Insight Desk
প্রকাশ : Sep 8, 2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

আমেরিকার খায়েশ মেটাতে বলির পাঁঠা বানানো হচ্ছে বাংলাদেশি সেনাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক

ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে একটি বাফার জোন বা নিরপেক্ষ অঞ্চল পর্যবেক্ষণে নেতৃত্ব দিতে পারে আমেরিকা। আর সেখানে বাংলাদেশ থেকে সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে দেশটি। বিশ্লেষকেরা বলছেন, যুদ্ধে ইউক্রেনের কাছে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে আমেরিকাসহ পশ্চিমা সমর্থিত ইউক্রেনীয় বাহিনী। তাই সেখানে ন্যাটোভুক্ত দেশের সেনা বা আমেরিকান সেনা পাঠানোর ঝুঁকি নেবেন না ট্রাম্প প্রশাসন। বরং বাংলাদেশের সেনা পাঠালে ক্ষয়ক্ষতি হলে এতে পশ্চিমাদের গায়ে লাগবে না। 

ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চল লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা শুরু করেছে রাশিয়া। এ হামলায় প্রথমবারের মতো রোববার ( ৭ সেপ্টেম্বর) দেশটির মন্ত্রিসভার ভবনকে টার্গেট করেছে রুশ সেনারা। ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনী জানিয়েছে, এই হামলায় আটশরও বেশি ড্রোন ও মিসাইল ব্যবহার করা হয়েছে। যা একদিনে সর্বোচ্চ ড্রোন দিয়ে হামলার রেকর্ড।

এখন পর্যন্ত যুদ্ধবন্ধে একমত হতে পারেনি ইউক্রেন ও রাশিয়া। ক্ষমতা নেওয়ার পর এই যুদ্ধবন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েই যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দুই পক্ষকেই মানাতে নানা ধরনের কৌশল প্রয়োগ করছেন। এদিকে ইউরোপের দেশগুলোও জানিয়ে রেখেছে, ২৬টি দেশ ইউক্রেনে সেনা মোতায়েন করতে চায়। এ অবস্থায় সেখানে বাংলাদেশি সেনা মোতায়েন হলে তারা ঝুঁকিতে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

এদিকে বাংলাদেশ থেকে সেনা মোতায়েনের এখতিয়ার রয়েছে জাতিসংঘের। সেখানে আমেরিকার এ ধরনের ভাবনা দেশের সার্বভৌমত্বের জন্যও হুমকির বলে মনে করা হচ্ছে। বাংলাদেশ নিয়ে এখন আমেরিকার ষড়যন্ত্র স্পষ্ট। মিয়ানমারে চীন-সমর্থিত গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্পের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কৌশলগত অবস্থান নিতে সক্রিয় হয়েছে। রোহিঙ্গা সংকট, মানবিক করিডোর, চট্টগ্রাম বন্দর এবং সেন্টমার্টিন্সে নৌঘাঁটি—সব মিলে এই অঞ্চলটি চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।

এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে একটি “খ্রিস্টান রাজ্য” গঠনের ষড়যন্ত্রের আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন অনেকে, যা পূর্ব তিমুরের ঘটনার সাথে তুলনা করা হচ্ছে। আর এটিকে সমর্থন দিচ্ছে জাতিসংঘ। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর আগেও সতর্ক করে বলেছিলেন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের কিছু অংশ নিয়ে এমন একটি রাষ্ট্র গঠনের ষড়যন্ত্র চলছে এবং এ সংক্রান্ত প্রস্তাবনা বাংলাদেশে একটি এয়ার বেজ স্থাপনের মাধ্যমেও এসেছে।

একাধিক সূত্র ও বিশ্লেষকের মতে, নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে এই ষড়যন্ত্রে “প্রক্সি নেতা” হিসেবে ব্যবহার করছে মার্কিন প্রশাসন। তাদের দাবি, ইউনূসকে জাতিসংঘ মহাসচিব করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পশ্চিমা স্বার্থ রক্ষায় ব্যবহৃত হচ্ছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মিয়ানমারের বিদ্রোহীদের সহায়তা, চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পে বাধা এবং বাংলাদেশে অস্থিরতা সৃষ্টির মতো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

রাজনীতি ও কৌশল বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “যদি বাংলাদেশি সেনারা এমন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মোতায়েন হয়, তা শুধুমাত্র দেশের নিরাপত্তার জন্য নয়, বরং আন্তর্জাতিক কৌশলগত চাপেরও শিকার হবে। এটি বাংলাদেশকে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে ন্যূনতম স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করতে পারে।


মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জঙ্গিবাদের উত্থানে দেশে বেড়েছে সংখ্যালঘু নির্যাতন

1

ভিত্তিহীন অভিযোগে হয়রানি: ইউনূস ও দুদকের বিরুদ্ধে টিউলিপের

2

ইউনূসের বাংলাদেশে নিরাপত্তাহীন সড়ক: যমুনা সেতু পশ্চিমে রামদা

3

বরিশাল আইনজীবী সমিতির সভাপতি লিংকন গ্রেপ্তার, কারাগারে প্রের

4

মুক্তিযুদ্ধের বাংলায় মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের কোনো স্থান নেই

5

অতিরিক্ত সচিব পদোন্নতিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, তালিকায় প্রেস

6

খলিল-তারেকের গোপন বৈঠক: করিডোর ইস্যুর আড়ালে দেশ ধ্বংসের নীলন

7

ন্যায়বিচারের ধ্বংসলীলা: ইউনূসের নির্দেশে দেশে বইছে ভুয়া মা

8

ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অর্থনীতি স্থবির, বেকারত্ব ও দারিদ্র্যের

9

সরকারের ছত্রছায়ায় জামায়াত-এনসিপি, নির্বাচন নিয়ে ঘুমপাড়ানি গল

10

ইউনুস সরকারের ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র: শিক্ষক আন্দোলন ঠেকাতে চট্টগ্র

11

ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা

12

ভোলায় ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোট দেওয়া পাওয়া গেল—ভোটারের অভি

13

বাংলাদেশ-আমেরিকা মহড়া: শেখ হাসিনার সেই শঙ্কা কি এখন বাস্তব?

14

অর্থনীতির স্থবিরতায় বেকারত্ব বেড়েছে: নতুন বিনিয়োগ ও দক্ষ মান

15

অক্টোবরে ২৩১ নারী ও কন্যাশিশু সহিংসতার শিকার: উদ্বেগজনক চিত্

16

জুলাই আন্দোলনে প্রতারিত হয়েছে জনগণ, মুখ খুলছে আন্দোলনকারীরা

17

এইচএসসি পরীক্ষা পেছানোর দাবিতে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের সামনে

18

মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে আপোষহীন বিভুরঞ্জনকে নাজেহাল হতে হয়েছে

19

জুলাইকে ব্যবহার করে বাংলাদেশকে লুটে খাচ্ছে ইউনূস ও সমন্বয়কের

20