Insight Desk
প্রকাশ : May 23, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

একের পর এক শিশু হত্যা-ধর্ষণ, এবার মুখ খুললেন প্রগতিশীল শিক্ষকরা

দেশজুড়ে শিশু ধর্ষণ, নির্যাতন ও নৃশংস হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ।

২১ মে ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে, বাংলাদেশ আজ শিশুদের জন্য ভয়াবহ অনিরাপদ এক ভূখণ্ডে পরিণত হয়েছে। রাষ্ট্রের ব্যর্থতা, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি শিশুদের জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মাহবুব আলম প্রদীপ।

শিক্ষক সমাজ বলেছে, সাম্প্রতিক সময়ে হামে আক্রান্ত হয়ে শত শত শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় দেশ যখন শোকাহত, তখন কার্যকর জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করতেও সরকারের ব্যর্থতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

বিবৃতিতে সাম্প্রতিক কয়েকটি আলোচিত নৃশংস ঘটনার উল্লেখ করা হয়। রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যা, সিলেটে শিশু ফাহিমা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা, ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে শিশু লামিয়া আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা এবং মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে ১০ বছর বয়সী আছিয়া আক্তাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা তুলে ধরা হয়।

এছাড়া সিলেটের জকিগঞ্জে শিশু তাহসিনকে দীর্ঘ নয় মাস বাসায় আটকে রেখে নির্যাতন এবং ঢাকার বনশ্রীতে মাদ্রাসার বাথরুমে শিশু আব্দুল্লাহর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, এসব ঘটনা প্রমাণ করে রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থা শিশুদের নিরাপত্তা দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।

শিক্ষক সমাজের দাবি, এসব নৃশংসতা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং গত ২০ মাসের দায়মুক্তি, মব সন্ত্রাস, সামাজিক অবক্ষয় এবং প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার ফল।

বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে হত্যা, ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, সংখ্যালঘু নির্যাতন ও শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে, যা আইনের শাসন ও সামাজিক স্থিতিশীলতাকে দুর্বল করে দিয়েছে।

সংগঠনটি শিশু হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচার এবং সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

বিবৃতির শেষাংশে দেশের সচেতন নাগরিক, মানবাধিকার সংগঠন ও গণতান্ত্রিক শক্তিকে শিশুদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জামায়াতের নারী-বিদ্বেষ বিতর্কে ফের ‘হ্যাক’ নাটক

1

গোপালগঞ্জে সহিংসতার ঘটনায় গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে

2

রামিসার রক্তে ক্ষুব্ধ দেশ, দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাইলেন মাশরাফ

3

ধর্ম ব্যবসা থেকে ভোট ব্যবসা, জামায়াতে ইসলামীর আদর্শিক পতনের

4

পুলিশ কন্ট্রোলরুমে বসে হত্যার নির্দেশ দিচ্ছিলেন আসিফ মাহমুদ

5

কর্মজীবী নারীদের পতিতাদের সঙ্গে তুলনা: জামায়াতের বক্তব্যে ফু

6

মব উস্কে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের চেষ্টায় ইউনূস গং

7

ডিএমপি কমিশনার ফের প্রমাণ করলেন, জঙ্গিদের মদদেই ক্ষমতায় ইউনূ

8

ইউনুসের গাফেলতি ঢাকতে হামে মৃত শিশুদের লাশের ওপর বিএনপি-জামা

9

নির্বাচন ঘিরে গভীর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ: প্রশাসন, ভোটকেন্দ্র ও

10

বিএনপির মন্ত্রী: ড. খলিলুর রহমানকে ঘিরে নতুন বিতর্ক

11

রায়পুরে বিএনপি নেতার বাড়ি থেকে রাইফেল উদ্ধার: নাশকতার প্রস্ত

12

সাংবাদিকদের সঙ্গে অভদ্র আচরণে সমালোচনার মুখে ডাকসু নেত্রী রা

13

সেনাবাহিনীকে দুর্বল করতে ইউনূস ব্রিগেডের নীলনকশা

14

জেলায় জেলায় বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষ

15

মন্দির অপসারণ না হলে ভেঙে ফেলার হুমকি মুসল্লীদের

16

কাশিমপুরে বন্দিদের খাবারে বিষ মেশানোর অভিযোগ, ভিন্নমত দমনের

17

শ্রমিকের পেটে লাথি মারতে দৃশ্যপটে আবারও হাজির বিএনপি-জামাত গ

18

সময় ফুরিয়ে আসছে সরকারের, আরও বেপোরোয়া হয়ে উঠছে এনসিপি

19

বাংলাদেশের রঙ্গিন বিপ্লব ও জাতিসংঘের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা

20