারবিভাগের বৈষম্যঃ একদিনে জামিন বিবি সওদার, এক মাস ধরে কার

15

ভোটার ছিল না ভোটকেন্দ্রে ভোট ছিল গণনার টেবিলে: শেখ হাসিনা

16

আওয়ামী লীগের ১১৫ এমপি-মন্ত্রীকে জেল হত্যার ভয়াবহ ষড়যন্ত্র!

17

সাদাপাথর লুটের আসামি এখন সরকারি সফরের সঙ্গী, বদল কি আসলেই এস

18

দলে ফিরলেন শামীম-নাঈম, ওয়ানডেতে প্রথমবার তানভির

19

নোয়াখালীতে ভোটকেন্দ্র স্কুলে আগুন, শ্রেণিকক্ষ পুড়ে ছাই

20